default-image

এ এক অদ্ভুত গৃহযুদ্ধতুল্য আমরা-ওরায় ভাগাভাগি। অভিনব এবং অদৃশ্যপূর্ব এই রেষারেষিতে অজাতশত্রু মানব-মানবীরাও আজ ধরাতলে। এক লহমায় মলিন ও ম্লান হয়েছে প্রাতঃস্মরণীয় কৃতীদের এ–যাবৎ অর্জিত গৌরবগাথা। অভাবনীয় এই রূপান্তরের নেপথ্য কারিগর তাঁরা, সাইবার যুগে যাঁরা ‘নেটিজেন’ বিশেষণে বিভূষিত, সামাজিক মাধ্যমে নিত্য যাঁরা রাজা-উজির বধ করে চলেছেন। যাঁদের দেখে মনে হতে পারে, শেষ বিচারের ভার শুধুই তাঁদের। শেষ কথা বলার মালিকও যেন একমাত্র তাঁরাই।

ভারতের কৃষক বিদ্রোহ এই অভাবনীয় বৈরিতার পরোক্ষ কারণ বলাটা হয়তো অত্যুক্তি হবে না। কেননা কৃষক আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত।

বিতর্কিত তিন কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে সমসাময়িক ভারতের রাজনীতি ও সমাজ এই মুহূর্তে উত্তাল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বড় মুখ করে যে আইনকে অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার বলে জাহির করছে, সত্যি বলতে কি, করোনাজনিত লকডাউনের সুযোগে তা বড়ই চটজলদি রূপায়িত।

বিজ্ঞাপন

বিতর্কিত কৃষি আইন

দেশজোড়া লকডাউনের মধ্যে গত বছর জুন মাসে সরকার প্রথমে তিনটি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর সেপ্টেম্বরে খণ্ডিত ও ক্ষণস্থায়ী সংসদীয় অধিবেশনে তিন অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বলীয়ান বিজেপি সংসদীয় রীতি ও বিধিকে হেলায় পাশ কাটিয়ে প্রায় বিনা আলোচনায় ধ্বনিভোটের আশ্রয় নিয়ে বিল তিনটি পাস করিয়ে নেয়। এত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের আগে যে পর্যাপ্ত বিতর্কের প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। আরও বিবেচনার জন্য বিলগুলো সংসদীয় সিলেক্ট কমিটি বা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানোর পরামর্শও আমলে নেওয়া হয়নি।

কৃষিক্ষেত্রে যাঁদের অভিমত জানা বিশেষভাবে জরুরি ছিল, সেই কৃষক সংগঠনগুলোর আরজি ও দাবিও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। যাঁদের ‘মঙ্গলের জন্য’ এই সংস্কার, সেই কৃষক মহলের আস্থাভাজন হওয়ার কোনো তাগিদ আছে বলে সরকারের মনে হয়নি। যার ফলে সেই জুন থেকে অসন্তোষের ধিকি ধিকি আগুন আজ দাউ দাউ জ্বলতে শুরু করেছে। দিল্লির তিন সীমান্ত আজ আড়াই মাস ধরে অবরুদ্ধই শুধু নয়, পুলিশি নিরাপত্তার এলাহি বন্দোবস্ত দেখে সীমান্তবর্তী ওই এলাকা কাশ্মীর বলে ভ্রম হয়! মনে হয়, স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক ও দেশের অন্নদাতারা আজ যেন প্রধান শত্রু! যুদ্ধ ঘোষণা যেন তাঁদেরই বিরুদ্ধে!

সরকার ও আন্দোলনকারী কৃষকসমাজ দুই পক্ষই নিজেদের গোঁয়ে অটল। কবে ও কীভাবে এই অচলাবস্থার অবসান হবে, কেউ জানে না।

এই আন্দোলন ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে গৃহযুদ্ধতুল্য আমরা-ওরায় ভাগাভাগি। ঘটে গেছে কৃষক আন্দোলনের আন্তর্জাতিকীকরণ।

আন্দোলন রুখতে যুদ্ধপ্রস্তুতি

দিল্লিঘেরা হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের তিন সীমান্ত সিংঘু, টিকরি ও গাজিপুরে কৃষকদের আবদ্ধ রাখতে এবং ২৬ জানুয়ারির দিল্লি অভিযানের মতো ভবিষ্যৎ কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি রুখতে রাজধানীর পুলিশ যা করেছে, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ছাড়া তাকে অন্য কিছু বলা যায় না। রাস্তা কেটে, পাঁচিল তুলে, ট্রাক্টরের চাকা ফুটো করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন লোহার সুচালো গজাল ও পেরেক প্রশস্ত রাজপথে গেঁথে শয়ে শয়ে সশস্ত্র পুলিশ যেভাবে দিবারাত্র দাঁড়িয়ে, তাতে মনে হয় বিপক্ষের মানুষজন দেশের অন্নদাতা নন, সাক্ষাৎ বিপদ! যেন তাঁদের হাতেই ধরা সেই মরণকাঠি, যার ছোঁয়ায় দেশ উচ্ছন্নে যাবে!

default-image

কৃষকদের এই আন্দোলন এবং তাঁদের ঘিরে ফেলার সরকারি উদ্যোগের ছবি ও কাহিনির নিরন্তর প্রচারে প্রভাবিত বিশ্বজনতার জিজ্ঞাসা ও বিস্ময় ভারত সরকারকে এতটাই বিব্রত ও বিড়ম্বিত করে তোলে যে খামোখা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সরকার শুধু নিজেকেই সমালোচনাবিদ্ধ করেনি, অজান্তে কৃষক আন্দোলনেরও আন্তর্জাতিকীকরণ করে ফেলেছে। আপাতত চলছে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা, যার প্রধান অঙ্গ অতিপরিচিত উগ্র দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ।

ময়দান থেকে টুইটারে যুদ্ধ

পপ স্টার রিয়ানার এক টুইট দিয়ে এই অধ্যায়ের শুরু। কৃষক আন্দোলনের স্থলে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে দেওয়া নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের করা একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে তাঁর অতিনিরীহ অথচ বিস্মিত প্রশ্ন, ‘এ নিয়ে আমরা কথা বলছি না কেন?’ একা রিয়ানা হলে না হয় কথা ছিল, কিন্তু দোসর হয়ে উঠলেন অতিপরিচিত জলবায়ু আন্দোলনকর্মী অষ্টাদশী গ্রেটা থুনবার্গ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের আইনজীবী বোনঝি মীনা হ্যারিস।

সামান্য ব্যবধানে এই ত্রয়ীর টুইট-নির্ভর সমালোচনা সরকারকে এতটাই তাঁতিয়ে তোলে যে তালজ্ঞান হারিয়ে খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবাদ জানিয়ে বসে। প্রতিবাদের সলতেটা পাকিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যিনি এই সরকারের অবিসংবাদী ‘নাম্বার টু’। পরক্ষণেই প্রতিবাদী হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। দেখাদেখি সক্রিয় হয়ে ওঠে সরকারপন্থী নেটিজেন বাহিনী। প্রবলভাবে উঠে আসতে থাকে ‘উত্থিত ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের তত্ত্ব’, যা অতি সহজেই দেশের আনাচকানাচে ‘স্বঘোষিত দেশপ্রেমিকদের’ সঙ্গে ‘চিহ্নিত দেশদ্রোহীদের’ বিভাজনরেখা স্পষ্ট করে তোলে।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার কখনো সফল হবে না। নিজেদের রক্ষা করার মতো আত্মবিশ্বাস আজ আমরা অর্জন করেছি। আজকের ভারত এই অপপ্রচার বানচাল করবে।’ একই সুর অমিত শাহেরও গলায়, ‘কোনো প্রচারই ভারতের একতার পক্ষে ভীতিজনক নয়। নতুন সাফল্যের শিখরে উঠতে কোনো প্রচারই বাধা হতে পারবে না। অপপ্রচার নয়, ভারতের ভাগ্য নির্ধারণ করবে অগ্রগতি। ভারত ঐক্যবদ্ধ এবং এভাবেই ভারত প্রগতির সোপান বেয়ে উঠবে।’ এরই পিঠোপিঠি চলে আসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিবৃতি, যাতে বলা হয়, ‘স্পর্শকাতর বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে সেলিব্রিটি তারকাদের হুটহাট মন্তব্য তথ্যপূর্ণ হয় না, দায়িত্বশীলও নয়। এ ধরনের মন্তব্যের আগে বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণার প্রয়োজন।’

বিজ্ঞাপন

সরকারপক্ষে পাল্টা প্রচারণা

কথায় বলে, সমঝদার মানুষজনের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যা যা ঘটে গেল, তাতে স্পষ্ট, ইশারা নয়—পাল্টা প্রচারে সরকার, শাসক দল ও তার অন্ধ অনুগামীদের কল্পিত ‘আন্তর্জাতিক চক্রান্তের’ বিরুদ্ধে সক্রিয় করে তোলা হয়েছে। নইলে কোনো বিতর্কে যাঁদের স্বরক্ষেপণ করতে দেখা যায় না, নিরাপদ অবস্থানে থেকে যাঁরা অবিতর্কিত থাকতে পছন্দ করেন, কেন তাঁরা প্রায় একই সঙ্গে সরকারের তোলা সুরে গলা মেলাবেন?

যেমন দুই ‘ভারতরত্ন’ লতা মঙ্গেশকর ও শচীন টেন্ডুলকার। রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় শচীনের হাজিরা নগণ্যপ্রায়। মাত্র ৬ শতাংশ। লতা মঙ্গেশকরের আরও কম। দেশের খেলাধুলা ও খেলার অধিকার নিয়ে ২০১৭ সালে একবার আলোচনায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। হই-হট্টগোলে বাধা পেয়ে বসে পড়েছিলেন। লতা মঙ্গেশকরকে ক্ষুব্ধ করেছিল মুম্বাইয়ে পেডার রোডে তাঁর বাড়ির সামনে ফ্লাইওভার তৈরির সিদ্ধান্ত। হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওই ফ্লাইওভার হলে তিনি দেশত্যাগী হবেন। ফ্লাইওভার তৈরি হয়নি। লতাকেও দেশান্তরে যেতে হয়নি।

সেই লতা ও শচীনকে দেখা গেল ‘ঐক্যবদ্ধ ভারত’ ও ‘প্রচারের বিরুদ্ধে ভারত’-এর হয়ে টুইট করতে! শচীন দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মতামত জানালেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া সুরে গলা মিলিয়ে লিখলেন, ‘ভারতের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস হতে পারে না। বহিঃশক্তি দর্শক হতে পারে, অংশ নিতে পারে না। ভারতের জনগণ দেশকে চেনেন। দেশের সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন। জাতি হিসেবে আমাদের এক থাকতে হবে।’

একই হ্যাশট্যাগে একই সুর লতার কণ্ঠেও! হিন্দি ছাড়া সচরাচর যিনি অন্য কোনো ভাষায় অভিমত জানান না, সেই মহীয়সী ক্ষণজন্মা ইংরেজিতে গর্জে উঠলেন। টুইটে লিখলেন, ‘নমস্কার, ভারত এক মহান দেশ। আমরা সব ভারতীয় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। একজন গর্বিত ভারতীয় হিসেবে আমার পূর্ণ বিশ্বাস, দেশের স্বার্থ মাথায় রেখে যেকোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে আমরা পারদর্শী। জয় হিন্দ।’
ইন্দ্রপতনের সেই শুরু। গৃহযুদ্ধেরও। আলোচনা, সমালোচনা, কুকথায় ভরে গেল সামাজিক মাধ্যমের দেয়াল।

তারকার ইন্দ্রপতন

শচীনের উদ্দেশে একজন লিখলেন, ‘আত্মদর্শন করুন। ১৭০ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের প্রায় সবাই আপনার খেলা দেখেছেন। প্রতিটি রানে গলা ফাটিয়েছেন। অথচ তাঁদের জন্য একটা শব্দও আপনি খরচ করেননি!’ আর একজন, ‘আজ সব শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেললাম।’ শচীনকে চেনেন না বলায় টেনিস রানি মারিয়া শারাপোভাকে একদা যাঁরা শরবিদ্ধ করেছিলেন, সেই তাঁদের কারও কারও খেদোক্তি, ‘শারাপোভাই ঠিক।’ এই শচীন সত্যিই তাঁদের অচেনা। টুইটের আগে ‘ক্রিকেটের ভগবান’ হিসেবে পূজ্য শচীনকে টুইটের পরে ‘আম্বানির সারমেয়’ বলতেও দ্বিধা করেননি কেউ কেউ।


হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানোর মতো অতীত ঘেঁটে কেউ আবার আবিষ্কার করেছেন সরকারের প্রতি শচীনের নিঃশর্ত আনুগত্যের কারণটি। উপহার পাওয়া ফেরারির কর মওকুফ করতে শচীনের আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন বিজেপি থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি। ফেরারির বিশেষ জ্বালানি পেতে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন দলটির নেতা অরুণ জেটলি। সেটি উল্লেখ করে একজন লিখলেন, ‘সরকার সাহায্য করেছিল। শচীন সরকারকে তারই প্রতিদান দিলেন।’

