করোনার এ সময় গলফার সিদ্দিকুর রহমানের সময় কাটছে যেভাবে
করোনার এ সময় গলফার সিদ্দিকুর রহমানের সময় কাটছে যেভাবেছবি: প্রথম আলো

করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া খেলাধুলার দুয়ার খুললেও খোলেনি কুর্মিটোলা গলফ কোর্স। ব্যয়বহুল জেনেও তাই মালয়েশিয়া গিয়ে অনুশীলন করতে চেয়েছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। কিন্তু সেখানেও আপাতত বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ। কবে কখন ফের গলফ কোর্সে অনুশীলন করতে পারবেন, জানা নেই দেশ সেরা গলফারের। সময় কাটছে ঘরে অনুশীলন করে আর মোশাররফ করিমের নাটক দেখে-

বছরে তো আপনি ২০টিরও বেশি টুর্নামেন্ট খেলেন। দম ফেলার ফুসরত থাকে না। অথচ প্রায় ৬ মাস হতে চলল ঘরবন্দী হয়ে আছেন। সহসা খেলার সম্ভাবনাও নেই। কেমন কাটছে জীবন?

সিদ্দিকুর রহমান: প্রথম দিকে ভালোই লাগত। মনে হতো একটু বিশ্রাম নিই। প্রায় ২০ বছর ধরে টানা খেলছি। তাই করোনা বিরতিটা কাজে লাগাই। বাসায় বাগান করি।কিন্তু বিরতিটা এত লম্বা হবে ভাবিনি। এখন আর ভালো লাগছে না। কোর্সে ফিরতে মন ব্যাকুল হয়ে আছে। কখন কোর্সে অনুশীলন করব, টুর্নামেন্ট খেলব সারাক্ষণ এটাই ভাবি।

সাকিব আল হাসানও তো বিকেএসপিতে অনুশীলনে নেমে পড়েছেন। কিন্তু আপনি কবে কী করবেন এখনো জানেন না। একটু কী হতাশ লাগছে না?

সিদ্দিকুর: হতাশ তো অবশ্যই। মানসিক অস্থিরতায়ও ভুগছি। কত আর বাসায় থাকায় যায় বলুন!

গত মাসেই সরকার খেলার অনুমতি দিয়েছে। কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের কী অবস্থা, কবে নাগাদ খুলবে?

সিদ্দিকুর: জানি না। আমি অবশ্য গলফ ফেডারেশনের কাছে একটা দরখাস্ত দিয়েছি ৪-৫ দিন আগে। কুর্মিটোলা কোর্সে সপ্তাহে যেন আমাকে অন্তত তিন-চার দিন অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিদিন ঘণ্টা তিনেক অনুশীলনের আবেদন করেছি। এখন অনুমতির অপেক্ষায় আছি।

বিজ্ঞাপন

সামনে কোনো খেলা কি আছে?

সিদ্দিকুর: না, এশিয়ান ট্যুরের কোনো সূচি নেই আপাতত । সমস্যা হয়েছে, এখন কেউ কোথাও বিমান ভ্রমণ করতে পারছে না। তবে অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে টুর্নামেন্ট হলেও হতে পারে। আগামী বছর অলিম্পিক গেমস আছে। আমার এখন অনুশীলনে নেমে পড়া দরকার।

দেশে অনুশীলনের সুযোগ না পেয়ে আপনি মালয়েশিয়ায় অনুশীলন করতে চেয়েছিলেন। সেটির কী অগ্রগতি?

সিদ্দিকুর: অনুশীলনের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের দিকে আমি মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওটা হচ্ছে না। ৭ সেপ্টেম্বর (আগামীকাল) থেকে বাংলাদেশের কেউ মালয়েশিয়া যেতে পারবেন না। তাই মনে হয় না আমার পক্ষে এখন মালয়েশিয়ায় যাওয়া সম্ভব। হাতে সময় একেবারেই নেই। তা ছাড়া অনেক প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। অনুমতি লাগবে মালয়েশিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের। সেই মন্ত্রণালয় খুলবে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার। ভিসার শ্রেণি উল্লেখ করে আমাকে আবেদন করতে হবে অনলাইনে। মালয়েশিয়া থেকে অনুমতি এলে তবেই যেতে পারব। সে সম্ভাবনা কমই দেখছি। সব মিলিয়ে আশি হতাশ।

default-image

তাহলে এখন কী করবেন?

সিদ্দিকুর: কী আর করব। করোনায় গত কয়েক মাস যা করেছি, তাই করব। বাসায় শারীরিক, মানসিক ফিটনেস অনুশীলন করব দিনে ৪-৫টা ঘণ্টা। এর বেশি কিছু করাও যায় না। করলেও লাভ হবে না। তবে যাই করি না কেন, ভালো থাকার চেষ্টা করছি।

মালয়েশিয়াতে অনুশীলন করতে যাওয়ার কথা ছিল সিদ্দিকুর রহমানের। কিন্তু মালয়েশিয়ায় আপাতত প্রবেশ নিষেধ বাংলাদেশিদের। সেখানে যাওয়া হচ্ছে না তাঁর।

২০১০ সালে আপনি ব্রুনেই ওপেনে প্রথম পেশাদার ট্রফি জেতেন। ২০১৩ সালে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন জয়। গত ২ আগস্ট আপনি আপনার প্রথম পেশাদার ট্রফি জয়ের ১০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করলেন কেক কেটে। তৃতীয় পেশাদার শিরোপাটা কত দূর?

সিদ্দিকুর: আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। সমস্যা হচ্ছে, পারফরম্যান্স সব সময় এক রকম যায় না। ওঠা-নামা করে। মাঝখানে অবশ্য ভালো করেছি। শুধু চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, এই যা। কয়েকটি টুর্নামেন্টে রানারআপ হয়েছি। শারীরিক, মানসিক ফিটনেস মোটামুটি ঠিক আছে আমার। দেখা যাক, কতটা কী করতে পারি সামনে।

করোনায় অনেক টুর্নামেন্ট স্থগিত হয়ে গেছে। সামনে আশার আলোও দেখা যাচ্ছে না। পেশাদার একজন খেলোয়াড়ের জন্য এই পরিস্থিতি কতটা কষ্টের?

সিদ্দিকুর: অনেক কষ্টের। সেই ব্যস্ততা নেই। ভ্রমণ নেই। চেক ইন-চেন আউট নেই। জীবনটা পুরোপুরিই বদলে গেছে আমার। তারপরও আশা দেখি। ইনশা আল্লাহ আবার খেলব। এশিয়ার কিছু দেশে গলফ কোর্স খুলেছে, অনুশীলনও শুরু হয়েছে।

default-image

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডে খেলে কাট পাননি। মার্চের শুরুতে মালয়েশিয়ায় একটি টুর্নামেন্টে হয়েছেন ৩১তম। পুরোনো ছন্দে ফেরা কতটা কঠিন হবে?

সিদ্দিকুর: পরিশ্রম করতে হবে অনেক। হয়তো প্রথম দুই-একটা টুর্নামেন্ট মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে। সেটা অবশ্য সবার জন্যই। তবে নিজের ওপর আমার আস্থা আছে। আশা করি ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।

এই সময়ে বেশি মিস করেছেন কোন জিনিসটা?

সিদ্দিকুর: টুর্নামেন্টে খেলাটাই বেশি মিস করছি। মহামারি না থাকলে ১০-১২টা দেশে যাওয়া হতো। প্রাইজমানি কত পেতাম তা নিয়ে ভাবি না। সবার সঙ্গে দেখা হতো, এটাও মিস করেছি।

করোনার সময়টা সবাই নিজের মতো করে কাটাচ্ছেন। আপনি কী করেন?

সিদ্দিকুর: বসায় যতটা পারি অনুশীলন করি। বল মারার জন্য বাসার ভেতরেই একটা জায়গা করেছি। জিম, ইয়োগা, মেডিটেশন করি। একটু মুক্ত বাতাস নিতে গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর গেছি দুবার। তিন শ ফুটে গেছি কয়েকবার। এমনিতে করোনার প্রথম দিকে প্রায় প্রতিদিন একটি করে সিনেমা দেখতাম। কমেডি, অনুপ্রেরণামূলক সিনেমা বেশি দেখি। অ্যাকশনও দেখি। আবেগময় সিনেমা কম দেখি।

default-image

প্রিয় অভিনেতা কে?

সিদ্দিকুর: সেভাবে কেউ নেই। মোশরারফ করিমের নাটক দেখি। বলিউডের অক্ষয় কুমারের অভিনয় ভালো লাগে। আসলে যখন যা-ই করি, মনে গলফটাই বেশি থাকে।

গলফে আপনার প্রিয় বন্ধু কে?

সিদ্দিকুর: জাকির, সোহেল, মিলনদের সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক। তাঁরাই আমার সবচেয়ে কাছের। বিদেশি অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও তাদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক নয়।

default-image

গলফের বাইরে আপনার প্রিয় খেলা?

সিদ্দিকুর: মূলত ফুটবল। তবে আমাদের দেশের ফুটবল ছোট বেলায় যতটা উপভোগ করতাম, এখন আর করি না। ২০১৫ সালে স্পেনে ইউরোপিয়ান একটা টুর্নামেন্টের বাছাইয়ে খেলতে গিয়ে বার্সেলোনায় ফুটবল মিউজিয়াম দেখেছি। বার্সার মাঠও দেখি তখন। খেলা থাকলে দেখার চেষ্টা করতাম। স্টেডিয়ামে বসে মেসির খেলা দেখতে পারলে অনেক ভালো লাগত।

প্রিয় ফুটবলার কী তাহলে মেসিই?

সিদ্দিকুর: অবশ্যই, মেসির খেলাই বেশি ভালো লাগে। আমাদের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও ভালো লাগে। ওর ইন্টারভিউগুলো বেশ মজার। বাংলায় ভালোভাবে কথা বলতে পারে না তো, একটু অন্য রকম লাগে।

মন্তব্য পড়ুন 0