default-image

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত অর্ধেকেরও বেশি রোগী ও হাসপাতালের কর্মী সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি অবসাদ বা ক্লান্তিতে ভুগছেন। আইরিশ একটি হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য জানা গেছে। নতুন এ গবেষণায় করোনার প্রভাবে রোগীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন লক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

এএফপির খবরে জানানো হয়, হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসকদের দল করোনাভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। করোনায় বিশ্বে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে কমপক্ষে ৯ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ।

ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে সেন্ট জেমস হসপিটাল অ্যান্ড ট্রিনিটি ট্রান্সন্যাশনাল মেডিসিন ইনস্টিটিউটের গবেষক লিয়াম টাউনসেন্ড বলেন, কোভিডের বর্তমান বৈশিষ্ট্যগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তবে সংক্রমণের কারণে মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, তা জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সেন্ট জেমস হাসপাতালের ওই গবেষণায় ১২৮ জন অংশ নেন। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার ১০ সপ্তাহ পরও ৫২ শতাংশ রোগীর মধ্যে ক্লান্তির উপসর্গ দেখা গেছে।

প্রাথমিক গবেষণায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—এমন ৭১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তাঁদের মধ্যে কম অসুস্থ—হাসপাতালের এমন ৫৭ জন কর্মী আছেন। গবেষণায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের গড় বয়স ৫০ বছর। অংশগ্রহণকারী সবার করোনা শনাক্ত হয়।

গবেষকেরা দেখেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বা হননি—এমন অনেকেই অবসাদে ভুগছেন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দুই-তৃতীয়াংশ নারী অবসাদের মতো উপসর্গে ভুগছেন বলেও জানান গবেষকেরা। আগে যাঁরা বিষণ্নতায় ভুগেছেন, তাঁদের মধ্যেই এমন অবসাদে ভোগার প্রবণতা বেশি।

বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা বলছেন, রোগীদের ওপর করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এ মাসের শেষে ‘ইউরোপীয় সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ কনফারেন্স অন করোনাভাইরাস ডিজিজ’–এ এই গবেষণা উপস্থাপন করা হবে। তবে এ পর্যন্ত করা গবেষণায় এটা স্পষ্ট যে রোগী সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘ মেয়াদে এই ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে।

গত জুলাই মাসে এক সমীক্ষায় জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার ৬০ দিন পরেও ইতালিতে ৮৭ শতাংশ রোগী কোনো না কোনো উপসর্গে ভুগছেন। এগুলোর মধ্যে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের জটিলতা রয়েছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মিখাইল হেড বলেন, ‘করোনার দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে সাধারণ উপসর্গ হলো ক্লান্তি।’

মন্তব্য পড়ুন 0