বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আপনার হাত ধরে ১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ। কৌশলগতভাবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?

প্রথম লক্ষ্য ছিল মাঝমাঠে আমাদের অর্ধে ওদের খেলতে দেওয়া যাবে না। মাঝমাঠ থেকে ওরা যেন স্বচ্ছন্দে আলী আশফাক বা আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়দের বলটা দিতে না পারে। ওদের বাতাসে লম্বা পাসে খেলতে বাধ্য করব আমরা।

মালদ্বীপ কিন্তু কাল নিজেদের মতো করে আমাদের অর্ধে বল দখলে রাখতে পারেনি। আমি মনে করতে পারছি না, তারা গোলের সুযোগও সেভাবে তৈরি করতে পেরেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতি আক্রমণে ওঠা। সেটা যে আমরা ভালো করতে পেরেছি, তা বলব না। দ্বিতীয়ার্ধে নিচ থেকেও পাস খেলে ভালোভাবে ওপরে উঠতে পারিনি। কিন্তু মালদ্বীপকে আমাদের অর্ধে বল দখলে রেখে খেলতে না দেওয়ার কৌশলে আমরা সফল হয়েছি। এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই তাহলে একাদশে ৩ জন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রেখেছিলেন?

তিন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দিয়ে মাঝমাঠে আমি এমন বাড়তি ডিফেন্ডিং লাইন তৈরি করেছিলাম। অনেক সময় আক্রমণে গিয়ে রাকিব (হোসেন), (মোহাম্মদ) ইব্রাহিম ঠিকমতো নিচে নেমে আসতে পারে না। বল হারালে তখন যেন জামাল (ভূঁইয়া), ফাহাদ (আতিকুর রহমান) বা (মোহাম্মদ) হৃদয় ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারে। তারা তিনজন একসঙ্গে খেলায় মালদ্বীপের মিডফিল্ডাররা আমাদের অর্ধে সেভাবে খেলতে পারেনি। তিনজনের শৃঙ্খলা ভালো ছিল। একজন বল দখলের লড়াইয়ে গেলে আরেকজন তার পেছনে এসে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলা ঠিক রেখেছে। আমি বলব না, তারা কখনো ভেঙে পড়েনি। ক্লান্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ভুল হয়েছে। তবে কখনোই দলকে বিপদে পড়তে দেয়নি।

default-image

তাঁদের জন্য রক্ষণভাগের ওপর চাপ কম পড়েছে ঠিকই। কিন্তু কালও তো রক্ষণভাগের দোষেই গোলটা খেতে হলো!

এটা মনোযোগের অভাবে হয়। কাল প্রথমে গোল করে আবার বাজে গোল খেয়ে যাই। আমি মধ্যাহ্ন বিরতিতে ডিফেন্ডারদের বললাম, ‘তোমরা মুখে বলো, আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। কিন্তু এভাবে প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দিলে সেটা সম্ভব নয়। তোমরা যদি এভাবে গোল খাও, তাহলে কখনো বোলো না, আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এটা পেশাদার খেলোয়াড়দের কাজ নয়।’

সব ম্যাচে সব সময়ই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। আশার কথা হলো, সেশেলসের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা যে ভুলগুলো করেছিলাম, সেটা কাল হয়নি। বোঝা গিয়েছে, আপ্রাণ চেষ্টা করেছে তারা। মনে হয়েছে, জেতার জন্য যেকোনো কিছু করতে তারা রাজি। এমনকি মরে যেতেও। এটাই ফুটবল। সহজে বা আরামে কিছু অর্জন করা যায় না।

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছেন অথচ গোল পোস্টে কোনো শটই নিতে পারলেন না আলী আশফাক। তাঁকে ঠেকাতে মিডফিল্ডার আতিকুর রহমানকে দিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করেছিলেন?

দেখুন, আশফাকের গতি কমে গিয়েছে। সুতরাং সে বল নিয়ে গতিতে বের হয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু মাঠে তার ভিশনটা পরিষ্কার। বল পায়ে ভয়ংকর। সে ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের মাঝে বল পেলে উইঙ্গারদের দিয়ে গোল করার মতো রাস্তা তৈরি করে দেবে। সে জায়গাটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। সে ক্ষেত্রে সেন্টারব্যাকরা তাকে মার্ক করেছে। স্বাভাবিকভাবে তখন সে একটু নিচে নেমে আসবে। সে ক্ষেত্রে ফাহাদকে (আতিকুর রহমান) দিয়ে আমার বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। নিচে নামলেই ফাহাদ তাকে ট্যাকল করেছে। তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ফাহাদের প্রতি আমার নির্দেশনা ছিল, বল নিয়ে যেন আমাদের গোলপোস্টের দিকে ঘুরতে না পারেন। ফাহাদ ছিল আমাদের মাঝমাঠের মেরুদণ্ড।

default-image

একটা বিষয় অবাক করেছে, আক্রমণে ওঠার জন্য বাঁ প্রান্তে রাকিবকেই সব বল দেওয়া হচ্ছে। আক্রমণে যাওয়ার জন্য এটা কি আদর্শ কৌশল হতে পারে?

আমি আপনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত। প্রথমার্ধে রাকিবকে দিয়ে বেশি আক্রমণ করাতে গিয়ে তার ওপর বেশি চাপ পড়ে গিয়েছে। বল পেলেই শুধু রাকিব, রাকিব, রাকিব। সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকলে কার্ড দেখতে পারত। তাই আমি তাকে তুলে নেই। অথচ ইব্রাহিম বলই পাচ্ছিল না। আমি চাই, আক্রমণে সবার অংশগ্রহণ থাকুক। এতে সবাই সতেজও থাকবে।

খেলোয়াড়েরা বলছেন, মাঠ ভারী থাকায় তাঁরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন! সে ক্ষেত্রে বদলি খেলোয়াড়ের বিষয়টি তো সব সময় আপনাকে মাথায় রাখতে হচ্ছে!

রাকিব নিজেও এ সমস্যার কথা আমাকে বলেছে। আমার হাতে কিছু বিকল্পও আছে। ফাহিম (ফয়সাল আহমেদ), জুয়েল, নবাব (ওবায়দুর রহমান), রয়েল (মেহেদী হাসান), সুফিল (মাহবুবুর রহমান)। আসলে কাকে কখন নামাব, এটা নির্ভর করছে খেলার ধরনের ওপর। দলের প্রয়োজনে কাল তো বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফাহিমের অভিষেকও হয়ে গেল।

default-image

ফাহিমকে কেমন দেখলেন?

ফাহিম সাহসী খেলোয়াড়। কখনো বল না নেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের পেছনে লুকায় না। সে কোনো কিছুই ভয় পায় না। বাংলাদেশকে তার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। অনেকেই বলেন, আমি তাকে বা নওয়াবকে (ওবায়দুর রহমান) কেন খেলাই না। দেখুন, ফাহিমের বয়স কম। আমি আবারও বলছি, তাকে সময় দিতে হবে। মালদ্বীপের মতো দলের বিপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলা সহজ কাজ নয়। সে যতক্ষণ মাঠে ছিল, কিছু না কিছু করার চেষ্টা করেছে।

ওবায়দুরের প্রসঙ্গ এল। এই টুর্নামেন্টে তাঁর অভিষেক হওয়ার সুযোগ আছে?

সে সাফে বা অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও ছিল না। স্বাভাবিকভাবে দলের অন্য খেলোয়াড়দের তুলনায় ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতি আছে। তবে তার মধ্যে সম্ভাবনা আছে বলেই আমি দলে নিয়েছি। সে এখনই ৯০ মিনিট খেলার মতো অবস্থায় নেই। হয়তো পরবর্তী ম্যাচেই আমি তাকে ১৫-২০ মিনিট দেখতে পারি। সে ম্যাচ খেলার খুব কাছাকাছি আছে।

মঙ্গলবার শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র করলেও ফাইনাল নিশ্চিত। ম্যাচে লক্ষ্যটা কী থাকবে?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি খুব কঠিন হবে। তারা নিজেদের সমর্থকের সামনে খেলবেন, নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতবে।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন