বিজ্ঞাপন

গত রোববার গ্রিসের এথেন্স থেকে লিথুয়ানিয়ায় যাওয়ার পথে রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইট মিনস্কে ঘুরিয়ে নেয় বেলারুশের নিরাপত্তা বাহিনী। উড়োজাহাজটিতে বোমা রাখা হয়েছে, এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এটা করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন যুগের একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে পাহারা দিয়ে উড়োজাহাজটিকে মিনস্কের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। অবতরণের পরপরই ফ্লাইটের যাত্রী ও বেলারুশ সরকারের কট্টর সমালোচক সাংবাদিক রোমান প্রোতাসেভিচ ও তাঁর বান্ধবী সোফিয়াকে গ্রেপ্তার করে বেলারুশের নিরাপত্তা বাহিনী।

পশ্চিমা বিশ্ব এই ঘটনাকে ‘উড়োজাহাজ ছিনতাই’ বলে দাবি করেছে। বেলারুশের নজিরবিহীন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার জরুরি বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। ইইউর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বৈঠক শেষে ২৭ দেশের ওই জোটের নেতারা বেলারুশের আকাশসীমা দিয়ে জোটের সদস্যদেশগুলোর এয়ারলাইনসের কোনো উড়োজাহাজ না ওড়ানোর বিষয়ে একমত হন। একই সঙ্গে তাঁরা ইউরোপের দেশগুলোতে বেলারুশের সরকারি এয়ারলাইনস বেলাভিয়ারের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি স্থগিত করতে সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ওই ঘোষণার পরপরই ফরাসি এয়ারলাইনস এয়ার ফ্রান্স বলেছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তারা বেলারুশের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো উড়োজাহাজ ওড়াবে না। ফিনল্যান্ডের এয়ারলাইনস ফিনএয়ারও একই ঘোষণা দিয়েছে। এয়ার ফ্রান্সের ডাচ সহযোগী এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠান কেএলএম, জার্মানির রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস লুফথানসা, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো পরিচালিত এয়ারলাইনসগুলোসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনস একই পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও বেলারুশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার ঘোষণা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে পোল্যান্ডের জাতীয় এয়ারলাইনস লট জানিয়েছে, তারা বেলারুশের আকাশসীমা এড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মিনস্কের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেছেন, তাঁর দেশের সব এয়ারলাইনস বেলারুশের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

ইউরোপের দেশগুলোর এই পদক্ষেপের কারণে বেলারুশের বিমান চলাচল ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ইউরোপের বড় বড় শহরে দেশটি কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না। জবাবে বেলারুশের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া এয়ার ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালনা বাতিল করল। এর ফলে এয়ার ফ্রান্স প্যারিস–মস্কোর মধ্যে চলাচল করা অন্তত চারটি ফ্লাইট বাতিল করে। ফলে কিছু যাত্রী মস্কো যেতে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার এয়ারলাইনস অ্যারোফ্লটের টিকিট কেটেছেন। আর অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট, যেটি ভিয়েনা থেকে মস্কো যাওয়ার কথা ছিল। আর অন্যটি পণ্যবাহী। এটি চীনের নানজিং থেকে পণ্য নিয়ে রাশিয়া হয়ে ভিয়েনায় আসার কথা ছিল।

অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার পদক্ষেপ একেবারে অগ্রহণযোগ্য। আর ফরাসি পরিবহন মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছে, একে অন্যের মধ্যে পারস্পারিক নীতিগুলোকে অবশ্যই সম্মান দেওয়া উচিত।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন