আজ ৪ নভেম্বর। ১৯৯৫ সালের এই দিনে মিয়ানমারে বাংলাদেশ ফুটবল দল জিতেছিল তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি। জার্মানি থেকে প্রথম আলোকে ই-মেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের তখনকার কোচ অটো ফিস্টার। ৮২ বছর বয়সী ফিস্টার শুনিয়েছেন ২৫ বছর আগের সেই সোনাঝরা দিনের নানা কথা-

default-image

১৯৯৫ সালে আপনি কোচ থাকার সময়ই মিয়ানমারে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ দল। ৪ নভেম্বর (আজ) শিরোপা উৎসবের ২৫ বছর পূর্তি। মনে পড়ে দিনটির কথা?

অটো ফিস্টার: খুব ভালো মনে আছে। আমার অধীনে সেটিই ছিল বাংলাদেশের সেরা ম্যাচ। কোনো দিনও ভুলব না রকিব কী দুর্দান্ত ড্রিবল করে প্রতিপক্ষকে পাগল করে দিয়েছিল! দাপটের সঙ্গে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছিল আরমান।

প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের কান্ডারি হিসেবে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে আজীবন জড়িয়ে থাকবে আপনার নাম। বিষয়টি নিয়ে গর্ব হয়?

অটো ফিস্টার: অবশ্যই। কেউ বিশ্বাস করেনি আমরা জিতব। কিন্তু খেলোয়াড়দের ওপর আমার শতভাগ আস্থা ছিল।

default-image

প্রথম ম্যাচে মিয়ানমারের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর ফাইনালে আপনারা সেই মিয়ানমারকেই হারিয়ে দিলেন...

অটো ফিস্টার: আসলে খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাতে পারলে যেকোনো কিছুই করে দেখানো সম্ভব। খেলার আগের দিন প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আমার রুমে ডেকে আলাদা করে কথা বলেছি। তাদের বুঝিয়েছিলাম, মিয়ানমারকে আমাদের পক্ষে হারানো সম্ভব। এতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল।

খেলার সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়েও নাকি আলাদা করে বসেছিলেন...

অটো ফিস্টার: সবাই মিলেই একটি দল। যারা খেলার সুযোগ পাচ্ছিল না, তাদের মন যে খারাপ, আমি তা বুঝতে পারছিলাম। সাইড বেঞ্চে বসে থাকা খেলোয়াড়েরা খুশি না থাকলে জেতা যায় না।

তাদের বুঝিয়েছিলাম, তারা কেন খেলার সুযোগ পাচ্ছে না আর দল জিতলে জয়টা সবারই।

ফাইনাল শুরু হওয়ার আগে আপনার কখনো মনে হয়েছিল বাংলাদেশ জিততে যাচ্ছে?

অটো ফিস্টার: আমার সব সময় বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশ জিতবে। একবারের জন্যও মনে হয়নি আমরা হারব।

default-image
বিজ্ঞাপন

শিরোপা জয়ের পথে দলটাকে কীভাবে গড়ে তুলেছিলেন?

অটো ফিস্টার: টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনুশীলনের জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় পেয়েছিলাম। ক্যাম্পে আমার চিন্তাভাবনা খেলোয়াড়েরা খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছিল। ছেলেরা আমার নির্দেশনা মেনে কাজ করেছে। মিয়ানমারে মুন্না, আরমান, রকিব ও রঞ্জন দুর্দান্ত খেলে আমাকে অবাক করে দিয়েছিল। বাংলাদেশকে গর্বিত করেছিল তারা। দারুণ একটা প্রজন্ম ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কারও সঙ্গেই আমার যোগাযোগ নেই।

আপনি তো অধিনায়ক মোনেম মুন্নাকে অনেক পছন্দ করতেন...

অটো ফিস্টার: মুন্না ছিল মনে রাখার মতো একজন খেলোয়াড় ও নেতা। তার জায়গা আমার হৃদয়ে সব সময় থাকবে।

মিয়ানমার থেকে ফিরে পরের মাসেই মাদ্রাজ সাফ গেমসেও আপনি আর মুন্না আরও একটি শিরোপা জয়ের সাক্ষী হতে পারতেন...

অটো ফিস্টার: ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে গিয়েছিলাম আমরা। আমার বাংলাদেশ অধ্যায়ে সবচেয়ে হতাশাজনক মুহূর্ত ছিল সেটি। পুরো ম্যাচে আমরা অনেকগুলো সুযোগ নষ্ট করেছি। এমনকি কয়েকটি বল পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। এর মধ্যে মিজানের দুর্দান্ত একটি হেড ছিল। আমাদের ভাগ্যই ভালো ছিল না।

আপনার দৃষ্টিতে সে সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মান কেমন ছিল?

অটো ফিস্টার: এখনকার চেয়ে তখন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫০ ধাপ ওপরে ছিলাম। ওই অঞ্চলের ফুটবলে বাংলাদেশ ও ভারত ছিল সেরা। তবে

আমি মনে করি, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ সুন্দর খেলত।

বাংলাদেশে কাজ করার সময়টাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

অটো ফিস্টার: অল্প সামর্থ্যের মধ্যে আমাদের অর্জন ছিল অনেক। অনেক বড় খেলোয়াড় তৈরি করেছি, যারা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0