মাঠে নামার অপেক্ষা কবে ফুরোবে জানেন না বার্কোস
মাঠে নামার অপেক্ষা কবে ফুরোবে জানেন না বার্কোসছবি: প্রথম আলো

এএফসি কাপ খেলতে ঢাকায় আসেন গত ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু ওই দিনই বাতিল হয়ে যায় টুর্নামেন্টটি। সময় যেন কাটতেই চাইছে না তাঁর। মাঠে নামার অপেক্ষা কবে ফুরোবে জানেন না বসুন্ধরা কিংসের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান বার্কোস। হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাই হতাশই মনে হলো লিওনেল মেসির সাবেক সতীর্থকে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থক। এই দেশের ক্লাবে খেলতে এসে কেমন লাগছে?

একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই দেশে খেলতে এসেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে করোনা পরিস্থিতি পুরো বিষয়টি জটিল করে তুলেছে। এএফসি কাপ বাতিল হয়েছে। তবু একটা ভালো কিছুর অপেক্ষায় আছি। যদিও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি না, আসলেই আমাদের ভবিষ্যত কী?

লিওনেল মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ড্রেসিংরুম ভাগ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও পেরুর বিপক্ষে দলে ছিলাম। এরপর ব্রাজিলের বিপক্ষে সুপার ক্লাসিকো খেলেছি। ওই সময় টিম হোটেল, অনুশীলন, ড্রেসিংরুমে মেসিকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। মেসি বিশ্বের এক নম্বর ফুটবলার। বিশ্বের যেকোনো ফুটবলারই ওর সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করতে চাইবে।

default-image

নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে মেসি বার্সেলোনায় থেকে গেলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?

মেসি কী করতে চায়, সেটা অন্যদের চেয়ে সে–ই বেশি ভালো জানে এবং সে যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা সবার ভালোটা বিবেচনা করেই।

আবারও আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামতে ইচ্ছা করে?

এই স্বপ্নটা সব সময়ই দেখি। কিন্তু আমি বাস্তববাদী মানুষ এবং জানি, এই মুহূর্তে এটা অসম্ভব।

আপনি নাকি ইতালির একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছেন?

হ্যাঁ, ওখানে খেলার সম্ভাবনা আছে আমার। কারণ বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং এখানে কোনো খেলা শুরু হচ্ছে না। আমি চলে গেলেও বসুন্ধরার যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটাও দেখা উচিত আমার। যদিও আমার সেই সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটার জন্যই অপেক্ষা করব।

গোলের পর এক চোখ বন্ধ রেখে হাত সামনের দিকে নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্‌যাপন করেন। আপনাকে সবাই ডাকে ‘এল পিরাতা’। এর পেছনের গল্পটা বলবেন?

এল পিরাতা স্প্যানিশ শব্দ। এর অর্থ জলদস্যু। ইকুয়েডরে খেলার সময় ওরাই আমাকে এই নামে ডাকত। এরপর ব্রাজিলেও এমন উদ্‌যাপন শুরু করলাম। এখন যে দেশে খেলি, সেখানেই উদ্‌যাপনটা করি। দর্শকেরা দেখে খুব আনন্দ পায়।

২০০৪ থেকে ১৪টি দেশের ক্লাবে খেলেছেন। কোথায় খেলে বেশি আনন্দ পেয়েছেন?

সেরা সময়টা কাটিয়েছি ইকুয়েডর ও ব্রাজিলে। এখনো ওই দেশে খেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে।

এএফসি কাপের জন্যই মূলত বসুন্ধরা কিংস আপনাকে নিয়ে এসেছিল। অথচ সেই টুর্নামেন্টই বাতিল হওয়ায় কতটা হতাশ হয়েছেন?

ভীষণ হতাশ। এখন আমরা প্রতিদিন কোনো লক্ষ্য ছাড়াই অনুশীলন করি। জানি না কবে আবার মাঠে নামতে পারব।

বসুন্ধরা কিংসের হয়ে এএফসি কাপে মাত্র এক ম্যাচ খেলেছেন। মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে ওই ম্যাচে দলের ৫ গোলের ৪টিই করে ঢাকার দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছেন। বসুন্ধরা কিংসের কেমন সম্ভাবনা ছিল এএফসি কাপে?

ভালো সম্ভাবনা ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুরো টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাইনি। আমি নিশ্চিত, পরের এএফসি কাপে আরও ভালো প্রস্তুতি নেব এবং আরও ভালো খেলব।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল শুরু হচ্ছে না বলে কদিন আগে ফেসবুকে হতাশা প্রকাশ করেছেন...

হ্যাঁ, এ ছাড়া কিছু করারও নেই। শুধু আমি নই, বেশির ভাগ ফুটবলারকেই হতাশা পেয়ে বসেছে।

বাংলাদেশের কোন ব্যাপারটা আপনাকে মুগ্ধ করেছে?

এখানকার আতিথেয়তা আর সমর্থকদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।

বাঙালি খাবারদাবার কেমন লাগে? আপনার প্রিয় খাবার কোনটি?

এখানকার খাবার বেশি মসলাযুক্ত। আমার ভালো লাগে আর্জেন্টাইন বারবিকিউ।

মন্তব্য পড়ুন 0