বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্লাস্ট বলেছে, সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। মৌলিক অধিকারের বিধানের সঙ্গে ওটিটির খসড়া নীতিমালাটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। নীতিমালাটি অনেক ক্ষেত্রেই সৃজনশীল শিল্পকর্ম এবং স্বাধীন মত প্রকাশের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো নিষিদ্ধ কনটেন্ট অপসারণে ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে বাধ্য করতে পারবে যা আর্ন্তজাতিক মানদন্ডের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও এর সামঞ্জস্যতা রেখে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক বলে জানিয়েছে ব্লাস্ট।

খসড়া নীতিমালায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৮ এর মতো ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধে আঘাত করে এমন কিছু ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক আকারে যে কোনো তথ্য প্রকাশ/সম্প্রচার করা যাবে না বলা হয়েছে। ব্লাস্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি অনেক ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। ওটিটি খসড়াটিরও অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত প্ল্যাটফর্ম কোনো নিষিদ্ধ কন্টেন্ট সম্প্রচার করলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ তা অপসারণের জন্য নির্দেশ দেবে। এক্ষেত্রে কারণ দর্শানো, ব্যাখ্যা বা স্বপক্ষে যুক্তির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এটা ন্যায়বিচার এর পরিপন্থী বলে জানিয়েছে ব্লাস্ট।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ‘ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন রেগুলেশন-২০২১’ নামে একটি খসড়া প্রবিধানও সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। এ প্রবিধান নিয়েও কিছু পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে ব্লাস্ট।

ব্লাস্ট বলছে, খসড়া প্রবিধানটির সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওটিটি খসড়া নীতিমালার অনেক সাদৃশ্য রয়েছে যা প্রায়োগিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া বিটিআরসির খসড়া নীতিমালাটি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩৮ ধারা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন