default-image

আপনার অধীনেই ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে প্রথমবার ফাইনালে খেলেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাছে গিয়েও শিরোপা জিততে না পারার আফসোস কতটা?

পল পুট: ফেডারেশন কাপ এখন অতীত। আমরা সেদিন বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে ভালো খেলেও শিরোপা জিততে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে তাদের বিপক্ষে ১০টি ম্যাচ খেললে ৫টিতেই জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। কয়েকটি হবে ড্র। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দল বসুন্ধরার সমপর্যায়ে চলে যাবে। বসুন্ধরা আর সাইফের মধ্যে বর্তমানে পার্থক্য হলো, পেশাদারত্ব দেখিয়ে বসুন্ধরা প্রমাণ করেছে তারা সেরা, আর সাইফ সেরা হওয়ার পথে।

ফেডারেশন কাপে সাইফের খেলা দেখার পর অনেকের বিশ্বাস, দলটা লিগ শিরোপার জন্য লড়াই করবে...

পুট: যেকোনো কিছুই সম্ভব। আমি বলব না, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। লিগ অনেক লম্বা পথ। শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং সেটা কঠিন। অনেক উত্থান-পতনও হবে। আর আমি ধাপে ধাপে উন্নতিতে বিশ্বাসী। শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়েরা কঠোর পরিশ্রম করছে। টুর্নামেন্টে তারা যা করেছে, কোচ হিসেবে আমি গর্বিত।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথম টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে কী ধারণা পেলেন?

পুট: এত অল্প সময়ে মন্তব্য করা কঠিন। তবে ফেডারেশন কাপের কয়েকটি ম্যাচ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত আছে। বাংলাদেশে শরীরনির্ভর ফুটবল অনেক বেশি হচ্ছে, এটা একটা দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য সহায়ক নয়। সুন্দর ফুটবল খেলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দিতে হবে। খেলতে নেমে খেলোয়াড়দের ঝুঁকি থাকলে কখনোই ফুটবলের উন্নয়ন হবে না। দেখুন, আমার দলের আল আমিনের পা ভেঙে গিয়েছে। আমি একজন ভালো খেলোয়াড় হারিয়েছি। আর তরুণ ছেলেটি হারিয়েছে একটি বছর। খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য ফেডারেশন ও রেফারিদের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে বেশি বেশি কার্ড দেখাতে হবে।

আমার একমাত্র মেয়ে এখনো মানতে পারেনি তার বাবা বাংলাদেশের মতো দেশে ফুটবল কোচিং করাচ্ছেন। আমি মেয়েকে বলেছি, ‘এখানে কাজ করার ভালো সুযোগ আছে।
পল পুট, কোচ, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব

স্বদেশি ক্লাব কেএসসি লোকেরেনকে উয়েফা কাপে খেলিয়েছেন। গাম্বিয়া, বুরকিনা ফাসো, জর্ডান, কেনিয়া ও গিনির জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গিয়েছেন আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে। কোচিং করাতে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের একটি ক্লাবে কেন এলেন?

পুট: প্রথমে করোনা পরিস্থিতির কথাই বলতে হবে। সর্বশেষ মরক্কোর শীর্ষ সারির একটি ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলাম আমি। করোনা শুরু হওয়ায় সেখান থেকে বেলজিয়ামে পরিবারের কাছে ফিরে যাই। কোনো খেলা নেই, কাজ নেই। প্রায় ৯ মাস ঘরে বসা। এই রকম পরিস্থিতিতে আমি কখনোই পড়িনি। মাঠে নামার জন্য অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। এ সময় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে যোগাযোগ করা হলো। খোঁজ নিয়ে জানলাম ক্লাবটি পেশাদার। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। তাই চলে আসা। আমার একমাত্র মেয়ে এখনো মানতে পারেনি তার বাবা বাংলাদেশের মতো দেশে ফুটবল কোচিং করাচ্ছেন। আমি মেয়েকে বলেছি, ‘এখানে কাজ করার ভালো সুযোগ আছে।’ আমার অভিজ্ঞতার সবটুকুই এখানে ঢেলে দিয়েছি।

আপনি যে পর্যায়ে কোচিং করিয়ে অভ্যস্ত, এখানে এসে তো অনেক কিছুরই অভাব বোধ করার কথা...

পুট: আমি বড় কোচিং স্টাফ নিয়ে কাজ করে অভ্যস্ত। সেখানে অনেক সহকারী ও বড় মেডিকেল টিম থাকে। এখানে সে রকম না হলেও ক্লাবকে বলে কিছু করিয়ে নিয়েছি। সকাল সাতটা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে এবং সেটা আমি উপভোগও করছি। সহকারী হিসেবে যাঁরা আছেন, তাঁরা আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন। তাঁদের শেখার আগ্রহও আছে।

প্রথম দিনই বলেছেন, আপনার দলে কোনো রাজপুত্রের জায়গা হবে না। এটা বলার উদ্দেশ্য কী?

পুট: আমি যেখানেই যাই, প্রথম দিনেই এ কথাটা বলে দিই। আমার কাছে তারকা খেলোয়াড় বলে কিছু নেই। সবাই সমান। সবাইকে শৃঙ্খলা মানতে হবে, একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। বছর দুয়েক আগে গিনির কোচ থাকাকালীন লিভারপুলের মিডফিল্ডার নেবি কেইতাকেও একই কথা বলেছি। জাতীয় দলে খেলা অবস্থায় নেবি কেইতা চোটে পড়লে লিভারপুল তাদের নিজস্ব ফিজিও পাঠিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় যে চিকিৎসকের অধীনে আছেন, কেইতাকেও তাঁর কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। নয়তো বাকি খেলোয়াড়দেরও লিভারপুলের সমপর্যায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

লিগের দ্বিতীয় পর্বে আপনার দলে জামাল ভূঁইয়া যোগ দেবেন। তিনি ফিরলে আপনার পছন্দের ৪-২-৩-১ ছকে দল তৈরি করাটা সহজ হওয়ার কথা...

পুট: (হাসি) জাতীয় দল ও সাইফের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে আমি তাকে সম্মান জানাই। তবে সাইফে এসে খেলতে হলে তাকে নিজেকে প্রমাণ করে আসতে হবে। আমার একাদশে সবাই যে রাস্তায় এসেছে, তাকেও সে পরীক্ষা দিয়ে খেলতে হবে।

অনুশীলনে দেখেছি, আপনি জাতীয় দলের এক ফরোয়ার্ডকে ফুটবলের মৌলিক কৌশল শেখাচ্ছেন। আপনার অধীনে খেলা জাতীয় দলের ফুটবলারদের ব্যাপারে মূল্যায়ন কী?

পুট: আমার হাতে ভালো কিছু মেধাবী খেলোয়াড় আছে। তাদের ঘষামাজা করে তৈরি করতে হবে। তারা অনেক কিছু না শিখেই এই পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন সবই বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমি উন্নতির রাস্তাটা ধরিয়ে দিতে চাই। একজন পরিপূর্ণ ফুটবলার হওয়ার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত কী করতে হবে, আপনাকে জানতে হবে।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জর্ডান জাতীয় দলের কোচ হিসেবে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে স্টেডিয়ামে বসে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা দেখেছেন। পাঁচ বছরে কোনো উন্নতি চোখে পড়েছে?

পুট: নেপালের বিপক্ষে খেলা আর জর্ডানের বিপক্ষে খেলা এক নয়। আমার ওই দলটা অস্ট্রেলিয়াকেও ২-০ গোলে হারিয়েছিল। উন্নতির কথা বললে দলগতভাবে বাংলাদেশের কোনো উন্নতি চোখে পড়েনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে ভালো কিছু খেলোয়াড় দেখেছি। এখন তাদের দলগতভাবে তৈরি করতে হবে।

মন্তব্য করুন