default-image

দািয়ত্ব পেয়েছিলেন শুধু বঙ্গবন্ধু কাপের জন্য। তাতেই বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। আবারও স্বল্প মেয়াদে প্রধান কোচের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন লোডভিক ডি ক্রুইফ। বঙ্গবন্ধু কাপের সাফল্যই বাংলাদেশকে নিয়ে বহুদূরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ডাচ কোচকে
ফাইনালের ওই হারের পর রাতে নিশ্চয়ই ভালো ঘুম হয়নি?
লোডভিক ডি ক্রুইফ: এমন হারের পর কারোরই ভালো ঘুম হওয়ার কথা নয়। ফাইনালে হেরে অনেক কষ্ট পেয়েছি। যদি ৩-০ বা ৪-০-তে হারতাম, তাতে কোনো দুঃখ থাকত না। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলটা মানতে পারছি না। একজন পেশাদার কোচ হিসেবে দিন শেষে আপনি জিততেই চাইবেন। তবে একটা সান্ত্বনা, হারলেও আমরা সাধারণ মানুষের মন জিততে পেরেছি। গ্যালারি উপচে পড়েছিল দর্শকে। ইটস এক্সেলেন্ট!
ফাইনালের আগে মাত্র এক দিনের বিশ্রামে কি আপনি সন্তুষ্ট ছিলেন?
ডি ক্রুইফ: ছেলেরা যতটুকু বিশ্রাম পেয়েছে তাতে আমি মোটেই খুশি হতে পারিনি। দুই দিন আগেই একটা বড় ম্যাচ খেলার পর মাত্র এক দিনের বিশ্রাম মোটেই পর্যাপ্ত নয়। অন্তত ৭২ ঘণ্টার বিশ্রাম দরকার ছিল।
বছর দুয়েক আগের বাংলাদেশ দল আর বর্তমান দলের মধ্যে কতটা ব্যবধান দেখেন?
ডি ক্রুইফ: দুই বছর আগে যখন এ দেশে আসি, তখন দলের অবস্থা কেমন ছিল সবাই তা জানে। আমি এসে ওদের খেলার ধরনটা বোঝার চেষ্টা করেছি। দল তখন খেলত পুরোনো ইংলিশ স্টাইলে। ছেলেরা লম্বা বল শূন্যে উঠিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করত। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলাররা খর্বকায়। যখন কোনো দলে দীর্ঘদেহী, শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান ফুটবলার থাকবে, তখনই এমন খেলার চেষ্টা করবেন। আমি সেটা বদলে ডাচ ঘরানায় খেলাচ্ছি। এর ফলও নিশ্চয়ই পাচ্ছে বাংলাদেশ।
মার্চে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টের বাছাই। এটা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
ডি ক্রুইফ: সবকিছু ঠিকমতো এগোলে এবং ফুটবলাররা ফিট থাকলে এসব টুর্নামেন্টে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে। আমি চাইব বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে উঠুক। কিন্তু বাস্তবতাও বুঝতে হবে। ভারত আমাদের সমপর্যায়ের দল। উজবেকিস্তান ও সিরিয়া অনেক শক্তিশালী। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলা।
আপনাকে তো আবারও শর্ত সাপেক্ষে অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টের জন্য নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বাফুফে। কিন্তু ফুটবলাররা আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদে চাইছেন।
ডি ক্রুইফ: ফুটবলারদের এই চাওয়াটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি খুব খুশি হয়েছি এটা শুনে। আসলে ছেলেদের সবার সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক। আমরা একটা সুখী পরিবার। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা সবাই বাড়তি কিছু দিতে চাই।
এভাবে অল্প মেয়াদের চুক্তিতে কি স্বচ্ছন্দে কাজ করা যায়?
ডি ক্রুইফ: এটা নিয়ে এখনই কথা বলব না। তবে এ মুহূর্তে আমাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে সেটা নিয়ে মোটেও ভাবছি না। হ্যাঁ, আমাকে সামনের টুর্নামেন্টের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেভাবে বিষয়টি ঠিক হয়েছে তাতে আমরা দুই পক্ষই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্যই আসল। সাফল্য পেলে তবেই সামনে তাকাব। না হলে চাকরি শেষ। এটাই কোচদের জীবন।
আপনি নাকি আরও অনেক দেশে কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন?
ডি ক্রুইফ: আমি আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশে কাজের প্রস্তাব পেয়েও সাড়া দিইনি। কারণ বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি আমার একটা ভালোবাসা জন্মেছে। দুই বছর আগে আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করি। ফুটবলকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে স্টেডিয়ামে দর্শক আনতে চেয়েছিলাম। সেটা মনে হয় পেরেছি। এটা একটা অভিযান। আপাতত সেটা শেষ। কিন্তু পরের ধাপের জন্য আরও কাজ করতে হবে। এ জন্য আরও সময় দরকার।

বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন