আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এই রহস্যময় সুড়ঙ্গ। পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ির নিচে আলুটিলা পাহাড়ের পাদদেশে পাথর আর শিলামাটির ভাঁজে গড়া এ রহস্যময় সুড়ঙ্গ। গুহামুখের ব্যাস প্রায় ১৮ ফুট। আলুটিলার গুহায় যেতে হলে প্রথমেই আপনাকে টিকিট কেটে নিতে হবে মূল গেট থেকে। এরপর মশাল কিনে নিতে হবে। প্রধান গেট দিয়ে ঢোকার পর বেশ খানিকটা পাহাড়ি পথ পেরুলেই মিলবে গুহার সন্ধান। গুহার পাথরগুলো পিচ্ছিল হওয়ার কারণে পা পিছলে যায়, এমন স্যান্ডেল বা জুতা পরা যাবে না। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য মুঠোফোনের টর্চ বা টর্চলাইট নিয়ে যেতে পারেন সঙ্গে করে।

আমাদের আলুটিলা গুহা ভ্রমণ

আলুটিলা গুহার রহস্য ও ভ্রমণে অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে আমরা তিন বন্ধু (আমি, বিমল, তানজিম ফারুক) আলুটিলা গুহা ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। রীতিমতো আমরা ফেনীর মহিপাল থেকে বাসে উঠি খাগড়াছড়ি শহরের উদ্দেশে। ফেনী থেকে যেতে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। আমরা দুপুর ১২টায় পৌঁছাই খাগড়াছড়িতে। এরপর দুপুর হওয়াতে আমরা দুপুরের খাবার শেষ করে নিই। এরপর আমরা একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে আসি, যেখানে এই রহস্যময় গুহার অবস্থান। এরপর টিকিট কেটে আমরা পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ করি। এই পর্যটনকেন্দ্রের প্রধান আর্কষণ হলো গুহাটি। অবশেষে আমরা গুহার কাছাকাছি চলে আসি হাঁটতে হাঁটতে। অনেকগুলো সিঁড়ি বেয়ে নামতে হয় গুহাতে। এরপর আমরা গুহার মধ্যে খুবই অন্ধকার হওয়াতে মুঠোফোনের লাইট জ্বালিয়ে পার হই। যদিও পার হওয়ার বিষয়টা বলা যতটা সহজ, পার হওয়া এতটা সহজ নয়। অনেক পিচ্ছিল পথ, অন্ধকার, শীতল জায়গা, খুব উঁচু–নিচু পাথরখণ্ডের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। আবার গুহার মধ্যে একটু পানিও থাকে। সবকিছু কিছুটা জটিল। তারপরও আমরা অবশেষে পার হলাম গুহাটি। এরপর সেই পর্যটনকেন্দ্রে আর গুরুত্বপূর্ণ স্থান না থাকায় আমরা জায়গাটি ত্যাগ করি।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে যেকোনো পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। কেউ চট্টগ্রাম থেকে আসতে চাইলে চট্টগ্রামের যেকোনো জায়গা থেকে খাগড়াছড়ি শহরে চলে আসা যায় বাসে করে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি শহরে চলে আসা যায়। তারপর খাগড়াছড়ি শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাইক, টমটম, বাস ইত্যাদিতে করে চলে আসা যায় আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশমুখে। আর পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে গুহা।

কোথায় খাবেন

খাগড়াছড়ি শহরের আশপাশে বা শহরে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। যেকোনো মূল্যের খাবার খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শহরে পৌঁছালে রেঁস্তোরার অভাব হবে না। যেকোনো রেস্তোরাঁয় ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

কোথায় থাকবেন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা হওয়ায় শহর ছাড়া বাইরের হোটেলগুলোতে থাকা উচিত নয়। শহরে কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। হোটেলগুলো ভালো মানের। চাইলে কেউ শহরকেন্দ্রিক যেকোনো হোটেলে বিশ্রাম নিতে পারবেন।

অবশেষে পর্যটনকেন্দ্রগুলো ভ্রমণের সময় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আমার দ্বারা অন্যদের ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের ক্ষতি না হয়। খাবারের উচ্ছিষ্ট যেখানে সেখানে না ফেলা, প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করা, কোনো বন্য প্রাণীকে আঘাত না করা, আইনবহির্ভূত কোনো কাজ না করা। মূল কথা হলো নিজে উপভোগ করুন, অন্যকেও উপভোগ করার সুযোগ করে দিন।

*লেখক: মাজহারুল ইসলাম শামীম, শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