ইরফান শুক্কুর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছেন বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে।
ইরফান শুক্কুর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছেন বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে।ছবি: প্রথম আলো
ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত মুখ ইরফান শুক্কুর। তবে জাতীয় দলে এখনো পা রাখা হয়নি ২৭ বছর বয়সী বাঁহাতি উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যানের। ইরফানের কাছে একটু অন্যভাবেই ধরা দিয়েছে সর্বশেষ বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। নাজমুল একাদশের হয়ে নিয়মিত সাতে নেমেছেন, চাপের মধ্যে খেলেছেন দুর্দান্ত। ৫ ম্যাচে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান করে হয়েছেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটারের প্রিয় খেলোয়াড় অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। আসন্ন বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টিতে ফরচুন বরিশালের হয়ে ছন্দ ধরে রাখার প্রত্যয় তাঁর—

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ হলেও এত দিনে বোধ হয় একটা টুর্নামেন্ট আপনার কাছে অন্যভাবে ধরা দিল...

ইরফান শুক্কুর: এই টুর্নামেন্ট ঠিক নয়, আমি বলব ২০১৯ সালের বিপিএলের কথা। (রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে) ওই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল (দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার), ফাইনাল খেলাটা আমার কাছে একটা বাঁক বদল। ওই দুটো ম্যাচ আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে যে বড় মঞ্চে ভালো খেলতে পারব। এরপর তো লকডাউন এল। এই সময় স্কিল নিয়ে তেমন কাজ করা হয়নি, তবে ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ করেছি। হ্যাঁ, যেটা বললেন, নতুনভাবে এই টুর্নামেন্ট আমাকে চিনিয়েছে। তবে আমার কাছে মনে হয় আমি আমার ৭০–৮০ শতাংশ খেলতে পেরেছি।

default-image

বাকি ২০–৩০ শতাংশ হয়নি কেন?

ইরফান: যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম (তাঁর দল রানার্সআপ হয়েছে), তাহলে বলতে পারতাম কাছাকাছি যেতে পেরেছি। পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। শতভাগ দিতে পারলে তো চ্যাম্পিয়নই হতে পারতাম।

রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে ওই দুটি ম্যাচ কতটা সহায়তা করেছে আপনাকে, আরেকটু বিস্তারিত যদি বলেন..

ইরফান: লিটন (দাস) আমাদের মূল উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ছিল। আমার সুযোগ একটু কম ছিল। দলে অনেক বড় তারকা খেলোয়াড় ছিল। টুর্নামেন্টের মধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটের কারণে আমার সুযোগ মেলে। রাজিন (সালেহ) ও হান্নান (সরকার) ভাই আমাকে অনেক সহায়তা করেছিলেন। অনেক সময় দলের অনুশীলন ছিল না, তবুও আমার জন্য তাঁরা নেটে গেছেন। প্রচুর দর্শকের সামনে খেলার অভ্যাস ছিল না। ফাইনাল ও সেমিফাইনালে গ্যালারিভরা দর্শকের সামনে বড় বড় বোলারকে খেলেছি, তখন আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে। মনে হয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে পারব।

default-image

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে অনেক তারকা ব্যাটসম্যানও ভালো করতে পারেননি। আপনি নিয়মিত সাতে নেমেছেন। তীব্র চাপের মধ্যে ভালো খেলেছেন। কোন মন্ত্রে আসলে এই ধারাবাহিকতা?

ইরফান: গত দুই বছরে কিছু শটে উন্নতি আনার চেষ্টা করেছি। চেয়েছি স্ট্রাইক রোটেশন আর স্ট্রাইকরেটে উন্নতি করতে। আমার জন্য কাজটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। পাঁচ ম্যাচ খেলেছি পাঁচ রকম চ্যালেঞ্জের মধ্যে। সাত নম্বরে নিজের ব্যাটিং নিয়ে ভাবার সময় থাকে না। দলের চাহিদা মেনে, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়। আরও আগে নামলে একটু ভাবার সময় পাওয়া যায়। সাধারণত আমি টপ অর্ডারে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত। তবু আমি চেয়েছি এই পজিশনে দলের জন্য যতটা অবদান রাখা যায়। সেটাই কাজে লেগেছে।

বিজ্ঞাপন

সামনে বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি কাপ। বরিশালের হয়ে খেলবেন। এবারও নিশ্চয়ই দুর্দান্ত কিছু করারই লক্ষ্য থাকবে?

ইরফান: মূল লক্ষ্য থাকবে ফাইনাল খেলা, শিরোপা জেতা। তবে এখন এত কিছু না ভাবাই ভালো। তামিম ভাইয়ের অধীনে খেলব, তিনি বাংলাদেশ ওয়ানডে দলেরও অধিনায়ক। ভেতরে জড়তা যত কম থাকে ভালো খেলার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যায়। তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আগেও খেলেছি, আমরা একই শহর থেকে উঠে এসেছি। তাঁর সঙ্গে বিভাগীয় দলে খেলেছি। তাঁর অধীনে খেললে তেমন কোনো জড়তা থাকবে না যেটি আমাকে অনেক সহায়তা করবে। তাঁর অধীনে খেলব বলেই আমি রোমাঞ্চিত। আর আমাদের দলটা তারুণ্য আর অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। বেশির ভাগই গত টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছে। বেশির ভাগই দেখবেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ উইনার, নিয়মিত ভালো খেলে। ভালো কিছু হবে আশা করি।

চট্টগ্রামের একটা আলাদা ক্রিকেট ঐতিহ্য আছে। একসময় জাতীয় দলে নিয়মিত খেলেছেন মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, নুরুল আবেদীন, সাহিদুর রহমানরা। মাঝে আফতাব আহমেদ,নাফিস ইকবাল, নাজীম উদ্দিনরা সেই ধারাটা কিছুটা ধরে রেখেছিলেন। তামিম ইকবালের পর আবার একটা বিরতি। গত দুই বছরে এই বিরতি যেন কাটার আভাস মিলছে। নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী এসেছেন। আপনিও স্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে চট্টগ্রামের সেই ঐতিহ্য ফেরাতে কতটা আশাবাদী?

ইরফান: আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সেই ঐতিহ্য ফিরবে। আমাদের পাইপলাইন যদি দেখেন, কদিন আগে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জেতা দিপু (শাহাদাত হোসেন), ইমন (পারভেজ হোসেন) আসছে। পরের অনূর্ধ্ব–১৯ দলেও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। এটিই বলে দেয় চট্টগ্রাম ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভালো। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা মাঝে হারিয়ে গিয়েছিল বা ঘাটতি ছিল। তামিম ভাই আর সৌরভ ভাই (মুমিনুল হক) বছর সাতেক আগে একবার পুরো চট্টগ্রাম দলকে ডেকে বলছিলেন, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা বাড়াতে হবে। ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। এরপর থেকে আমাদের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা আসে। সবাই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা শুরু করে। স্কিলে আমাদের ঘাটতি নেই। চিন্তা আর ফিটনেসে আরও উন্নতি আনতে পারলে ক্রিকেটে চট্টগ্রামে পুরোনো ঐতিহ্য নিশ্চিত ফিরবে।

আপনি খেলেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে। বাংলাদেশ দলে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের অভাব নেই। মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, নুরুল হাসান—অনেকেই আছেন। এই চ্যালেঞ্জটা কীভাবে দেখেন?

ইরফান: মাঝে একেবারেই ধারাবাহিক ছিলাম না। ২০১৯ সালের প্রিমিয়ার লিগ থেকে মোটামুটি ধারাবাহিক ভালো খেলতে শুরু করেছি। চ্যালেঞ্জ আসলে সবারই থাকে। মুশফিক ভাইদেরও অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আসতে হয়েছে। আমার হাতে আছে ধারাবাহিক ভালো খেলে যাওয়া, কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া। এই দুটি ঠিকঠাক করতে পারলে নির্বাচকেরা নিশ্চয়ই বিবেচনায় রাখবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0