শারাপোভার এই ছবিও মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন।
শারাপোভার এই ছবিও মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

বয়স তখন তাঁর কতই-বা ছিল! গত এপ্রিলে কেটেছেন ৩৩তম জন্মদিনের কেক। এ-ও অবসর নেওয়ার একটা বয়স হলো!

কিন্তু এই বয়সেই মারিয়া শারাপোভার মনে হলো, অনেক হয়েছে, টেনিস কোর্টে আর নয়। সোনালি চুলের রুশ সুন্দরী গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়ে দেন, টেনিস কোর্টে আর দেখা যাবে না তাঁকে।

এই দশ মাসে বিশ্বে কত কী ঘটে গেল! করোনা নামের এক দুঃস্বপ্ন এসে পৃথিবীকেই মুড়িয়ে দিয়েছে ভয়ের চাদরে। সেই ভয় জয় করে মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। দুঃস্বপ্ন শেষে সোনারঙা ভোরের আবাহন নিয়ে এরই মধ্যে কয়েকটি টিকাও চলে এসেছে।

এত কিছুর মধ্যে টেনিসে বড় টুর্নামেন্ট বলতে শুধু ইউএস ওপেন আর ফ্রেঞ্চ ওপেনটাই হয়েছে, তা-ও করোনার কারণে দুই দফা পিছিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন হয়েছে সেপ্টেম্বরে। টেনিসই যেখানে আলোচনায় ছিল কম, টেনিসে না থেকে শারাপোভা আর আলোচনায় আসেন কী করে! তা টেনিস ছেড়ে দিয়ে এখন কী করছেন শারাপোভা? সম্প্রতি ইঙ্ক ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকারে সেটি নিয়ে কিছু ধারণা দিলেন পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী শারাপোভা।

বিজ্ঞাপন

শারাপোভা একেবারে যে আলোচনায় ছিলেন না, তা-ও অবশ্য নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই শিরোনাম হয়েছেন। শারাপোভা বলে কথা! শুধু তো টেনিস খেলোয়াড় হিসেবেই নন, মডেল হিসেবেও রুশ টেনিসকন্যার আবেদন আছে। আর আলোচনায় থাকার জন্য তাঁর প্রায় ৪১ লাখ অনুসারীসমৃদ্ধ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তো আছেই! শারাপোভার উপস্থিতি নিয়মিত টের পাওয়া যায় সেখানে।

default-image

আর দশজনের মতো তারকাদের ইনস্টাগ্রাম তো আর এমনি এমনি ছবি দেওয়ার, ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, সেখানে স্পনসরশিপের হিসাবও থাকে। শারাপোভারও অনেক ছবি এসেছে, যেগুলোতে তাঁকে স্পনসর করা কোম্পানির নাম জড়িত।

এর বাইরে নিজের ব্যবসায় বা যৌথভাবে বিনিয়োগ করেছেন, এমন প্রতিষ্ঠানগুলো তো আছেই! আজ এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য দিয়ে ছবি দিচ্ছেন, তো কাল অন্য প্রতিষ্ঠানের। এর বাইরে মহামারির এই সময়টাতে কখনো পাহাড়ে চড়ে, কখনো প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে সময়টা উপভোগ করেছেন তাঁর ভক্তদের প্রিয় ‘মাশা’।

গত ফেব্রুয়ারিতে যখন অবসরের ঘোষণা দিচ্ছিলেন শারাপোভা, বোঝা যাচ্ছিল, অনেক ভোগাতে থাকা ডান কাঁধের চোটটার ধকল আর নিতে পারছিলেন না শারাপোভা। ইঙ্ক সাময়িকীতে সাক্ষাৎকারে শারাপোভা জানালেন সিদ্ধান্তটা ঠিকই ছিল, ‘অবসরের ঘোষণা দেওয়ার আগে কয়েক মাসে এই প্রশ্নটা নিজেই নিজেকে অনেকবার করেছি। এসব ক্ষেত্রে আপনার নিজেকে বুঝতে হবে, আপনি কী অনুভব করছেন, আপনার শরীর কিংবা মন কী বলছে, সেটা দেখতে হবে।’

default-image

টেনিসের বাইরের জীবনের আকর্ষণও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে জানালেন শারাপোভা, ‘পুরো প্রক্রিয়াটা সামলানো কঠিন ছিল, কিন্তু আমার আশপাশের মানুষদের সঙ্গে আলোচনার পর বুঝতে পেরেছিলাম, সিদ্ধান্তটা নেওয়া জরুরি। অনেক বছর আমি শুধু এই খেলাটাতেই সব মনোযোগ দিয়েছি, এখানে সাফল্য পাওয়ার জন্য সবকিছু নিংড়ে দিয়েছি।’

খেলা ছাড়ার পর নতুন একটা দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে তাঁর জন্য। ‘সুগারপোভা’ নামে নিজের একটি আন্তর্জাতিক কনফেকশনারি ব্র্যান্ড তো অনেক আগেই খুলেছেন, যেটিতে শতভাগ মালিকানা তাঁর।

বিজ্ঞাপন

এর বাইরে অন্যদের ব্যবসায়ের পথ খুলে দিতেও এখন কাজ করছেন শারাপোভা। ব্যবসায়ের ধ্যানধারণা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের অভাব—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাভজনক মনে হলে বিনিয়োগ করেন শারাপোভা।

সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের ‘আইডিয়া’ নিয়ে যাওয়া উদ্যোক্তাদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, ‘আপনার কোম্পানিটাকে সবচেয়ে অকৃত্রিম উপায়ে উপস্থাপন করুন। ব্যবসায়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা উদ্যোক্তাদের নার্ভাস হতে দেখলেই আমার ভালো লাগে। সে মুহূর্তটাতে তাঁরা সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে থাকেন। কিন্তু সেখান থেকে তাঁরা কীভাবে বেরিয়ে আসেন, কীভাবে চ্যালেঞ্জ করেন নিজেকে, সেটাই দেখার। তাঁদের ভেতরটা কী দিয়ে তৈরি, তখনই সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।’

সম্প্রতি শরীরকে আরাম দেওয়ার সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেরাবডিতে বিনিয়োগ করেছেন শারাপোভা। ওই প্রতিষ্ঠানের থেরাগান নামে জনপ্রিয় বহনযোগ্য মাসাজের যন্ত্রও আছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল লিগের (এনবিএ) দল ডালাস মাভেরিকসের মালিক মার্ক কিউবানের সঙ্গে মিলে ব্যায়ামের সময়ে পরিধেয় বস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বালা ব্যাঙ্গলসে ৯ লাখ ডলার বিনিযোগ করেছেন শারাপোভা।

টেনিস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন