যে কারণে গোল্ড আনোয়ারকে আরও ঋণ দেওয়া উচিত

রস+আলো মনে করে, গোল্ড আনোয়ারকে আরও বেশি করে ঋণ দেওয়া উচিত। কারণ দেখিয়েছেন আসফিদুল হক

* গোল্ড আনোয়ার নিজেই স্বীকার করেছেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে ১৫১ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের মাথাব্যথা হচ্ছে, তাঁকে কেন এখনো ন্যায়সংগতভাবে ঋণসুবিধা দেওয়া হচ্ছে না? তিনি কি এ দেশের নাগরিক নন? তাঁকে কি সারা জীবন অন্যায়ভাবেই ঋণসুবিধা নিয়ে যেতে হবে? কেন তাঁর সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক আচরণ? আমরা গোল্ড আনোয়ারের প্রতি রূপালী ব্যাংকের এই প্রতিহিংসামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে তাঁকে ন্যায়সংগতভাবে আরও ১৫১ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দেওয়ার জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এক মাসের মধ্যে আমাদের এই দাবি না মানলে ফেসবুকে ইভেন্ট খোলাসহ আরও তীব্র আন্দোলন শুরু করা হবে।

* গোল্ড আনোয়ার একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তবে স্বপ্ন যে তিনি

শুধু নিজেই দেখেন, তা নয়, আশপাশের সবাইকেও একই স্বপ্ন দেখান। একইভাবে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাঁর দুটি স্বর্ণের দোকানের নিচে আসলে

বিশাল স্বর্ণের খনি লুকিয়ে আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ব্যাংকের লোকজন তাঁর স্বপ্নের অর্ধেকটা দেখেছিলেন, মানে স্বর্ণের দোকানটাই দেখেছিলেন, স্বর্ণের খনি পর্যন্ত

যেতে পারেননি। সুতরাং আমরা আশা করতেই পারি তাঁর স্বপ্নে দেখা স্বর্ণের খনির জন্যও আরও কিছু ঋণসুবিধা

দেওয়া হবে।

* গোল্ড আনোয়ারকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে নথিপত্র শাখা, জোনাল অফিস ও প্রধান কার্যালয়—সব জায়গা থেকেই উধাও হয়ে গেছে। ঋণের নথিপত্রই নেই অথচ সবাই সেটাকে বলছেন অন্যায় ঋণসুবিধা! আমরা আশা করছি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গোল্ড আনোয়ারকে নতুন করে আবার ১৫১ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দেবে এবং সেটার নথিপত্রগুলো ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করে রাখবে।

* রূপালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যাচ্ছে, ঋণের পুরোটাই স্বর্ণের ব্যবসার নামে নেওয়া হলেও এ দিয়ে ফেনীতে প্রায় দেড় হাজার শতক জমি কিনেছেন আনোয়ার। কারণ, গোল্ড আনোয়ার ভেবেছিলেন, তিনি জমিতে স্বর্ণের চাষ করবেন। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় তাঁর কোনো জমিতেই স্বর্ণ উৎপাদন আশানুরূপ হয়নি। সুতরাং সামনের মৌসুমে যাতে গোল্ড আনোয়ার ভালোভাবে স্বর্ণ উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য তাঁকে আরও কিছু ঋণসুবিধা দেওয়া ব্যাংকের কর্তব্য।

* শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্বর্ণের খনির নাম। কিন্তু গোল্ড আনোয়ার চেয়েছিলেন, ফেনীতেও এ রকম একটা স্বর্ণের খনি স্থাপন করবেন। সে কারণেই তিনি ঋণের টাকা দিয়ে প্রায় দেড় হাজার শতক জমি কিনেছিলেন। কিন্তু শুধু জমি কিনলেই তো হবে না, সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও নির্মাণ করতে হবে। আর এ জন্য চাই আরও টাকা, আরও ঋণসুবিধা। সুতরাং এ ক্ষেত্রেও গোল্ড আনোয়ারের আরও কিছু ঋণ প্রাপ্য।

* কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই গোল্ড আনোয়ারকে ১৫১ কোটি টাকার ঋণসুবিধা দিয়েছে রূপালী ব্যাংক—এই তথ্যই প্রমাণ করে তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নন। তিনি ‘অতিমানব’। কিন্তু একজন অতিমানবকে মাত্র ১৫১ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দেওয়া আমাদের জন্য লজ্জার, কষ্টের। প্রকৃতপক্ষে, ‘অতিমানব’ কোটায় কমপক্ষে হাজার কোটি টাকার ঋণসুবিধা পাওয়া জনাব গোল্ড আনোয়ারের অধিকার।

* গোল্ড আনোয়ারের প্রতি রূপালী ব্যাংকের উদারহস্ত বন্ধ হয়েছে মূলত গত জুলাই মাসে নতুন এমডি আসার পর। এর আগে যিনি এমডি ছিলেন, তিনি নাকি উদার হস্তে গোল্ড আনোয়ারকে ঋণসুবিধা দিয়েছেন। এই তথ্যও আমাদের মানুষ হিসেবে লজ্জিত করে। এমডি যাবেন, এমডি আসবেন, তাই বলে উদারহস্ত বন্ধ হবে কেন? মানবিক কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উচিত, উদারহস্তের বদলে উদার বস্তাভর্তি ঋণসুবিধার নতুন নতুন দ্বার গোল্ড আনোয়ারের সামনে উন্মোচন করা হোক।