নবতিপর ‘কোকিলকণ্ঠী’ লতা মঙ্গেশকরও কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবেননি এভাবে একদিন তাঁকে ক্ষতবিক্ষত হতে হবে।

কী না শুনতে হচ্ছে তাঁকে? একজন লিখলেন, ‘হায় রে, আমার শৈশবের রোল মডেল সরকারের হয়ে গলা ফাটালেন। দেশের জন্য নয়!’ আর একজন, ‘ম্যাডাম, এত দিন ধরে এত কৃষক খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছেন, এতজনের মৃত্যু হলো, একবারও আপনাকে দুঃখবোধ করতে দেখলাম না। অথচ এখন সরকারের সুরে কথা বলছেন! ম্যাডাম, দুঃখিত। আপনার পাশে থাকতে পারছি না।’

কেউ কেউ স্মৃতি হাতড়ে তুলে ধরেছেন লতার সেই অমর গীত ‘অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগোঁ, জারা আঁখ মে ভর লো পানি’। লিখেছেন, ‘যাঁর গাওয়া এই গান জাতিকে একসূত্রে গেঁথেছিল, হায়, সেই মানুষ কী করে আরএসএস ও মোদির সমর্থক হন?’ একজন তো প্রবল কটাক্ষে বলেছেন, ‘লতা দিদি কষ্ট করে লেখার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। যা লিখে তাঁকে পাঠানো হয়েছে, সেটাই তিনি সেঁটে দিয়েছেন।’

চেনা ছক কাজে লাগছে না

এমন নয় যে এই প্রথম সরকারের কোনো এক সিদ্ধান্ত নেট নাগরিকসহ গোটা দেশকে দুই শিবিরে ভাগ করে দিল। আগেও হয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে বিপুল সমালোচিত হতে হয়েছে সরকারকে সে জন্য। গো-হত্যা বন্ধে বাড়াবাড়ি নিয়ে, লাভ জিহাদ নিয়ে, সিএএ-এনআরসি নিয়ে, জম্মু-কাশ্মীরের দ্বিখণ্ডিতকরণ ও সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ নিয়ে, চার ঘণ্টার নোটিশে ২১ দিনের লকডাউন নিয়ে, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়েও সরকারকে চাপে পড়তে হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই উগ্র জাতীয়তাবাদ ও কট্টর হিন্দুত্বের হাওয়া পালে লাগিয়ে উতরে গেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই প্রথম ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের চেনা ছক সরকারের ত্রাতা হয়ে উঠতে পারল না। শাসকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও এখনো ফলদায়ী হলো না।

বরং কৃষক বিদ্রোহের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান বিস্ময়করভাবে এক উল্লম্ব বিভক্তিরেখা টেনে দিল চিরপ্রণম্য সমাজেও। মুহূর্তে ভাগাভাগি হয়ে গেল তারকাসমাজ। ঈশ্বরজ্ঞান করে আসা মানুষজনকে টেনে নামানো হলো মাটিতে। জাত-ধর্ম-লিঙ্গ-বর্ণভেদে ওরা-আমরায় ভাগাভাগি হয়ে গেল সমাজ। ক্রোধ ও ঘৃণার দৃষ্টি দুই তরফেই। অদৃশ্যপূর্ব এই বিভাজন!

এও তো এক যুদ্ধ, যা কিনা গৃহযুদ্ধেরই শামিল। কাশ্মীরের আন্তর্জাতিকীকরণ রোখা যায়নি। কৃষকদের ঘেরাটোপে আটকে ফেলার কারসাজি এই আন্দোলনকেও আচম্বিতে আন্তর্জাতিক আতশ কাচের তলায় টেনে এনেছে। গোটা আন্দোলন হয়ে উঠেছে সরকার ও কৃষককুলের অনমনীয় ‘ইগো’ বা আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইয়ে টলে গেছে বহু মানুষের শ্রদ্ধার আসন।

তা যাক। সরকার তার ঘোষণা থেকে সরতে নারাজ। মেজাজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং যুদ্ধংদেহী। না হলে গত সোমবার সংসদে শোনাতেন না আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব। বললেন, ‘দেশে এক নতুন এফডিআইয়ের আমদানি হয়েছে। ফরেন ডেসট্রাকটিভ ইডিওলজি। এর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। সাবধান থাকুন।’

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন