দুর্দান্ত ওসাকাই হলেন ইউএস ওপেনের রানি

তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হয়ে গেল ওসাকার।
তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হয়ে গেল ওসাকার। ছবি : রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

আগের ম্যাচে সেরেনা উইলিয়ামসকে বিদায় করে দিয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। সাত বছর ধরে একটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার যে আক্ষেপ, সেটা এবার ঘুচতেও পারে, মনে হচ্ছিল প্রত্যয়ী এই বেলারুশ-তারকাকে দেখে। কিন্তু শেষমেশ তারুণ্যের জয়গানই গাইল ইউএস ওপেন। শিরোপা উঠল নাওমি ওসাকার হাতে। ১-৬, ৬-৩, ৬-৩ গেমে আজারেঙ্কাকে হারিয়েছেন তিনি।

অথচ আজারেঙ্কার শুরুটা কী দুর্দান্তই না ছিল! ৬-১ গেমে জিতে নিয়েছিলেন প্রথম সেট। দ্বিতীয় সেটেও এগিয়ে ছিলেন ৩-০ গেমে। মনে হচ্ছিল, ওসাকার পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওসাকা নিজেও বিরক্ত হচ্ছিলেন নিজের খেলা দেখে। একবার নিজের র‍্যাকেটের ওপর বৃথা ক্ষোভ দেখালেন। কোর্টে ছুড়ে ফেললেন 'যুদ্ধাস্ত্র'কে। কিন্তু মেজাজ খারাপ করলে তো আর জেতা হবে না! ওসাকা নিজেও শুধু শিরোপাটা জিততে তো আসেননি, এসেছেন বিশ্বব্যাপী চলমান কৃষ্ণাঙ্গদের 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হয়ে। প্রতি ম্যাচে একেকজনের নাম সংবলিত মাস্ক পরে খেলতে নেমেছেন এই টুর্নামেন্টে, যারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অত্যাচার কিংবা বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। জানিয়েছেন মৌন প্রতিবাদ। ফাইনালে এসেছিলেন 'তামির রাইস' লেখা মাস্ক পরে, ২০১৪ সালে ক্লিভল্যান্ডে ১২ বছর বয়সের যে শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছিল দেশটির পুলিশ।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওসাকা হেরে যাওয়া মানে যে তাদেরও হেরে যাওয়া! তাদের কীভাবে হারতে দেখতে পারেন ওসাকা?

ওসাকা হারেননি। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাকি ম্যাচে। খেলার ধরনে হালকা পরিবর্তন আনলেন। আজারেঙ্কার ফোরহ্যান্ডগুলোর জবাব দিতে থাকলেন লাইনের ধারে গিয়ে, ব্যাকহ্যান্ডের মাধ্যমে। শটগুলো মারতে থাকলেন নিখুঁতভাবে, প্রচণ্ড জোরে। আড়াআড়িভাবে না মেরে সোজা মারা শুরু করলেন। তাতেই আজারেঙ্কার গতি আস্তে আস্তে কমে গেল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে এল ওসাকার হাতে। শেষমেশ শক্তির খেলাতেই পরাজয় মানলেন আজারেঙ্কা।

ম্যাচ জেতার জন্য ওসাকা যে কী পরিমাণ বদ্ধপরিকর ছিলেন, জানা গেছে ম্যাচ শেষে, 'আমি যখন অতিরিক্ত জেতার ব্যাপারে চিন্তা করি, তখনই সমস্যা হয়। আমি আর আমি থাকি না। জেতার জন্য শান্ত থাকা খুব জরুরি। কিছুক্ষণ খেলার পর মনে হচ্ছিল, জেতা হবে না। পরে ভাবলাম, আমি একটা ফাইনাল খেলতে এসেছি। অনেক মানুষ ফাইনাল খেলতে চায়। এমন অবস্থায় এক ঘণ্টায় ৬-৩, ৬-০ সেটে হারতে পারি না আমি।’

ওসাকাকে হারতেও হয়নি। আর হারেননি দেখেই ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা শোভা পাচ্ছে তাঁর শো কেসে এখন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন