বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্ত্রী ও ৬ সন্তানের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো রামহিমের পাদরি বাবা জুয়ামডো বমের। আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না বলে লামার অবৈতনিক কোয়ান্টাম কসমো স্কুলে ভর্তি করে দেন বড় ছেলে রামহিমকে। এই স্কুলে পড়ার সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন রামহিম। ২০১৩ সালে স্কুলের পক্ষ থেকেই ছাত্রদের টেবিল টেনিস খেলা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাতে সহায়তা করেন টেবিল টেনিস ফেডারেশনের তৎকালীন ডেভেলপমেন্ট কমিটির সম্পাদক এনায়েত হোসেন। ঢাকা থেকে তিনি খেলার টেবিলসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও কোচ পাঠাতেন লামার সেই স্কুলে।

মজার ব্যাপার হলো, খেলায় হাতেখড়ির আগে কখনো টেবিল টেনিসের টেবিলই দেখেননি রামহিম! খেলার নিয়মকানুনও জানতেন না। পল্টন শহীদ তাজউদ্দীন ইনডোরে দাঁড়িয়ে সেই স্মৃতিচারণাই করছিলেন রামহিম, ‘প্রথম যখন খেলার জন্য টেবিল বসানো হয়—ভেবেছিলাম, এটা আবার কেমন খেলা! এরপর স্যারেরা ঢাকা থেকে গিয়ে হাতে–কলমে খেলা শিখিয়েছেন।’

টেবিল টেনিস ব্যাট–বলের ভাষাটা খুব দ্রুতই শিখে ফেলেন রামহিম। স্কুলে সকাল–বিকেলে ২ ঘণ্টা করে অনুশীলন করতেন। ২০১৪ সালে প্রথম সাফল্য পান জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে, জেতেন ব্রোঞ্জ। ২০১৮ সালে বিকেএসপি কাপে হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। ২০১৯ সালে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য রামহিমকে দিল্লি পাঠিয়েছিল ফেডারেশন। গত বছর কুমিল্লায় হওয়া আন্তস্কুল ও মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুলকে দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা ছিল রামহিমের। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার টিটি লিগে বাংলাদেশ পুলিশ হয়েছে রানার্সআপ। ওই দলে খেলেছেন রামহিম। এরপর গত এপ্রিলে বাংলাদেশ গেমস টিটিতে ছেলেদের দলগত সোনা জেতে পুলিশ। সেখানেও ভালো খেলেন রামহিম। ৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ফেডারেশন কাপ র‌্যাঙ্কিং টিটিতে চতুর্থ হয়ে সুযোগ পেয়ে যান প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি পরার।

এসএ গেমস টেবিল টেনিসে রুপা জিতলেই সন্তুষ্ট বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। কিন্তু রামহিমের কণ্ঠে সাহসী উচ্চারণ, ‘স্যাররা বলেন, এসএ গেমসে রুপা জিততে হবে। কিন্তু আমি বলি, রুপা নয়, সোনা জিততে চাই আমরা। সেই স্বপ্ন নিয়েই কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছি।’

পরিবারে রামহিমই প্রথম খেলোয়াড়। অথচ সেই তিনিই টেবিল টেনিস খেলে গত মৌসুমে এক লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন বাবার হাতে। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাবাকে সাহায্য করতে পেরে খুশি রামহিম। প্রথমবার দেশের বাইরে খেলতে যাওয়ার আগে ঘোরলাগা বিস্ময় তাঁর চোখে, ‘আমারও প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না যে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি। এই জার্সির সম্মান ধরে রাখতে নিজের সেরাটা দিয়ে খেলতে চাই।’

বান্দরবান, বগা লেক— প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই এসব জায়গাকে চেনে সবাই। টেবিল টেনিস নিয়ে রামহিমের স্বপ্ন পূরণ হলে হয়তো একদিন তাঁর নামেও মানুষ চিনবে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই প্রত্যন্ত এলাকাকে।

টেনিস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন