গোল্ড আনোয়ারকে যে কারণে টাকা ধার দিয়েছে রূপালী ব্যাংক

খবর: ফেনীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোল্ড আনোয়ারকে কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই ১৫১ কোটি টাকার ঋণসুবিধা দিয়েছে রূপালী ব্যাংক।

(সূত্র: প্রথম আলো, ২৮ নভেম্বর ২০১৬)

আঁকা: শিখা
আঁকা: শিখা

l সম্ভবত রূপালী ব্যাংক টাকা রাখার জায়গা পাচ্ছিল না। টাকায়-টাকায় ব্যাংকের ভল্টটল্ট উপচে পড়ছিল হয়তো। ‘এত টাকা লইয়া আমরা কী করিব’, ‘কার কাছে যাইব’-টাইপের ঝামেলায় পড়াতেই তারা গোল্ড আনোয়ারের শরণাপন্ন হয়।

l সমাজে আজকাল সোনার মানুষের বড় আকাল। ঠগ-বাটপাড়ে ভর্তি সব জায়গা। এই ব্যাপারটাই রূপালী ব্যাংককে বেশ ভাবিয়ে তোলে। হতে পারে রূপালী ব্যাংক গোপনে গোপনে বিকল্প উপায়ে ‘সোনার মানুষ’ গড়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তার অংশ হিসেবেই...

l টাকার গায়ে যেমন লেখা থাকে, ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’ তেমনই রূপালী ব্যাংকেরও মূলনীতি সম্ভবত ‘চাহিবামাত্র (আগপিছ না ভাবিয়া) গ্রাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’।

l সুখে থাকার কারণে রূপালী ব্যংকের পরিচালনা পর্ষদকে ভূতে ধাম ধাম করে কিলাতে লাগল। আর এই কিলের চোটেই আগপিছ না ভেবে গোল্ড আনোয়ারকে টাকা দিয়ে দেয় তারা। অতএব দোষ যদি কিছু হয়ে থাকে তবে তার পুরোটাই ওই পাজি আর বেয়াদব ভূতের।

l প্রায়ই ব্যাংক নিয়ে ‘দুষ্টু’ মানুষ অনেক পচা পচা কথা বলে। প্রয়োজনের সময় ব্যাংক ঋণ দেয় না রে, এই করে না রে, সেই করে না রে...। ব্যাংক নিয়ে এসব দুর্নাম ঘোচাতেই সব নির্যাতিত-নিপীড়িত ব্যাংকের পক্ষ নিয়ে রূপালী ব্যাংক এটা করেছে।

l হাতেম তাঈ আর গৌরী সেনের মতো রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেরও মনটা অনেক নরম। তাই আনোয়ার যেই-না ঋণ চাইলেন, অমনি তাদের হৃদয় গলেটলে একাকার হয়ে গেল!

l রূপালী ব্যাংক আসলে একটা ব্যতিক্রম জিনিস করতে চেয়েছে। যুগ যুগ ধরে মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রেখে আসছে। কিন্তু ব্যাংকেরও তো সাধ-আহ্লাদ বলতে কিছু আছে! তা ছাড়া কে কোন দিক দিয়ে সুড়ঙ্গ কাটে, তারও তো ঠিকঠিকানা নেই। তাই সাধ-আহ্লাদের কারণে কিংবা নিরাপত্তার স্বার্থে রূপালী ব্যাংক গোল্ড আনোয়ারের কাছে নিজেদের বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রাখে।