বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, টুটু এমন একজন বিশ্বনেতা ছিলেন, যাঁর মানবতাবোধ ও সুউচ্চ নৈতিক অবস্থান ছিল। তিনি আজীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।

যুক্তরাজ্যের আর্চবিশপ অব ক্যানটারবেরি জাস্টিন ওয়েলবি আগেই রেকর্ড করা এক বার্তায় বলেন, বিশ্বের মানুষ যখন অন্ধকারে ছিল, তখন অন্ধকারে আলোকচ্ছটা ছিলেন তিনি (টুটু)। বিশ্বজুড়ে ভয়, সংঘাত, নিপীড়ন ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি আলো দেখিয়েছেন।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হুইলচেয়ারে বসে অংশ নেন টুটুর স্ত্রী নোমালিজো লেয়াহ। তিনি বেগুনি রঙের স্কার্ফ পরে এসেছিলেন। টুটুর ধর্মীয় কাজে অংশ নেওয়ার পোশাকের রং ছিল বেগুনি। সিরিল রামাফোসাও অনুষ্ঠানে বেগুনি টাই পরে এসেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন টুটুর মেয়ে রেভারেন্ড নোনটোম্বি নাওমি টুটু।

ক্যাথেড্রালের বাইরে টুটুর বিশাল একটি ছবি টানানো হয়েছিল। সেখানে গত দুই দিন সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে টুটুকে স্মরণ করেন। তাঁদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বৃহস্পতি ও শুক্রবার টুটুর মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছিল।

কেপটাউনের সিটি হলের সামনে বড় পর্দায় কয়েক শ মানুষ টুটুর শেষকৃত্য সরাসরি দেখেন। সেখানে টুটুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ৫৪ বছরের মামা ফিলা। এই নারী বলেন, ‘টুটু আমাদের ভালোবাসা, ঐক্যবদ্ধতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমরা আজ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।’

ডেসমন্ড টুটুর জন্ম ১৯৩১ সালে, সোনার খনির শহর হিসেবে পরিচিত ক্লার্কসডর্পে। তাঁর বাবা জাকারায়া ছিলেন শিক্ষক এবং মা আলেটা ছিলেন গৃহিণী। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের জন্য স্কুলে পড়ালেখার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন।

টুটু বিশপ ট্রেভর হাডলস্টন এবং অন্য বর্ণবাদবিরোধী শ্বেতাঙ্গ পাদ্রিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে গির্জার যাজক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাংলিকান ডিন নির্বাচিত হন টুটু।

বর্ণবৈষম্য বিলুপ্ত করার সংগ্রামে ভূমিকা রাখার জন্য ১৯৮৪ সালে টুটুকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

টুটু ছিলেন দেশ-বিদেশের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সমসাময়িক ছিলেন টুটু।

ম্যান্ডেলা কারাগারে থাকাকালে তাঁর আন্দোলন এগিয়ে নেন টুটু ও তাঁর সহযোগীরা। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গঠিত বর্ণবাদবিরোধী ‘সত্যানুসন্ধান কমিটি’র প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন