বিজ্ঞাপন

সব গেমসেই নবীন সম্ভাবনাময় অনেক খেলোয়াড় আসে। কিন্তু পরে বেশির ভাগই হারিয়ে যায়। নবীনদের গড়ে তুলতে বিওএ কোনো ভূমিকা রাখবে?

শাহেদ রেজা: নিশ্চয়ই রাখবে। তবে কী ভূমিকা রাখবে, এখনই বলতে পারছি না। মাত্র গেমসটা শেষ হয়েছে। সামনে কঠোর লকডাউন আসছে শুনতে পাচ্ছি। রোজাও শুরু হয়ে যাচ্ছে। রোজার পর আমাদের কমিটি বসবে, আলোচনা করবে বাংলাদেশ গেমস নিয়ে। ২০১৮ সালে যুব গেমস থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের আমরা বিভিন্ন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করেছি। যারা বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চেয়েছে, তাদের বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়েছি। এবারও সহায়তা করব।

অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, খেলোয়াড়েরা কিছুদিন পরই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। যথাযথ সহায়তা তাঁরা পান না...

শাহেদ রেজা: আমি মনে করি, নবীনেরাই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আগামী দিনে। কাজেই বাংলাদেশ গেমস থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের অবশ্যই আমরা পরিচর্যা করব। তারা যেন হারিয়ে না যায়, সেটা দেখব। তা ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বলেছেন, যেসব খেলোয়াড় উঠে আসবে, তাদের দীর্ঘ মেয়াদের অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে। আমরা যেন অলিম্পিকে খেলার মতো যোগ্য ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে পারি, সেই দিকটাও দেখতে বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এসব নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই কাজ করব।

default-image

ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে এসব নিয়ে সক্রিয় হতে দেখা যায় কমই। বিওএ এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে?

শাহেদ রেজা: খেলোয়াড় তৈরির মূল দায়িত্বটা ফেডারেশনের। বিওএ সহায়তা করতে পারে। এই গেমসে নতুন কিছু খেলোয়াড় এসেছে। নবীনদের জন্য এখন ফেডারেশনগুলোকে ভবিষ্যতে কর্মসূচি নিতে হবে। আমরা ফেডারেশনগুলোকে সেই তাগিদ নিশ্চয়ই দেব। আমাদের কাজ খেলা আয়োজন করা। সেটা আমরা করেছি। করোনার মধ্যে জেলা থেকে আসা খেলোয়াড়েরা নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। করোনায় ঢাকার বাইরে পরিবহন বন্ধ থাকায় আমরাই সবাইকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন ফেডারেশনগুলোকে প্রতিভা পালনে সক্রিয় হতে হবে।

গেমসে সর্বোচ্চ আট সোনাজয়ী সাঁতারু সোনিয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেছেন, দুদিন পর সবাই তাঁদের ভুলে যাবে। এই খেলোয়াড়দের কিছু আর্থিক পুরস্কার কি দেওয়া যেত না? শুধু পদক দিয়েই কি বিওএর দায়িত্ব শেষ?

শাহেদ রেজা: পুরস্কারের ব্যাপারে আমাদের কিন্তু একটা নীতিমালা আছে। সেটার আলোকে আমরা সব খেলোয়াড়কে সহায়তা করে থাকি।

default-image

বাংলাদেশ গেমসে ভালো করলে আর্থিক পুরস্কার দেয় না বিওএ। এটা বিওএর নীতিমালায় নেই...

শাহেদ রেজা: হ্যাঁ, বোধ হয় বাংলাদেশ গেমস আমাদের নীতিমালায় নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়ের আর্থিক সুবিধার চেয়ে তারা যেন হারিয়ে না যায়, সেটা লক্ষ রাখা। আপনি বাংলাদেশ গেমসে ভালো করা খেলোয়াড়দের জন্য আর্থিক পুরস্কারের কথা বলছেন, নিশ্চয়ই আমরা যখন বসব, বিষয়টি আলোচনায় আনব। আমরা সব সময় খেলোয়াড়দের মঙ্গল চাই। তারা যাতে চাকরি পায়, সেই চেষ্টাও করি। আন্তর্জাতিকভাবে ভালো করলে খেলোয়াড়েরা টাকা পায়। গত এসএ গেমসের পর কেউ কেউ ১০-১২ লাখ টাকাও পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সহায়তা করেছেন।

ভেন্যু সাজসজ্জার দিকে বেশি নজর দিয়েছে অনেক ফেডারেশন। কিছু ফেডারেশন খেলোয়াড়দের ঠিকমতো থাকা-খাওয়ার টাকা দেয়নি বলে অভিযোগ আছে। কী বলবেন?

শাহেদ রেজা: তেমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। পেলে নিশ্চয়ই দেখব। আমরা ফেডারেশনগুলোকে খেলোয়াড়পিছু হিসাব করে টাকা দিয়েছি। কাজেই খেলোয়াড়দের প্রাপ্য কেউ না দিলে সেটা দুঃখজনক হবে। আর আমরা চেয়েছি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গেমসের ভেন্যুগুলো যেন সুসজ্জিত থাকে। সেটা হয়েছে। শুরুটা আমি সিলেটে গিয়েছিলাম মেয়েদের ক্রিকেটে। ঢাকার বাইরে আর যেতে পারিনি কোভিড সমস্যায়। তবে ঢাকায় সব কটি ভেন্যুতে গিয়ে এবং ভেন্যু দেখে আমার ভালো লেগেছে।

অ্যাথলেটিকস আর সাঁতারে ইলেকট্রনিক টাইমিং ব্যবহার ছিল না। মেশিন নাকি নষ্ট! এই যুগে হাতঘড়িতে টাইমিং নিয়ে আপনার কী অভিমত?

শাহেদ রেজা: ডিজিটাল যুগে ইলেকট্রনিক টাইমিং থাকা অবশ্যই দরকার। ইলেকট্রনিক বোর্ড আনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ফেডারেশন তা ব্যবহার করে। যেকোনো কারণেই হোক বাংলাদেশ গেমসে ইলেকট্রনিক টাইমিং ছিল না সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসে। বিষয়টি নিয়ে আমি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে সাঁতার ও অ্যাথলেটিকস ইলেকট্রনিক টাইমিং পাবে।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন