জেমি ডে চান শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে।
জেমি ডে চান শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে।ছবি: প্রথম আলো
বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিয়েই ভাবছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। নেপাল সফরটাকে সে উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা হিসেবেই নিয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে জিততে পারেনি বাংলাদেশ—এটাতে কষ্ট পেয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো কোচই ম্যাচ হারতে চায় না। ভবিষ্যতে বেশি করে বড় দলের বিপক্ষে খেলতে চান তিনি। না হলে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ চান তিনি।

ফাইনাল ম্যাচের হার নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আপনার কখনো বিশ্বাস ছিল কি না ফাইনালে খেলতে পারবে বাংলাদেশ?

জেমি ডে: খেলোয়াড়দের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। তবে ফাইনালে খেলব—এ রকম কিছু আমি আগে ভাবিনি। প্রথমত, আমি দুটি ম্যাচের লক্ষ্য নিয়েই এসেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল দুটি ম্যাচে সব খেলোয়াড়কে দেখা। আমি সেটি করেছি। ফাইনালে ওঠার পর আমার কাছে ম্যাচ হয়ে যায় তিনটি।

ফাইনালের আগেও বলেছেন ম্যাচটি জেতা মূল লক্ষ্য নয়। হারের পরেও বলেছেন জয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুনের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি ম্যাচগুলো। এটি বর্তমানে দায় এড়ানোর কৌশল কি না?

জেমি: দেখুন, আমি আগেও যা বলেছি, এখনো সে জায়গাতেই আছি। আমি উন্নয়নের পথে হাঁটতে বিশ্বাসী। আমার মূল লক্ষ্যটা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচ। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছি আমরা। সেখানে ভালো কিছু করা মানে আমাদের জন্য দুর্দান্ত ব্যাপার হবে। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

সেটা ঠিক আছে। কিন্তু সামনে শিরোপা জেতার সুযোগ থাকলে সেটা কেন নিলাম না!

জেমি: আপনি বলতে চাচ্ছেন আমরা ম্যাচটা জিততে চাইনি! শিরোপা জেতার জন্য মাঠে যায় না—এমন কোনো কোচ আপনি দেখাতে পারবেন! জেতার জন্য আমি তো এগারোজনের বেশি খেলোয়াড় নিয়ে দল সাজাতে পারব না। একাদশে লিগে সেরা পারফর্ম করা চারজন ফরোয়ার্ড ছিল। পরীক্ষার উদ্দেশ্য থাকলেও আমি তো সেরা দলটাই নামিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথমার্ধে তাঁরা ভালো খেলতে পারেনি। দুটি ভুল করেছি। সে সুযোগে নিজেদের কাজ করে নিয়েছে নেপাল।

default-image
বিজ্ঞাপন

আপনার দল তো ফাইনাল খেলার চাপটাই নিতে পারেনি...

জেমি: হ্যাঁ, কিছু খেলোয়াড় মানসিকভাবে চাপে ছিল। কঠিন পরিস্থিতিতে তারা বুঝতে পারছিল না কী করতে হবে। আমি তাঁদের বলেছি জয়ের জন্য চাপ নিয়ো না। আমাদের মূল লক্ষ্য ট্রফি জেতা নয়। তোমরা নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলো। ভবিষ্যতের চাপ নেওয়ার জন্য তাদের তো আমাকে সুযোগ দিতে হবে।

ভারত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছে, এটাকে ওরা ভবিষ্যতের শিক্ষা হিসেবেই নিয়েছে। আমরা এভাবে হারলে আপনারা সবাই-ই তো আমাদের সমালোচনা করতেন। এতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট হয়ে যেত। তবে ভবিষ্যতে আমি বড় দলগুলোর বিপক্ষেই খেলতে চাই। মালয়েশিয়া- ইন্দোনেশিয়ার মতো দল হলে ভালো হবে।
জেমি ডে, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ

দেখলাম একজন ডিফেন্ডারকে কাছে ডেকে এনে দেখাচ্ছিলেন বিপরীত দিক থেকে ক্রস এলে কীভাবে ম্যান মার্কিংয়ে রাখতে হবে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মৌলিক কৌশল শেখানো কতটা কষ্টের?

জেমি: দেখুন, কোচ হিসেবে এটি আমার কাজ। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যত দিন ছোট বয়স থেকে খেলোয়াড়েরা না শিখবে, তত দিন এই সমস্যাটা যাবে না। মৌলিক কৌশলগুলো সঠিকভাবে জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকে না শেখায় এই সমস্যা হয়েছে। তাই এ দোষ আমি খেলোয়াড়দের দিতে পারি না। আমি এতটুকু বলতে পারি, জাতীয় দলে এসে তাঁদের শেখার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

default-image

স্পষ্টত ফুটবলীয় মৌলিক কৌশলগুলোয় নেপালের ফুটবলারদের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ!

জেমি: আমার খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তা অসাধারণ। তবে স্বীকার করতে হচ্ছে কৌশলে তারা কিছুটা পিছিয়ে আছে। এগুলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের শেখানো কঠিন। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমার কাজ পরিকল্পনা সাজানো। দল কীভাবে আক্রমণে উঠব, কীভাবে রক্ষণ সামলাব—এ বিষয়ে শৃঙ্খলা আনা। কিন্তু ব্যক্তিগত কৌশলে পিছিয়ে থাকলে এ বিষয়গুলো মাঠে করে দেখানো কঠিন। নেপালের ফুটবলাররা এখানে এগিয়ে আছে। আপনি ইন্দোনেশিয়ার লিগে খেলা রোহিত চাঁদের (নেপাল জাতীয় দলের সহ–অধিনায়ক) কথাই ভাবুন না।

default-image

হ্যাঁ, রোহিত ছাড়াও তো নেপালের আরও দুজন দেশের বাইরে লিগ খেলছেন!

জেমি: রোহিত ইন্দোনেশিয়ার লিগে সেরা বিদেশি খেলোয়াড় হয়েছে। আরও দুজন ভারতের আই লিগে খেলছে। বাংলাদেশ থেকে শুধু জামাল। পার্থক্যটা তো এখানেই পরিষ্কার। তবে আমার খেলোয়াড়দেরও ভবিষ্যতে ভালো সম্ভাবনা আছে।

খেলোয়াড়দের পরখ করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাঠমান্ডুতে এসেছিলেন। সে হিসাবে বাংলাদেশের প্রাপ্তিটা কী?

জেমি: নতুন পাঁচজন খেলোয়াড়কে দেখেছি। নতুন ডিফেন্ডার মেহেদী হাসানে আমি খুশি। সে সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ায় শারীরিকভাবে খুবই ভালো। ভবিষ্যতে সে আমাদের শক্তি বাড়াবে। সব মিলিয়ে বুঝতে পারছি, জুনের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কারা দলে থাকার যোগ্য। এ ছাড়া ফাইনালের প্রথমার্ধ ছাড়া তিনটি ম্যাচ নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। আমাদের পাসিংয়ে উন্নতি হয়েছে। এটা বড় দলের বিপক্ষে করতে পারব কি না, সেটাই দেখার ব্যাপার।

ওমান ও আরব আমিরাতের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে তৈরি হচ্ছে ভারত। বাংলাদেশ কেন কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলছেন না?

জেমি: প্রথমত, ভারত র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। ফুটবলে তাদের প্রচুর বিনিয়োগ। তাদের লক্ষ্যটাও ভিন্ন। দ্বিতীয়ত, কাল যে ভারত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছে, এটাকে ওরা ভবিষ্যতের শিক্ষা হিসেবেই নিয়েছে। আমরা এভাবে হারলে আপনারা সবাই-ই তো আমাদের সমালোচনা করতেন। এতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট হয়ে যেত। তবে ভবিষ্যতে আমি বড় দলগুলোর বিপক্ষেই খেলতে চাই। মালয়েশিয়া- ইন্দোনেশিয়ার মতো দল হলে ভালো হবে।

বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন