default-image

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে বেশ আগেই। এবার এই টিকা নিয়ে নতুন গবেষণা হয়েছে দেশটিতে। এই গবেষণার অংশ হিসেবে দেশটির স্বেচ্ছাসেবীদের প্রথম ডোজ হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানের টিকা এবং দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে আরেক প্রতিষ্ঠানের টিকা দেওয়া হচ্ছে। দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের টিকা দেওয়ার পরও তা কার্যকর কি না, এটা জানতেই এমন পদক্ষেপ।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার পাশাপাশি দেশটিতে নিয়মিত কার্যক্রমও চালু রয়েছে। চলমান টিকাদান পদ্ধতিকে আরও সহজ এবং নির্বিঘ্ন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি আলাদা টিকার মিশ্রণের ফলে হয়তো আরও ভালো সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

নতুন এই গবেষণা প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের টিকাবিষয়ক মন্ত্রী নাদিম জাহাওয়ি বলেন, দেশে টিকা কার্যক্রম যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে। নতুন পরীক্ষা সফল হলেও আগামী গ্রীষ্মের আগে টিকা কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।

যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট কমিটি অন ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমুনাইজেশনের (জেসিভিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকা কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ অংশ হিসেবে যে ব্যক্তি ফাইজার-বায়োএনটেকের পেয়েছেন কিংবা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পেয়েছেন, তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া উচিত হবে।

বিজ্ঞাপন

এর ব্যক্তিক্রম হওয়ার সম্ভাবনাও কম। যদি কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটা না জানা যায়, তিনি প্রথম ডোজ হিসেবে কোন টিকা পেয়েছেন, তবেই অন্য টিকা দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া টিকার সংকট দেখা দিলে অন্য প্রতিষ্ঠানের টিকা দেওয়া হতে পারে। বিজ্ঞানীদের এই পরীক্ষা চালানোর পেছনে কারণ রয়েছে। তা হলো, ইবোলার ক্ষেত্রে সুরক্ষা বাড়াতে এমন টিকার মিশ্রণ ঘটানো হয়েছিল।

যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন ইভালুয়েশন কনসোর্টিয়াম (এনআইএসইসি) দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ রিসার্চের আট কেন্দ্রে এই গবেষণা চালাচ্ছে। বিবিসির খবর, এতে অংশ নেবেন ৮০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী। এই স্বেচ্ছাসেবীদের বয়স ৫০ বছরের বেশি।

এই স্বেচ্ছাসেবীরা প্রথমে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা পাবেন। এরপর ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে অক্সফোর্ডের টিকা পাবেন। অনেকের ক্ষেত্রে এর উল্টোটাও হতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য যদি এর মাঝে আরও টিকার অনুমোদন দেয়, তবে সেই টিকাগুলোও এই পরীক্ষায় ব্যবহার করা হবে।

টিকাবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নতুন এই গবেষণার জন্য প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী গ্রীষ্মের আগে এই গবেষণার তথ্য সরবরাহ করবেন না তাঁরা। তাই এই মুহূর্তে টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

নতুন এই গবেষণা প্রসঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রধান পর্যবেক্ষক ম্যাথিউ স্নাপ বলেন, এটা অসাধারণ একটি গবেষণা। যুক্তরাজ্য ও বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে এই গবেষণা।

ম্যাথিউ বলেন, প্রাণীর দেহে এই পরীক্ষা অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষেত্রে ভালো সাড়া দিয়েছে। গবেষণার জন্য ওই স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর গভীরভাবে দৃষ্টি রাখা হবে।

স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিরোধক্ষমতা কেমন সাড়া দেয়, এ জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হবে।

তবে সময়সাপেক্ষ এই গবেষণা। সময় লাগবে ১৩ মাস। এ গবেষণা থেকে আরও কিছু তথ্য জানা যাবে। এগুলো হলো করোনার নতুন ধরনের ক্ষেত্রে টিকা কেমন কাজ করে, ৪ সপ্তাহ ও ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ করা হলে কেমন সাড়া দেয়, সেটাও জানা যাবে এই গবেষণা থেকে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন