বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ইন্টারন্যাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) যৌথ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, শক্তিশালী ঝড়, লাগাতার সংঘাত ও সহিংসতার প্রভাবে গত বছর বিভিন্ন দেশের ভেতরেই অন্তত ৪ কোটি ৫ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ১০ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে বিশ্বে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ কোটি ৫০ লাখে।

আইডিএমসির পরিচালক আলেকজান্দ্রা বিলাক এএফপিকে বলেন, গত বছর অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল ‘অপ্রত্যাশিত’। কারণ, করোনা মহামারির কারণে ওই বছর মানুষকে নানা নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০২০ সালে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত এবং সংঘাতসহ বিভিন্ন কারণে অন্য দেশে পালানো—উভয়ের সংখ্যাই বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে গিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যার দ্বিগুণ।

এনআরসির প্রধান জেন ইজল্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত বছর প্রতি এক সেকেন্ডে কোনো না কোনো ব্যক্তি নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এটা মর্মান্তিক। তিনি আরও বলেন, ‘সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

আলেকজান্দ্রা বিলাক বলেছেন, গত বছর বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের যে সংখ্যা শনাক্ত করা হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ, চলাফেরার নিষেধাজ্ঞার কারণে তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়াসহ নানা কারণে অনেকেই এ সমীক্ষা থেকে বাদ পড়েছে।

এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ অনেক বাড়িয়েছে করোনা মহামারি। এ ছাড়া মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিলাক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বছর সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজনের তিনজনই বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। গত বছর এশিয়া–প্যাসিফিকের অত্যন্ত অরক্ষিত ও অতি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও বন্যা আঘাত হানে। অন্যদিকে আটলান্টিক পারের এলাকায় আঘাত হানে হারিকেন। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও সাবসাহারা আফ্রিকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যায় লাখ লাখ মানুষ বাসস্থান হারিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংঘাত আর সহিংসতার মুখে গত বছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘাতের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন