default-image

নারী-পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে কত রকম প্রতারণার কথাই তো শোনা যায়। কিন্তু জাপানি নাগরিক তাকাশি মিয়াগাওয়া যা করেছেন, তা মনে হয় কেউ কল্পনাতেও নিতে পারবে না। একসঙ্গে ৩৫ নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তাঁর উদ্দেশ্যটাও আবার বেশ অদ্ভুত, জন্মদিনের উপহার বাগানো।

এতগুলো সম্পর্ক রক্ষা করা কি মুখের কথা! তাকাশিও পারেননি। তাঁর প্রতারণা ধরে ফেলেন প্রেমিকারা। জোট বেঁধে পুলিশের কাছে অভিযোগও দেন তাঁরা। ফাঁস করে দেন তাকাশির প্রতারণার কৌশল।

বিজ্ঞাপন

জাপানের সংবাদ পোর্টাল দ্য টোকিও রিপোর্টারের বরাতে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ৩৯ বছর বয়সী তাকাশি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কানসাই অঞ্চলে খণ্ডকালীন বিপণনকর্মী। তিনি বছরজুড়ে প্রেমিকাদের কাছ থেকে জন্মদিনের নাম করে দামি উপহার পাওয়ার আশায় ৩৫ জনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছিলেন। তাঁর প্রকৃত জন্মদিন ১৩ নভেম্বর। তবে প্রতারণার কৌশল হিসেবে একেকজনকে একেক জন্মদিনের কথা বলতেন এবং দামি উপহার নিতেন। তিনি এক নারীর কাছে বলেন, তাঁর জন্মদিন ২২ ফেব্রুয়ারি। আরেকজনকে বলেন জুলাই মাসের কথা। তৃতীয় একজনকে বলেছেন এপ্রিল মাসে জন্মদিনের কথা।

পুলিশ বলছে, তিন নারীর কাছ থেকেই প্রতারণা করে এক লাখ ইয়েন উপহার নিয়েছেন তাকাশি। এর মধ্যে একজনের কাছ থেকে ২০ হাজার ইয়েন ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা, ৩০ হাজার ইয়েন দামের স্যুট উপহার নিয়েছেন তিনি।

প্রেমিকাদের কাছ থেকে দামি উপহার নেওয়ার এই প্রতারণার বিষয়টি বেশি দিন চালাতে পারেননি তাকাশি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের কাছে তাঁর প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ আসে। তাঁর কয়েকজন প্রেমিকা একজোট হয়ে তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ঠিক করেন। তাঁরাই পুলিশের কাছে প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে দেন। তবে তাকাশির প্রেমিকারা কীভাবে একজোট হলেন, বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।

টোকিও রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, শাওয়ারের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করার সময় বিভিন্ন ধরনের মার্কেটিং কৌশল খাটিয়ে তাকাশি বিভিন্ন নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। এক নারী অভিযোগ করেন, তাকাশি তাঁর সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে আজীবন থাকতে চেয়েছিলেন। এদিকে অভিযুক্ত তাকাশি মিয়াগাওয়া বলেছেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খুলবেন না তিনি।’

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন