default-image

বরিস বেকারের পর এই প্রথম কোনো জার্মান পুরুষ হইচই ফেলে দিলেন সেন্টার কোর্টে। এই বিষয়টি মাথায় নিয়ে কেউ যদি বরিস বেকারের সঙ্গে ডাস্টিন ব্রাউনের মিল খুঁজতে বসেন, তাহলে তাঁকে বেশ হতাশই হতে হবে। বেকার-ব্রাউন দুজনেই জার্মান হলেও তাঁদের মধ্যে মিল সামান্যই। প্রথম মিলটি হচ্ছে বয়সে। বেকার মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডনে নিজের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিলেও ব্রাউন নিজেকে চেনাতে সময় নিয়েছেন ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় কথা ব্রাউন তাঁর বেড়ে ওঠার সময়ে যে জীবন কাটিয়েছেন, সেটা বোধ হয় কেবল দুঃস্বপ্নেই পেতে পারতেন বরিস বেকার।
বিশ্বের ১০২ নম্বর খেলোয়াড় হয়ে রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে দেওয়া এই ডাস্টিন ব্রাউনের সাজ-পোশাকই তো আকৃষ্ট হওয়ার মতো। জ্যামাইকান ‘রেগে’ মিউজিক তারকাদের মতো জটাধারী চুল, জিহ্বায় ‘পিয়ার্সিং’, সারা বুকে ট্যাটুর ব্যাপারগুলো হালের সুবোধ চেহারার টেনিস তারকাদের সঙ্গে ঠিক যায় না। সবচেয়ে বড় কথা এই ব্রাউনের জীবনের কাহিনিই তাঁকে আলাদা করেছে আর সবার কাছ থেকে। এমন রোমাঞ্চকর জীবনের গল্প নিয়ে এই ব্রাউন কী তবে টেনিস ইতিহাসেই শোরগোল ফে​লতে আবির্ভূত!
ব্রাউনের বাবা জ্যামাইকান—নাম লিরয় ডাস্টিন। মা জার্মান—নাম ইনজে। জন্মটা জার্মানিতে হলেও বর্ণবাদের হুংকার ছোটবেলাটাকে আনন্দময় করতে পারেনি ব্রাউনের। সঙ্গে ছিল দারিদ্র্যের কশাঘাত। কিন্তু খেলাধুলায় কিছু একটা হওয়ার ইচ্ছাটা তাঁর সব সময়ই ছিল। ছোটবেলা থেকেই একাধারে টেনিস, ফুটবল আর জুডোর অনুশীলনটা চালিয়েছেন পরিবারের উৎ​সাহেই।
জার্মানিতে ছেলের খেলাধুলার বিপুল খরচ সামলাতে না পেরে ১৯৯৬ সালের দিকে ব্রাউনের বাবা-মা ছেলেকে নিয়ে চলে যান জ্যামাইকার মন্টেগ্রো বে’তে। পরে অবশ্য জার্মানিতে ফিরে আসেন। কিন্তু ছেলেবেলায় বাবা-মার কিনে দেওয়া একটি ক্যারাভান ভ্যানই বদলে দেয় ব্রাউনের জীবনের কাহিনি। দেখতে অদ্ভুত এই ক্যারাভানটি অনেক কষ্ট করে বাবা-মা কিনে দিয়েছিলেন ব্রাউনকে। সেই ক্যারাভান নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় টেনিস খেলতে যেতেন এই ব্রাউন। টেনিস র‍্যাকেটের ‘স্ট্রিং’ লাগানো একটি যন্ত্রও তাঁর টেনিস খেলোয়াড় হয়ে ওঠার সংগ্রামে অসম্ভব অবদান রেখেছে। টেনিস খেলতে গিয়ে অন্যান্য খেলোয়াড়দের র‍্যাকেটে স্ট্রিং লাগিয়ে দিয়ে বেশ দু-পয়সা কামাতেন এই ব্রাউন। ​একের পর এক টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও অর্থ কামিয়েছেন তিনি। টাকার অঙ্কটা খুব বেশি না হলেও ওটা না হলে যে আজকের অবস্থানেই আসা হতো না এই ব্রাউনের।
জ্যামাইকায় থাকতেই রেগে সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রিয় শিল্পী ডেনিস ব্রাউন। ব্রাউনের ট্যাটু তাঁর প্রিয় ব্যাপারগুলোর একটি। নাদালকে হারিয়ে ডেনিস ব্রাউনের সেই ট্যাটুটি দর্শকদের দেখিয়ে যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, তোমরা এত দিন ডেনিস ব্রাউনকে দেখেছ। এবার তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত ডাস্টিন ব্রাউন।
তাঁর চুলে এই জটা ওই ডেনিস ব্রাউনের আদলেই। ১৯৯৬ সালের পর থেকে ডাস্টিন ব্রাউন নাকি আর চুল কাটাননি। এই চুলই কিন্তু তাঁকে টেনিসের দুনিয়ায় একটা আলাদা পরিচিতি দিতে বাধ্য। কিন্তু রাফায়েল নাদালকে হারানোর পর এই চুল বোধ হয় টেনিস দুনিয়ার কিংবদন্তিতেই পরিণত হয়ে গেল।
নাদাল-বধের ব্যাপারটি তাঁর টেনিস জীবনের শুরুই বলতে হবে। সামনে পেরোতে হবে অনেকটা পথ। কিন্তু যে বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ডাস্টিন ব্রাউন এই জায়গায় পৌঁছেছেন, তাতে সামনের দিনগুলোর পথচলায় তিনি ভয় পাবেন কেন?
চ্যালেঞ্জ তো সারা জীবনই নিয়ে দেখিয়েছেন টেনিসের এই জটাধারী-সাধু! সূত্র: দ্য মিরর।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0