রাজ্য সীমান্ত খুলে দেওয়া নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারগুলো
রাজ্য সীমান্ত খুলে দেওয়া নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারগুলোছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্য সীমান্ত খুলে দেওয়া নিয়ে চরম মতবিরোধের মুখোমুখি দেশটির মুখ্যমন্ত্রীরা। চলমান করোনাভাইরাসের সংকটে লকডাউনের পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্তগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, জুন মাস থেকে কোনো কোনো রাজ্যে সংক্রমণ বাড়লেও কোনো কোনো রাজ্যে সংক্রমণ কমতেও থাকে। ফলে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির রাজ্য সরকারগুলো।

সীমান্তে বিরোধের কারণ হিসেবে দলীয় রাজনীতিকে মুখ্য মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দেশটির সরকারপ্রধান ও নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী লিবারেল পার্টির হলেও ভিক্টোরিয়া, কুইন্সল্যান্ড, এমনকি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকার দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির ক্ষমতায়। দেশটির অন্যতম প্রধান দুই রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া রাজ্য সীমান্তে এখনো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত চালু করতেও নারাজ দেশটির কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার। এ নিয়েও মুখোমুখি রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গ্ল্যাডিস বেরেজিক্লিয়ান ও কুইন্সল্যান্ডের অ্যানাস্তেসিয়া প্যালেশে। কুইন্সল্যান্ডের সীমান্ত বন্ধ প্রসঙ্গে এটি রাজ্য সরকারের ‘পাগলাটে রাজনীতি’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্র্যাড হেজার্ড।

বিজ্ঞাপন

তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশটির অভ্যন্তরীণ সীমান্ত খুলে দিতে চায় দেশটির ফেডারেল সরকার। প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশকারীদের সংখ্যাও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, যাঁরা অন্য দেশে আটকে রয়েছেন; তাঁদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ফেডারেল সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে আরও জোর দিচ্ছে। প্রায় ২৩ হাজার অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে চার হাজার মানুষকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার সংসদে বক্তব্য দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আর তখনই প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দ্বিমত প্রকাশ করে দেশটির ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া রাজ্য সরকার। এ প্রসঙ্গে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মুখ্যমন্ত্রী মার্ক ম্যাকগোয়ান বলেন, ‘আমাদের রাজ্য ফেডারেল সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নয়, যেখানে আমরা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য স্থানের মতো ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াতে কোনো আর্থিক মন্দাবস্থা বিরাজ করছে না। তাই আমরা আগেভাগেই সীমান্ত খুলে দিতে চাই না।’ যদিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাস ছেড়ে যাওয়ার জন্য সব যাত্রীর বাসে ওঠার প্রয়োজন পড়ে না।

মন্তব্য পড়ুন 0