default-image

কলকাতা মোহামেডান পর্ব শেষ করে পরশু দেশে ফিরে কাল দুপুরেই পুরোনো ক্লাব সাইফ স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জামাল ভূঁইয়া। তার আগে সকালে বেরাইদে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুশীলন শেষে কলকাতা মোহামেডানের জার্সিতে নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক। কথা বলেছেন নেপালে অনুষ্ঠেয় তিন জাতি ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়েও—

প্রশ্ন: ডিসেম্বরে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর বিশ্রাম নেওয়ার তেমন সুযোগ পাননি। দেশের বাইরে গিয়ে নতুন ক্লাবে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল?

জামাল ভূঁইয়া: শুরুটা খুব কঠিন ছিল। কাতারে প্রায় ২০ দিন আইসোলেশনে ছিলাম। ভারতে গিয়ে ১০ দিন। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস অনুশীলন করতে পারিনি। প্রথম দিকে মানিয়ে নিতে কষ্টই হয়েছে।

প্রশ্ন: কলকাতা মোহামেডানের হয়ে ১২টি ম্যাচ খেলেছেন। ১০০-এর মধ্যে নিজেকে কত নম্বর দেবেন?

জামাল: নিজেকে ৭৫ নম্বর দেব। ৮০-ও দেওয়া যেতে পারে। প্রথম দিকে ভালো খেলতে পারিনি। এক মাস পর গিয়ে ফিটনেস ফিরে পাই। এরপর থেকে ভালো খেলতে শুরু করি। শেষ কয়েকটি ম্যাচে বেশি ভালো খেলেছি।

default-image
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: প্রথম দিকে মনে হয়েছে সতীর্থদের কাছ থেকে আপনি তেমন বল পেতেন না...

জামাল: প্রথম ৫-৬টা ম্যাচে এমনটা হয়েছে। বাঙালি কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি খেলোয়াড়দের বলেন, ‘তোমরা কেন ওকে বল দাও না?’ এর পরে ঠিকমতো বল পেয়েছি। ধীরে ধীরে সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে সম্পর্কটাও ভালো হয়ে যায়। আমাকে নিয়ে তাঁরাও খুব খুশি ছিল। শেষ ম্যাচে আমি অধিনায়কত্বও করেছি।

প্রশ্ন: শঙ্করলাল চক্রবর্তী টেকনিক্যাল ডিরেক্টর থেকে প্রধান কোচ হওয়ার পর আপনার পারফরম্যান্সেরও উন্নতি দেখা গেছে...

জামাল: আগের কোচ (স্প্যানিশ হোসে হেভিয়া) আমাকে ভুল নির্দেশনা দিয়েছিলেন। শঙ্করলাল আমার শক্তিমত্তার দিকগুলো নিয়ে কাজ করেন। সেভাবেই আমাকে খেলার নির্দেশনা দিতেন তিনি।

প্রশ্ন: ক্লাবের সঙ্গে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের ঝামেলা হওয়ায় নাকি ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাননি। এটা ঠিক?

জামাল: বিনিয়োগকারীর সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে ক্লাবের ঝামেলা ছিল। সে সমস্যা মিটে গেছে। আমি নিজেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। টাকাপয়সা পাওয়া নিয়ে সমস্যা নেই। বাংলাদেশে আসার আগের দিন তাঁরা আমাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছেন। ভবিষ্যতেও আমাকে পাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

default-image

প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, না আই লিগকে এগিয়ে রাখবেন?

জামাল: মাঠের খেলায় প্রায় একই রকম হলেও স্টেডিয়াম, অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় আই লিগ এগিয়ে আছে। এ ছাড়া সেখানে লিগের ১০ নম্বর দলটিও ১ নম্বর দলকে হারিয়ে দিতে পারে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের মানে কোনো পার্থক্য নেই।

প্রশ্ন: কলকাতায় থেকেও জাতীয় দলের খোঁজখবর রেখেছেন। নেপাল সফরের দলটাকে কেমন দেখছেন?

জামাল: জেমির (জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে) সঙ্গে আমার প্রতিদিন কথা হয়। দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় এসেছে। জেমি তাদের দলে নিয়েছেন যেহেতু, নিশ্চয়ই সেটার কারণ আছে। খেলোয়াড়েরা ফিট আছে। ছয় মাস আগে নেপালের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজে আমরা একটা ম্যাচ জিতেছি ও একটা ড্র করেছি। তাদের হারানোর আত্মবিশ্বাস আছে। তবে কিরগিজস্তানের দলটি সম্পর্কে জানা নেই।

প্রশ্ন: ২৩ মার্চ কিরগিজস্তান অলিম্পিক দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। এর মাত্র এক দিন আগে নেপালে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবেন?

জামাল: একটু কঠিন হবে। তবে আমি তো আমাদের খেলোয়াড়দের চিনি। নিজে খেলার মধ্যে থাকায় ভালো অবস্থানে আছি। তাই মানিয়ে নিতে বেশি সময় লাগবে না। আমার হয়তো প্রথম ম্যাচটা খেলা হবে না। অবশ্য এ বিষয়ে কোচই ভালো বলতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন