করোনা মোকাবিলার পদক্ষেপ দ্বিগুণ করুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় সব দেশের প্রতি পদক্ষেপ দ্বিগুণ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত সোমবার অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই আহ্বান জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা সব দেশের প্রতি জনস্বাস্থ্যের মৌলিক পদক্ষেপগুলো দ্বিগুণ জোরদার করার আহ্বান জানাই। আমরা জানি, এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর। সন্দেহভাজন রোগীদের খুঁজে বের করে পরীক্ষা করুন, এটা কার্যকর। রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন করুন, এতে কাজ হয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন, এটাও কার্যকর।’

তেদরোস আধানোম বলেন, ‘ওই পদক্ষেপগুলো তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেদের ও অন্যদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলুন, বারবার হাত পরিষ্কার করুন, যখনই প্রয়োজন মাস্ক ব্যবহার করুন। আমরা জানি, এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান বলেন, সব দেশই সূক্ষ্ম এক দোলাচলে রয়েছে। জনগণের সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি যতটা সম্ভব কম স্বীকার করে নেওয়ার পথ খুঁজছে তারা। কিন্তু জীবন ও জীবিকার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার মতো বিষয় নয় এটি। এ ক্ষেত্রে দুটিকেই সমানতালে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সব দেশের প্রতি জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় সতর্ক ও সৃজনশীল সমাধান অনুসন্ধানের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তেদরোস আধানোম এদিন স্টেরয়েড ওষুধ ডেক্সামেথাসন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমিত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হতে পারে। তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে, তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে।

যুক্তরাজ্যে পরিচালিত পরীক্ষায় ডেক্সামেথাসন প্রয়োগে সুফল পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তেদরোস আধানোম বলেন, পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে দ্রুত ও সমহারে বণ্টন। এ সময় তিনি সতর্ক করে দেন, এই ওষুধ শুধু নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ওপরই প্রয়োগ করা যাবে। মৃদু উপসর্গের রোগী কিংবা করোনা প্রতিরোধে ডেক্সামেথাসনের কার্যকারিতার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, বরং এসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, সম্প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মহামারির প্রভাব নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। এতে এ পর্যন্ত ৮২টি দেশ সাড়া দিয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি দেশে অন্তত একটি স্বাস্থ্যসেবা, যেমন হাসপাতালের বহির্বিভাগ অথবা কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত অথবা স্থগিত করেছে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশে দাঁতের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা আংশিক বা পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, অসংক্রামক রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা এবং পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভকালীন সেবা, ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসা এবং শিশু চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তেদরোস আধানোম বলেন, বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন কৌশলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারপরও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিণতি ভোগ করতে হবে বহু বছর ধরে। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিখছে যে স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতার বিষয় না। এটি নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তি। কাজেই শুধু মহামারি মোকাবিলার চেষ্টা করে গেলেই চলবে না, একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে বিনিয়োগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন