default-image

খাদ্যপণ্যের বাজারে জীবিত স্তন্যপায়ী বন্য প্রাণী বিক্রি বন্ধের জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। গতকাল মঙ্গলবার সতর্ক করে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তারে ৭০ শতাংশের বেশি ঘটনার পেছনে এসব বন্য প্রাণী কারণ হতে পারে।

ডব্লিউএইচও, ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ (ওআইই) এবং ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) বলছে, খাবার কিংবা প্রজননের উদ্দেশ্যে খোলাবাজারে জীবিত স্তন্যপায়ী বন্য প্রাণী বিক্রি বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রগুলোকে এসব কার্যক্রম থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।  

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যখন জীবিত স্তন্যপায়ী বন্য প্রাণীকে বিক্রির জন্য খাঁচায় রাখা হয় এবং উন্মুক্ত স্থানে এটিকে জবাই করা হয়, চামড়া ছাড়ানো হয়, তখন ওই এলাকা প্রাণীটির শরীরের রক্ত, পানি, মলসহ বর্জ্যে সেটির শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু ও বর্জ্যে দূষিত হয়ে ওঠে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। এ ঝুঁকি দূর করতে দেশগুলোকে জীবিত বন্য প্রাণী বিক্রি বন্ধে আইনগতভাবে কঠোর হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে চীনের উহানে জীবিত বন্য প্রাণীর বাজার থেকে মানবদেহে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের মুখে চীন সরকার গত বছর মানুষের খাদ্য হিসেবে জীবিত বন্য প্রাণীর বাণিজ্যে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে এ আইনের ফাঁকফোকর রয়ে গেছে।

করোনার উৎস নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি জুড়ে তদন্ত করেছে ডব্লিউএইচও। তদন্তকারীরা পরিদর্শন করেছেন উহানের সেই বাজারও। তদন্তে বলা হয়েছে, বুনো বাদুড় থেকে অন্য কোনো প্রাণীর শরীর হয়ে করোনাভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়েছে।

তদন্ত দলের সদস্য ও ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা পিটার বেন এমবারেক টুইটার বার্তায় জানান, ডব্লিউএইচও ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ভাইরাস বিস্তারের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের দেশগুলোকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র ফাদেলা চাইব বলেন, এটা নতুন কোনো সুপারিশ নয়। তবে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তার এ বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন