বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হঠাৎ জেমি ডেকে সরিয়ে আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছে বাফুফে। এমন কিছু কখনো ভেবেছিলেন?

ব্রুজোন: না, কখনোই ভাবিনি এমন কিছু হবে। তবে মানুষের জীবনে অপ্রত্যাশিত অনেক কিছুই ঘটে। আমি সেভাবেই বিষয়টা দেখেছি। প্রথমে ভাবছিলাম, এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সময় অল্প। তবু ভেবেছি, দেখি না চেষ্টা করে।

default-image

বাংলাদেশের ফুটবলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মানে নিজেদের প্রমাণের শ্রেষ্ঠ মঞ্চ। কিন্তু চারটি সাফে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি...

ব্রুজোন: আমি মনে করি বাংলাদেশের আরও ভালো করার ক্ষমতা আছে। সেই বিশ্বাস আছে বলেই হঠাৎ দায়িত্বটা নিয়ে নিয়েছি। এখন সাফে ভালো ফুটবল খেলতে হবে। সুযোগ তৈরি করে গোল করতে হবে। লক্ষ্য অবিচল থাকলে আশা করি আমরা ভালো করব।

default-image

ভালো মানে কী? কী ধরনের ফল আশা করা যায়?

ব্রুজোন: অন্তত ফাইনাল খেলতে চাই। আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে তো কথাই নেই।

default-image

কিন্তু আপনি কোনো জাতীয় দলের দায়িত্বে এই প্রথম। সাফের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আপনাকে পিছিয়ে রাখবে মনে করেন?

ব্রুজোন: হ্যাঁ, জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমি অনভিজ্ঞ ঠিকই। তবে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সবাইকে আমি চিনি, জানি। বাংলাদেশের এই সাফ দলের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি খেলোয়াড় বসুন্ধরা কিংসে আমার অধীনে খেলে। এই খেলোয়াড়দের নিয়েই ২০১৮ থেকে আমি বসুন্ধরাকে টানা ৫টি শিরোপা এনে দিয়েছি। কাজেই সাফে কী করতে হবে আমার জানা আছে।

default-image

ক্লাবের খেলায় তো আপনার হাতে উঁচু মানের বিদেশি খেলোয়াড়ও থাকে। এবার পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রবসন, জোনাথন, আর্জেন্টাইন রাউল বেসেরা, ইরানি খালিদদের মতো খেলোয়াড়। এই মানের খেলোয়াড় বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেই। সাফল্য পাওয়া কঠিন মনে হচ্ছে না?

ব্রুজোন: (হাসি) মনে রাখবেন, প্রতিপক্ষ দলগুলোতেও কোনো বিদেশি নেই। তবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের ফুটবলাররা আরও ভালো কিছু দিতে পারে। সামর্থ্যের সেরাটা আদায় করতে হবে ওদের কাছ থেকে।

সাফে এবার ভুটান ও পাকিস্তান নেই। ৫ দল লিগ ভিত্তিতে খেলবে। সব দলই অন্তত ৪টি করে ম্যাচ পাচ্ছে। কোন ম্যাচটা বেশি কঠিন হতে পারে?

ব্রুজোন: ৪টি নয়, আশা করি ফাইনালসহ আমরা ৫টি ম্যাচ খেলব। এর মধ্যে নিঃসন্দেহে ভারত ম্যাচটা আমাদের জন্য বেশি কঠিন। মালদ্বীপ, নেপালও কম নয়। তবে আমি ১ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটাকেই আপাতত সবচেয়ে কঠিন ভাবছি। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।

default-image

ফাইনালে যাওয়ার আশা যেহেতু করছেন, সেখানে প্রতিপক্ষে হিসেবে কাদের পেলে খুশি হবেন?

ব্রুজোন: ফাইনালে অবশ্যই বাংলাদেশকে চাই, অন্য দলটি কারা, সেটাই প্রশ্ন। আমি ভারত ও মালদ্বীপের ক্লাব ফুটবলে কাজ করেছি। তবে দিন শেষে চাইব বাংলাদেশ–মালদ্বীপ ফাইনাল হোক। মালদ্বীপ স্বাগতিক এবং অন্যতম ফেবারিট।

জেমি ডের অধীনে বাংলাদেশ রক্ষণ সামলে প্রতি–আক্রমণনির্ভর ফুটবলই বেশি খেলেছে। আপনি আবার আক্রমণাত্মক ফুটবল পছন্দ করেন। ভালো বিদেশি থাকায় ক্লাবে ফলও পেয়েছেন। সাফে কেমন ফুটবল খেলবে আপনার দল?

ব্রুজোন: প্রতিপক্ষ বুঝে কৌশল ঠিক করব। তবে সাধারণভাবে বলতে পারি, জিততে হলে গোল চাই। আক্রমণে বেশি বেশি যেতে হবে। সেদিকে বাড়তি মনোযোগ রাখব।

কিন্তু গোল করবে কে? আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র না আসায় সাফে পাওয়া গেল না এলিটা কিংসলিকেও...

ব্রুজোন: এলিটা থাকলে ভালো হতো ঠিক। এখন মতিন, সুফিল, বিপলুদের দায়িত্ব নিতে হবে। ওরা নিজেদের কাজটা ভালোভাবে করতে পারলে গোল আসবে। আমি গোলের জন্য এককভাবে কোনো খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করছি না। গোল যে কেউ করতে পারে।

সাফে এবার ভালো না করলে বাংলাদেশের ফুটবলে আরও হতাশা নেমে আসবে। কী বার্তা দেবেন দেশের ফুটবল সমর্থকদের?

ব্রুজোন: আমি জাদুকর নই যে রাতারাতি কিছু করে ফেলব। তবে চেষ্টা করব আস্থার প্রতিদান দিতে। সমর্থকদের বলব, পাশে থাকুন। তবে আমরা হতাশ করব না। এটা অন্তত দেখাতে চাই ফিফার তালিকায় বাংলাদেশ ১৮৯–এ থাকার মতো দল নয়।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন