বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোচ আপনি সরিয়ে দিতেই পারেন। কিন্তু সেটা সাফের মতো টুর্নামেন্টের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কেন? অনেকেই এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত এবং বাফুফেকে অপেশাদার বলছেন।

সালাউদ্দিন: আমরা জেনেবুঝেই এটা করেছি। আমি বাংলাদেশ দলের সর্বশেষ সাতটি ম্যাচ দেখে মোটেও সন্তুষ্ট নই। কদিন আগে কিরগিজস্তানে জাতীয় দলের খেলা দেখতে গিয়েছি। সেখানে কোচ ছক বদলে করল ৩-৪-৩। অথচ সে অনুযায়ী তার দল খেলতেই পারেনি। খেলা আমিও বুঝি। আমিও কোচ ছিলাম। জেমির অধীন দলের খেলা দেখে ভীষণ হতাশ হয়েছি। এভাবে চললে এই দল সাফে তলানিতে থেকে শেষ করবে। কিন্তু আমি সেটা হতে দিতে পারি না।

default-image

এত অসন্তুষ্টির পরও তাহলে এত দিন রাখলেন কেন?

সালাউদ্দিন: আমি তাকে সময় দিয়েছি। কিন্তু সে পারেনি। প্রতি ম্যাচে সে খেলোয়াড় বদল করে। কোনো স্থিরতা নেই। আজ একে খেলাচ্ছে, কাল ওকে। আর সব সময় তরুণদের দেখে। সেটারও একটা সীমা আছে। কোচ এক বছর পরীক্ষা করতে পারে, তিন বছর ধরেই পরীক্ষা চলতে পারে না। সর্বশেষ বিদেশি দুটি ছেলেকে কেন আনল দলে? ওদের খেলা দেখেছে? না দেখেই কেন আনা? এটা তো মগের মুল্লুক নয় যে কোচ যা ইচ্ছা, তা–ই করবে। কোচের কোনো জবাবদিহি নেই। তার স্বেচ্ছাচারিতা মানা যায় না।

প্রথম লক্ষ্য–––অন্তত সাফের ফাইনাল খেলা। এই টিম নিয়ে ঠিকমতো কাজ করলে সাফে সেটা সম্ভব। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে খুবই ভালো। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যও সেটাই। আমি মনে করি অস্কার ব্রুজোন ভালো কোচ। তার ওপর আমাদের আস্থা আছে।
কাজী সালাউদ্দিন, অস্কার ব্রুজোন সম্পর্কে

বাংলাদেশে ভালো মানের ফুটবলার নেই। সেই প্রক্রিয়ার ভেতর বাফুফে এত বছরেও ক্লাবগুলোকে আনতে পারেনি। তাহলে সব দোষ কোচের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন কেন?

সালাউদ্দিন: দেখুন, সে লিগের খেলা ঠিকমতো দেখে না। নিজের দেশে গিয়ে বসে থাকে। অথচ টিভি ইন্টারভিউতে বলে, ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত সময় নেই। তার খেলোয়াড় নির্বাচন এবং দল পরিচালনা প্রশ্নবিদ্ধ। দলের প্রতি এসব তার চূড়ান্ত গাফিলতি। কোনো হোমওয়ার্ক করে না। তার ভুলের মাশুল দিয়েছি আমরা নেপালে, সেখানে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে। সেদিন তার দল নির্বাচন ঠিক হয়নি। তা ছাড়া সে অনুশীলনও করাতে চায় না।

default-image

সেই সুযোগ বাফুফেই তাঁকে দিয়েছে। বাফুফে ঘরোয়া কোনো সূচিই ঠিক রাখতে পারে না। ফলে প্রশিক্ষণের সময়ও সেভাবে পান না কোচ। এখানে তাঁর কী ভূমিকা?

সালাউদ্দিন: জেমি আমাকে চিঠি দেয়, সাত দিন অনুশীলন হলেই নাকি চলবে। এটা কোনো কথা! একজন কোচ বলে অনুশীলনের দরকার নেই!

এগুলো হঠাৎ আবিষ্কৃত হলো? বাফুফেই জেমিকে বারবার ছুটি দিয়েছে। এখন তাঁকে ওএসডি করে রাখা হলো। এতে দেশে অর্থ অপচয় হবে না?

সালাউদ্দিন: সবই মানলাম। কিন্তু আমাকে চেষ্টা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, নতুন কোচের অধীন এই দলের উন্নতি হবে। এরা আরও ভালো খেলার সামর্থ্য রাখে।

default-image

প্রশ্ন আসে, কোচের কাজে এত অসন্তুষ্ট হলে আরও আগে কেন বদল করেননি?

সালাউদ্দিন: দেড় বছর ধরেই করোনা। এই সময়ে কোচ পাব কোথায়? সবকিছু খুলেছে মাত্র।

জেমিকে সরাসরি বরখাস্ত করলে বাড়তি অনেক টাকা দিতে হবে। এ কারণেই কি তাঁকে কৌশলে রেখে দেওয়া হলো, যাতে কোচ নিজেই চলে যান?

সালাউদ্দিন: বিষয়টা তা নয়। সমস্যা হলো, চাইলেই এখন নতুন কোচ আনা সম্ভব নয়। তাই অস্কার ব্রুজোনকে বেছে নেওয়া। সে ঢাকায় তিন বছর ধরে আছে। এখানে অনেক সাফল্য পেয়েছে। সব খেলোয়াড়কে চেনে। আজ (কাল) অস্কারের সঙ্গে কথা বলেছি দুই ঘণ্টা।

একটা ক্রান্তিকাল চলছে স্বীকার করতে হবে। আমাদের সাফল্য দরকার। তাই আমি মনে করি, কখনো হাল ছাড়তে নেই। আমি কখনো মরার আগে মরতে রাজি নই। আমি ৯০ মিনিট খেলা ছেলে
কাজী সালাউদ্দিন

জেমির ভবিষ্যৎ কী তাহলে? তাঁর অধ্যায়ও শেষ?

সালাউদ্দিন: এটা এখনই বলা কঠিন। আরও প্রায় এক বছর চুক্তি আছে। হুট করে বাদ দেওয়া কঠিন। আসলে তার সঙ্গে আমাদের চুক্তিটাই ঠিক হয়নি।

২০১৫ কেরালা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগেও ইতালিয়ান কোচ ফাবিও লোপেজকে বাদ দিয়ে মারুফুল হককে দায়িত্ব দেন। ফল সেই শূন্যই। এখনো একই ঘটনা ঘটবে না, নিশ্চয়তা কী?

সালাউদ্দিন: আমি আশাবাদী, এই দলই আরও ৫০ ভাগ ভালো খেলবে। অথচ জেমি ও সহকারী স্টুয়ার্ট গত মার্চে নেপালে খেলা শেষে ফিরে আমাকে বলেছিল, এই দলের ১ পার্সেন্টের বেশি উন্নতি হবে না। এখন যে ফল করছে, এমনটাই হবে। সেটিই যদি হয়, তাহলে কোচের দরকার কী!

দেশে খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। আন্তজাতিক মানের খেলোয়াড় নেই। একটা পূর্ণাঙ্গ একাডেমি পর্যন্ত নেই দেশে। হোসে মরিনহোর মতো কোচ এনেও কী কোনো লাভ হবে?

সালাউদ্দিন: লাভ ক্ষতি কী হবে সেটা পরের কথা। তবে আমাদের বসে থাকলে চলবে ন। যে কোচ ( জেমি) বলে এই দলের এক পার্সেন্টেরও বেশি উন্নতি হবে না, তার ওপর ভরসা রাখা যায় না। কোচ আগেই হেরে বসে আছে।

কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, একেবারে শেষ সময়ে কেন কোচ বদল দরকার মনে হলো?

সালাউদ্দিন: আসলে একটা ক্রান্তিকাল চলছে স্বীকার করতে হবে। আমাদের সাফল্য দরকার। তাই আমি মনে করি, কখনো হাল ছাড়তে নেই। আমি কখনো মরার আগে মরতে রাজি নই। আমি ৯০ মিনিট খেলা ছেলে।

অনেকেই এই সময়ে কোচ বদলের ধরণ নিয়ে সমালোচনা করছেন। অনেক বলছেন, জেমি থেকেও নেই। এটা হাস্যকর। তা নতুন কোচের কাছে কী চাইছেন?

সালাউদ্দিন: প্রথম লক্ষ্য–––অন্তত সাফের ফাইনাল খেলা। এই টিম নিয়ে ঠিকমতো কাজ করলে সাফে সেটা সম্ভব। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে খুবই ভালো। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যও সেটাই। আমি মনে করি অস্কার ব্রুজোন ভালো কোচ। তার ওপর আমাদের আস্থা আছে।

জেমি বলেছেন, বাফুফে তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তিনি অবাক। কী বলবেন?

সালাউদ্দিন: কোচ এটা বলার কে? কেন বলবে? আমার চাকুরে সে, আমি তার ব্যাপারে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারি। আলোচনা করতে হবে কেন? আর সে আমাকে কী পেশাদারি শেখাবে? ৪৫ বছর আগে আমি হংকংয়ে পেশাদার লিগ খেলে এসেছি, যখন এশিয়ার আর কোনো দেশের পেশাদার ফুটবল চালু হয়নি। সারা দুনিয়ায় কোচ বদল হয়। এতে অবাক হওয়ার কি আছে। ডাগআউট থেকে কোচ বিদায় হয়ে যায়।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন