রাসেল মাহমুদ জিমির আক্ষেপ হকি লিগ না হওয়ার
রাসেল মাহমুদ জিমির আক্ষেপ হকি লিগ না হওয়ারফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক হকি খেলছেন ২০০৩ সাল থেকে। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন এই প্রথম। অবশ্য ঢাকায় আগামী ১১ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এশিয়ার সেরা ৬ দলের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশও এবারই প্রথম খেলবে। স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত ২০১৮ এশিয়ান গেমসের আগ পর্যন্ত জাতীয় দলের নিয়মিত অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রস্তুতি, লক্ষ্য, ঘরোয়া হকি ইত্যাদি নিয়ে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন এই স্ট্রাইকার-

করোনাকালে এখন কী করছেন?

রাসেল মাহমুদ: নৌবাহিনীতে আমাদের অনুশীলন চলছে। তিন-চারজন বাদে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই নৌবাহিনীর। আমি, চয়ন, পিন্টু রানা, সারোয়ার, কৌশিক, রম্মন, রাব্বি, সিটুল, ইমনসহ অনেকে। সবাই নিজেকে ফিট রাখছি।

আগামী মার্চে ঢাকায় স্বপ্নের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। কেমন সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের?

রাসেল মাহমুদ: ভারত, পাকিস্তান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া-এই দেশগুলো এশিয়ার হকির পরাশক্তি। বুঝতেই পারছেন টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য কত কঠিন।

প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন। আগামী মাসের প্রথমে ক্যাম্প শুরু করতে পারে ফডারেশন। এটা তো ভালো দিক...

রাসেল মাহমুদ: প্রস্তুতির জন্য সময় পাওয়া ইতিবাচক। তবে প্রস্তুতিটাও হতে হবে ভালো। এই প্রথম এমন টুর্নামেন্টে খেলব আমরা। ভারত, পাকিস্তান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান সবার সঙ্গেই খেলা হবে। ভালো প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।

default-image
বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মূল লক্ষ্য কী হবে?

রাসেল মাহমুদ: ঘরের মাঠে খেলা। সেই সুবিধা আমরা নেব। তারপরও বড় দলগুলোর সঙ্গে জেতা অসম্ভব। তবে ভালো খেলা সম্ভব। আমরা চাই ভালো হকি খেলতে।

কিন্তু সব দলই অনেক এগিয়ে। সম্মানজনক হারও বোধ হয় বড় চ্যালেঞ্জ আপনাদের জন্য...

রাসেল মাহমুদ: ভালো করার ইচ্ছা আছে আমাদের। ভালো প্রস্তুতি নিতে পারলে এবং অনুশীলন ম্যাচ পেলে আশা করি এশিয়ার বড় দলগুলোর সঙ্গেও ভালো পারফর্ম করব।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান গেমসের পর আর ফিল্ড হকি খেলা হয়নি বাংলাদেশের। দুই বছরের বেশি সময় আপনারা আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বাদ পাননি। ভাবলে কেমন লাগে?

রাসেল মাহমুদ: খুবই খারাপ লাগে। বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে না পারার আক্ষেপ আমাদের চিরকাল ছিল। গত এশিয়ান গেমসের পর মাঝে শুধু ইনডোর হকির একটি টুর্নামেন্ট খেলা হয়েছে। যাহোক, সামনে একটা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আছে এবং সহসাই অনুশীলন শুরু হচ্ছে। এতেই আমরা খুশি।

default-image

ফেডারেশনের কাছে প্রত্যাশা কী?

রাসেল মাহমুদ: প্র্যাকটিস ম্যাচ চাই। বিদেশে না গিয়ে দেশে খেলতে পারলেও হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যেহেতু বড় টুর্নামেন্ট, পাঁচটি দেশই পাঁচ-সাত দিন আগে চলে আসবে। ওদের সঙ্গে টুর্নামেন্টের আগে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভালো প্রস্তুতি দরকার, যাতে হতাশ হতে না হয়। ২০১৮ এশিয়ান গেমসের আগে ভারতের সঙ্গে পাঁচটি অনুশীলন ম্যাচ খেলে সব ম্যাচে হারলেও প্রতিদিন আমাদের উন্নতি হয়েছে।

কখনো স্বপ্ন দেখেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলবেন?

রাসেল মাহমুদ: আগে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নস বা এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি টিভিতে দেখতাম। দেখতে দেখতে ভেবেছি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আমরা কখনো সুযোগ পাব কি না। গতবার কাছাকাছি গিয়েও সুযোগটা নিতে পারিনি। এবার সুযোগ এসেছে। এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে ষষ্ঠ হয়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। এটা বিশাল প্রাপ্তি। তবে অবস্থানটা ধরে রাখতে হবে আমাদের। ওমানের মতো দল নিয়মিত লিগ-টুর্নামেন্ট খেলছে। আমাদেরও নিয়মিত খেলা উচিত।

default-image
বিজ্ঞাপন

দেশে ঘরোয়া লিগ হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। লিগ নিয়ে কী প্রত্যাশা?

রাসেল মাহমুদ: ক্যাসিনোর ঘটনার কারণে অনেক ক্লাব বন্ধ। কবে লিগ শুরু হবে জানি না। প্রতিবছরই দেখা যায় লিগ নিয়ে সমস্যা। ক্লাব-ফেডারেশন দুই পক্ষই একে অন্যকে সহায়তা করতে হবে। দুঃখের বিষয়, আমরা কখনো বলতে পারি না আগামী বছর আমাদের লিগটা নিশ্চিতভাবে হবেই। জাতীয় দলের বাইরে ২০০-৩০০ খেলোয়াড় আছে, যারা লিগের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের কথা ভাবতে হবে।

default-image

লিগ না হওয়া কতটা কষ্টের?

রাসেল মাহমুদ: অনেক কষ্টের। অনেকে ফোন করে। উত্তর দিতে পারি না। হকিটা মাঠে নামানো দরকার। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিন বছর লিগ না হলে পারফরম্যান্স নিচে নামবেই। সবাই হতাশ হয়ে আছে। এখন দ্রুত খেলা শুরু করা দরকার। ঘরোয়া খেলা না খেললে জাতীয় দল শক্তিশালী হবে না। র‌্যাঙ্কিংও পেছাবে।

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা কী?

রাসেল মাহমুদ: আগামী এশিয়ান গেমসটা খেলতে চাই। আগামী বছর এশিয়া কাপ খেললে সেটি হবে আমার ষষ্ঠ এশিয়া কাপ। যত দিন খেলব, ভালো খেলেই দলে থাকতে চাই।

মন্তব্য পড়ুন 0