বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঝামেলাটা মূলত দেখা দিয়েছে জোকোভিচের টিকা নেওয়া না নেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার কারণে। টিকা নিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর কখনো দেননি জোকোভিচ। তবে সার্বিয়ান তারকা টিকাবিরোধী বলে বাজারে গুঞ্জন চাউর আছে।

গত এপ্রিলে এক ফেসবুক লাইভে জোকোভিচ বলেছিলেন, ‘তাঁকে টিকা নিতে কেউ বাধ্য করতে পারবে না।’ টিকা না নিলে টেনিসের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার ক্ষেত্রে ঝামেলার মুখে পড়তে হবে, এমন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নেও বিরক্তি জানিয়েছিলেন জোকোভিচ।

একে তো জোকোভিচের টিকা নিয়ে বিরোধিতার কথা বাজারে প্রচলিত, তার ওপর করোনা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার সরকার সব সময়ই কঠোরতা দেখিয়ে এসেছে। একের পর এক লকডাউন দিয়েছে সরকার, কড়া কোয়ারেন্টিন নিয়ম মানতে হয় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া যে কাউকেই, এমনকি সে দেশের ভেতরেই এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় ৭ থেকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পালন করতে হয়।

সে কারণে জোকোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। সার্বিয়ান তারকা নিজেও দিন কয়েক আগে সংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সব পাল্টে যায় গত মঙ্গলবার। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জোকোভিচ লেখেন, ‘ছুটির সময়ে কাছের মানুষের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে। আজ আমি ছাড়পত্র নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছি। ২০২২ দারুণ কাটুক!’

এর কিছুক্ষণ পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আয়োজকেরাও বিবৃতি দিয়ে জোকোভিচের ‘ছাড়পত্র’ পেয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেয়।

default-image

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রড লেভারের মতো টেনিস কিংবদন্তিও এটি ভালোভাবে নেননি। আয়োজকেরা অবশ্য বলছেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচকে কোনো আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু একদিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরও গত কিছুদিনে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের মতো অস্ট্রেলিয়ায়ও করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলেছে, তার ওপর জোকোভিচের ক্ষেত্রে তারকা ভাবমূর্তির কারণে ছাড় পাওয়ার সন্দেহ করছেন সাধারণ মানুষ।

অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের বেশি বয়সী সব মানুষের ৯০ শতাংশই টিকার দুই ডোজ পেয়েছেন, অনেকে বুস্টার ডোজও পেয়েছেন, তবু এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে বা দেশের বাইরে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অনেক কঠোর নিয়মকানুন মানতে হয়।

এর আগেও বিনোদন, ক্রীড়া ও রাজনীতি জগতের অনেক তারকার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সরকার নিয়মকানুন শিথিল করেছে বলে অভিযোগ এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষের দিক থেকে। অথচ সাধারণ মানুষ কঠোর নিয়ম এড়িয়ে তাঁদের অসুস্থ কিংবা মৃত্যুপথযাত্রী প্রিয়জনের কাছেও যেতে পারেন না।

ক্রিস্টিন হোয়ারটন নামের মেলবোর্নের এক বাসিন্দাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, ‘ফালতু একটা ব্যাপার হচ্ছে। আমরা (সাধারণ মানুষ) সবকিছু ঠিকঠাক করছি, সবাই টিকা-বুস্টার ডোজ নিয়েছি। আর এখন বাইরের দেশ থেকে একজন আসছেন, যাঁকে সব নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হলো এবং তিনি খেলতে পারবেন!’

স্টিফেন পারনিস নামের এক ডাক্তারের টুইটও তুলে ধরেছে বিবিসি, ‘তিনি কত ভালো টেনিস খেলোয়াড়, তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। তিনি যদি টিকা নিতে রাজি না থাকেন, তাহলে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।’

default-image

এমনকি শারীরিক কারণে টিকা নিতে পারছেন না বলে যে জোকোভিচ চিকিৎসাবিষয়ক ছাড়পত্র পেয়েছেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টেনিস খেলোয়াড় রড লেভারই, ‘হ্যাঁ, আপনি টেনিসের গ্রেটদের একজন, আপনি দারুণ খেলেন, অনেক টুর্নামেন্ট জিতেছেন। তার মানে তো (টিকা না নিতে পারার) ব্যাপারটা শারীরিক নয়! তাহলে সমস্যাটা কোন জায়গায়?’

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর এত বিতর্কের মধ্যেই তাই আজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মরিসন জানিয়ে দিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর জোকোভিচকে ‘চিকিৎসাবিষয়ক ছাড়পত্র’ পাওয়ার যথাযথ কারণ ও প্রমাণ দেখাতে হবে। ‘যদি তাঁর জমা দেওয়া প্রমাণাদি যথেষ্ট না হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁকে অন্য কারও থেকে আলাদাভাবে দেখা হবে না। নোভাক জোকোভিচের জন্য কোনো আলাদা নিয়ম থাকবে না। একেবারেই না।’

আর যথোপযুক্ত প্রমাণ না পেলে? স্কট মরিসন বিশদ উত্তরই দিয়েছেন, ‘আমার কথা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে চাওয়া যে কাউকেই আমাদের সীমানার নিয়মনীতি মানতে হবে। নোভাক জোকোভিচ যখন অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকবেন, তিনি যদি টিকা না নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে তাঁকে যথাযথ চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ দিতে হবে যে শারীরিক কারণে তিনি টিকা নিতে পারছেন না। আমরা তাই অপেক্ষায় আছি, তিনি কী প্রমাণাদি দেন, সেটি দেখার। যদি প্রমাণাদি যথাযথ না হয়, তাহলে অন্য কারও চেয়ে আলাদা ব্যবস্থা তাঁর জন্য করা হবে না, পরের প্লেনেই তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে আজই মেলবোর্নে পৌঁছেছেন জোকোভিচ। তবে এরপর কী হয়েছে, সেটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

টেনিস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন