বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাদুকানু কেবল ইউএস ওপেনের শিরোপাই প্রথমবারের মতো জেতেননি, তিনি হচ্ছেন এ গ্র্যান্ডস্লামে কোয়ালিফাইয়ার খেলে আসা প্রথম শিরোপাজয়ী। তথ্যটা অসম্পূর্ণ হয়ে গেল, রাদুকানু হচ্ছেন যেকোনো গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতাতেই প্রথম কোয়ালিফাইয়ার খেলে আসা শিরোপাজয়ী। ব্রিটিশ নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে রাদুকানু সারা জাগালেন বহুদিন পর। ব্রিটিশ নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে রাদুকানুর আগে সবশেষ গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা (উইম্বলডন) জিতেছিলেন ভার্জিনিয়া ওয়েড, সে প্রায় ৪৪ বছর আগে, ১৯৭৭ সালে।

default-image

১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম ইউএস ওপেনে মেয়েদের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুই অবাছাই টেনিস খেলোয়াড়। দুজনই অষ্টাদশী। আজ থেকে ২২ বছর আগে এভাবেই ইউএস ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ‘অবাছাই’—সেরেনা উইলিয়ামস ও মার্টিনা হিঙ্গিস। শেষ হাসিটা হেসেছিলেন সেরেনাই। দুই ‘অবাছাই’ পরবর্তীতে টেনিসের বড় তারকা হয়েছিলেন, সেটি সকলেরই জানা। এবার রাদুকানু আর লেইলা ফার্নান্দেজের ফাইনালটাকেও টেনিস সার্কিটে ‘নতুনের আবাহন’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

default-image

রাদুকানুর শিরোপাজয়ের যাত্রাপথটা দুর্দান্তই। কোয়ালিফাইয়ার থেকে শিরোপা জয়—এ সময় মোট ১০টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে তাঁকে। তিনটি ম্যাচ ছিল কোয়ালিফাইয়ারে, বাকি সাতটি ম্যাচ মূল প্রতিযোগিতায়। বেশ কয়েকজন বড় নামের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। দারুণ ব্যাপারটা হচ্ছে, যার সঙ্গেই খেলা হোক না কেন, এই দশটি ম্যাচে একটি সেটও হারেননি রাদুকানু। তালিকার ১৫০তম টেনিস খেলোয়াড়ের শিরোপাজয়ের যাত্রাপথটা এত মসৃণ হতে পারে—এবারের ইউএস ওপেন সেটি দেখিয়ে দিল।

default-image

গোটা টুর্নামেন্ট যেভাবে খেলেছেন, ফাইনালটাও খেলেছেন ঠিক সেভাবেই। এত বড় একটা টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলতে নেমেছেন প্রথমবারের মতো সেটির মোটেও বোঝা যায়নি রাদুকানুর খেলায়। সেই একই ক্ষিপ্রতা ও আক্রমণাত্মক। বেশি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে রক্ষণকেও অবহেলা করেননি। ফাইনালে কখনোই প্রতিপক্ষ লেইলাকে পাল্টা কিছু ভাবার সুযোগ দেননি।

দ্বিতীয় সেটে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় কোর্টে পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ে ফেলেন। লেইলার একটি শট ব্যাকহ্যান্ডে ফেরাতে গিয়েই বিপত্তিটা ঘটে। মেডিকেল টাইমআউটে যেতে হয় তাঁকে।

খেলা আবারও শুরু হলে প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। লেইলা কিছুটা সুবিধা আদায় করে নেওয়া শুরু করেছিলেন। ব্রেক পয়েন্ট প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। তবে সেটি ঠেকিয়ে ঘুরে দাঁড়ান রাদুকানু।

default-image

ইউএস ওপেনের শিরোপার যাত্রাপথে নাকি কোনো বিশেষ চাপই অনুভব করেননি রাদুকানু, ‘আমি সত্যিই কোনো বিশেষ চাপ অনুভব করিনি। আমার বয়সটা এখন মাত্র ১৮। কোনো কিছু নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করিনি, যা হওয়ার হবে ভেবেই আমি প্রতিটি ম্যাচ খেলেছি।’

ভবিষ্যতেও তাঁর খেলার ধরন, জেতার ধরনটা একই রকম হবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ তরুণী, ‘এভাবে খেলেই আমি শিরোপা জিতেছি। ভবিষ্যতেও ঠিক এভাবেই খেলব।’

এমন দাপুটে শিরোপা জয়, কিন্তু তারপরেও নাকি রাদুকানুকে প্রতিটি ম্যাচেই চ্যালেঞ্জ জয় করতে হয়েছে, ‘আমি প্রতিটি ম্যাচেই বেশ কিছু বাধা অতিক্রম করেছি। এ টুর্নামেন্টে আমার শিরোপাজয়ের মূল রহস্য হলো আমি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোতে ভালো খেলতে পেরেছি। যখন যেটি দরকার সেটিই করতে পেরেছি।’

টেনিস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন