default-image
১ এপ্রিল গেমস উদ্বোধনের পর ৫ এপ্রিল শুরু হয় লকডাউন। সেই লকডাউনের মধ্যেই শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস। শনিবার শেষ হওয়া গেমসের সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে খুশি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সৈয়দ শাহেদ রেজা। কাল প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি—

সামগ্রিকভাবে কেমন হলো এবারের বাংলাদেশ গেমস?

সৈয়দ শাহেদ রেজা: খুবই ভালো। সংবাদমাধ্যম, অ্যাথলেট, মেডিকেল কমিটি, ফেডারেশন, প্রশাসন সবার সহযোগিতায় ভালোভাবে গেমস হয়েছে। কোথাও সমস্যা হয়নি। গত বছর করোনার কারণে গেমসটা করা যায়নি। এক বছর পর হলেও সুন্দরভাবে করতে পেরেছি। আমি খুব খুশি।

৫ হাজার ৩০০ খেলোয়াড়, কোচ-সংগঠকসহ আট থেকে সাড়ে আট হাজার লোক এই গেমসে অংশ নিয়েছে। বুঝতেই পারছেন বিশাল একটা আয়োজন। এখানে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। তবে খেলার সময় কারও করোনা ধরা পড়েনি। এটা বিরাট স্বস্তি আমাদের জন্য।
সৈয়দ শাহেদ রেজা, বিওএ মহাসচিব

কিন্তু অনেক খেলাই তো তড়িঘড়ি শেষ করা হয়েছে। এতে খেলার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের...

শাহেদ রেজা: মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তাঁর সঙ্গে আমি একমত নই। বাস্তবতা বুঝতে হবে। লকডাউন ঘোষণার পর কয়েকটি ফেডারেশন তড়িঘড়ি কিছু খেলা শেষ করেছে। পরিস্থিতির কারণেই এটা হয়েছে। তবে লকডাউনেও খেলা চলবে সরকারের সিদ্ধান্তের পর সবকিছু সূচি মেনেই এগিয়েছে। খেলার মানও ভালো ছিল। আর মান খারাপ হলে গেমসে এত রেকর্ড কীভাবে হলো? অনেক নতুন খেলোয়াড় এসেছেন। অনেক তারকা খেলোয়াড়কে হারিয়ে নবীনেরা চমক দেখিয়েছেন। মান খারাপ হলে গেমস সফল হতো না।

default-image

বিভিন্ন ভেন্যুতে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছে কমই। আয়োজক সংস্থা বিওএকে কঠোর হতে দেখা যায়নি। ঢিলেঢালা ছিল অনেক কিছু...

শাহেদ রেজা: কথাটার সঙ্গে আমি একমত নই। মেডিকেল কমিটি সবকিছু দেখেছে। কেউ জেনেবুঝেও মাস্ক না পরলে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কী করার আছে। এরপরও আমরা কঠোর ছিলাম। সবচেয়ে আনন্দের কথা, গেমসে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, যা অনেক বড় প্রাপ্তি। ৫ হাজার ৩০০ খেলোয়াড়, কোচ-সংগঠকসহ আট থেকে সাড়ে আট হাজার লোক এই গেমসে অংশ নিয়েছে। বুঝতেই পারছেন বিশাল একটা আয়োজন। এখানে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। তবে খেলার সময় কারও করোনা ধরা পড়েনি। এটা বিরাট স্বস্তি আমাদের জন্য।

default-image
গোটা পৃথিবীই এখন দর্শকবিহীন খেলা আয়োজনের পথে। সামনে অলিম্পিক গেমসও দর্শকবিহীন হওয়ার কথা শুনতে পাচ্ছি। তবে আমাদের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে। বাসায় বসে মানুষ খেলাটা উপভোগ করতে পেরেছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল খেলা আয়োজন করা। সেটা আমরা করেছি। হ্যাঁ, করোনা একটা বড় বাধা ছিল মানতেই হবে।
সৈয়দ শাহেদ রেজা

করোনার কারণে এবার গেমসের উৎসবের আমেজটা পাওয়া গেল না...

শাহেদ রেজা: দেখুন, গোটা পৃথিবীই এখন দর্শকবিহীন খেলা আয়োজনের পথে। সামনে অলিম্পিক গেমসও দর্শকবিহীন হওয়ার কথা শুনতে পাচ্ছি। তবে আমাদের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে। বাসায় বসে মানুষ খেলাটা উপভোগ করতে পেরেছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল খেলা আয়োজন করা। সেটা আমরা করেছি। হ্যাঁ, করোনা একটা বড় বাধা ছিল মানতেই হবে।

কেউ কেউ বলেন, করোনার এই সময়ে গেমস আয়োজন না করে পরে করা যেত কি না?

শাহেদ রেজা: গেমসটা এখন না করলে এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। আদৌ হতো কি না সংশয় ছিল। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গত বছর গেমসটা করতে চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু করোনায় এক বছর বসে ছিলাম। এখন না করলে খেলোয়াড়েরা হারিয়ে যেত। এই যে উৎসাহ নিয়ে তারা গেমসে অংশ নিয়েছে, গেমস না হলে এই খেলোয়াড়েরা মন খারাপ করত। ওরা কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবেই খেলেছে। নিজেদের শতভাগ দিয়ে ভালো ফল করেছে। এটা অনেক বড় ব্যাপার। এই খেলোয়াড়দের মাঠে আনা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে আমরা উতরে গেছি।

আমি মনে করি, নবীনেরাই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আগামী দিনে। কাজেই বাংলাদেশ গেমস থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের অবশ্যই আমরা পরিচর্যা করব। তারা যেন হারিয়ে না যায়, সেটা দেখব।
সৈয়দ শাহেদ রেজা
default-image
বিজ্ঞাপন

সব গেমসেই নবীন সম্ভাবনাময় অনেক খেলোয়াড় আসে। কিন্তু পরে বেশির ভাগই হারিয়ে যায়। নবীনদের গড়ে তুলতে বিওএ কোনো ভূমিকা রাখবে?

শাহেদ রেজা: নিশ্চয়ই রাখবে। তবে কী ভূমিকা রাখবে, এখনই বলতে পারছি না। মাত্র গেমসটা শেষ হয়েছে। সামনে কঠোর লকডাউন আসছে শুনতে পাচ্ছি। রোজাও শুরু হয়ে যাচ্ছে। রোজার পর আমাদের কমিটি বসবে, আলোচনা করবে বাংলাদেশ গেমস নিয়ে। ২০১৮ সালে যুব গেমস থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের আমরা বিভিন্ন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করেছি। যারা বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চেয়েছে, তাদের বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়েছি। এবারও সহায়তা করব।

অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, খেলোয়াড়েরা কিছুদিন পরই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। যথাযথ সহায়তা তাঁরা পান না...

শাহেদ রেজা: আমি মনে করি, নবীনেরাই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আগামী দিনে। কাজেই বাংলাদেশ গেমস থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের অবশ্যই আমরা পরিচর্যা করব। তারা যেন হারিয়ে না যায়, সেটা দেখব। তা ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বলেছেন, যেসব খেলোয়াড় উঠে আসবে, তাদের দীর্ঘ মেয়াদের অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে। আমরা যেন অলিম্পিকে খেলার মতো যোগ্য ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে পারি, সেই দিকটাও দেখতে বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এসব নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই কাজ করব।

default-image

ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে এসব নিয়ে সক্রিয় হতে দেখা যায় কমই। বিওএ এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে?

শাহেদ রেজা: খেলোয়াড় তৈরির মূল দায়িত্বটা ফেডারেশনের। বিওএ সহায়তা করতে পারে। এই গেমসে নতুন কিছু খেলোয়াড় এসেছে। নবীনদের জন্য এখন ফেডারেশনগুলোকে ভবিষ্যতে কর্মসূচি নিতে হবে। আমরা ফেডারেশনগুলোকে সেই তাগিদ নিশ্চয়ই দেব। আমাদের কাজ খেলা আয়োজন করা। সেটা আমরা করেছি। করোনার মধ্যে জেলা থেকে আসা খেলোয়াড়েরা নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। করোনায় ঢাকার বাইরে পরিবহন বন্ধ থাকায় আমরাই সবাইকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন ফেডারেশনগুলোকে প্রতিভা পালনে সক্রিয় হতে হবে।

গেমসে সর্বোচ্চ আট সোনাজয়ী সাঁতারু সোনিয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেছেন, দুদিন পর সবাই তাঁদের ভুলে যাবে। এই খেলোয়াড়দের কিছু আর্থিক পুরস্কার কি দেওয়া যেত না? শুধু পদক দিয়েই কি বিওএর দায়িত্ব শেষ?

শাহেদ রেজা: পুরস্কারের ব্যাপারে আমাদের কিন্তু একটা নীতিমালা আছে। সেটার আলোকে আমরা সব খেলোয়াড়কে সহায়তা করে থাকি।

default-image

বাংলাদেশ গেমসে ভালো করলে আর্থিক পুরস্কার দেয় না বিওএ। এটা বিওএর নীতিমালায় নেই...

শাহেদ রেজা: হ্যাঁ, বোধ হয় বাংলাদেশ গেমস আমাদের নীতিমালায় নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়ের আর্থিক সুবিধার চেয়ে তারা যেন হারিয়ে না যায়, সেটা লক্ষ রাখা। আপনি বাংলাদেশ গেমসে ভালো করা খেলোয়াড়দের জন্য আর্থিক পুরস্কারের কথা বলছেন, নিশ্চয়ই আমরা যখন বসব, বিষয়টি আলোচনায় আনব। আমরা সব সময় খেলোয়াড়দের মঙ্গল চাই। তারা যাতে চাকরি পায়, সেই চেষ্টাও করি। আন্তর্জাতিকভাবে ভালো করলে খেলোয়াড়েরা টাকা পায়। গত এসএ গেমসের পর কেউ কেউ ১০-১২ লাখ টাকাও পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সহায়তা করেছেন।

ভেন্যু সাজসজ্জার দিকে বেশি নজর দিয়েছে অনেক ফেডারেশন। কিছু ফেডারেশন খেলোয়াড়দের ঠিকমতো থাকা-খাওয়ার টাকা দেয়নি বলে অভিযোগ আছে। কী বলবেন?

শাহেদ রেজা: তেমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। পেলে নিশ্চয়ই দেখব। আমরা ফেডারেশনগুলোকে খেলোয়াড়পিছু হিসাব করে টাকা দিয়েছি। কাজেই খেলোয়াড়দের প্রাপ্য কেউ না দিলে সেটা দুঃখজনক হবে। আর আমরা চেয়েছি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গেমসের ভেন্যুগুলো যেন সুসজ্জিত থাকে। সেটা হয়েছে। শুরুটা আমি সিলেটে গিয়েছিলাম মেয়েদের ক্রিকেটে। ঢাকার বাইরে আর যেতে পারিনি কোভিড সমস্যায়। তবে ঢাকায় সব কটি ভেন্যুতে গিয়ে এবং ভেন্যু দেখে আমার ভালো লেগেছে।

অ্যাথলেটিকস আর সাঁতারে ইলেকট্রনিক টাইমিং ব্যবহার ছিল না। মেশিন নাকি নষ্ট! এই যুগে হাতঘড়িতে টাইমিং নিয়ে আপনার কী অভিমত?

শাহেদ রেজা: ডিজিটাল যুগে ইলেকট্রনিক টাইমিং থাকা অবশ্যই দরকার। ইলেকট্রনিক বোর্ড আনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ফেডারেশন তা ব্যবহার করে। যেকোনো কারণেই হোক বাংলাদেশ গেমসে ইলেকট্রনিক টাইমিং ছিল না সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসে। বিষয়টি নিয়ে আমি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে সাঁতার ও অ্যাথলেটিকস ইলেকট্রনিক টাইমিং পাবে।

বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন