default-image

করোনাভাইরাস এখন বিশ্বের ১ নম্বর গণশত্রু। এই ভাইরাসের একমাত্র লক্ষ্য মানুষকে খুঁজে খুঁজে আক্রান্ত করা। উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকেই যাবে। এই অবস্থার পরও কিছু দেশের সরকার ও মানুষের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা যেন বিষয়টিতে ভ্রুক্ষেপই করছে না। অনেক দেশ তো ভুল পথেই চলেছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত সোমবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এসব কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের একেকজনের একেক বার্তা মানুষের আস্থা নষ্ট করছে, যা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি।

তেদরোস আধানোম বলেন, সরকার যদি পরিষ্কারভাবে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, সংক্রমণ ঠেকাতে ও জীবন বাঁচাতে ব্যাপক কৌশল প্রণয়ন করে কাজ না করে, জনগণ যদি সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন অনুসরণ না করে, বারবার হাত না ধোয়, মাস্ক ব্যবহার না করে, হাঁচি-কাশির আদবকেতা না মানে ও অসুস্থ হলে বাড়িতে না থাকে, তাহলে এই মহামারি থেকেই যাবে। এটি দিনে দিনে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, বিশ্বজুড়ে মহামারির মোটামুটি চার ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রথমত, কিছু দেশ সতর্ক ছিল। এসব দেশ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে এই দেশগুলোয় এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। মেকং অঞ্চলের দেশ চীন, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। এই দেশগুলো রোগী শনাক্ত, আলাদা করা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন করতে ব্যাপক কৌশল প্রণয়ন করে কাজ করেছে।

বিশ্বে বিরাজমান দ্বিতীয় পরিস্থিতি হলো, কিছু দেশে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এটি সম্ভব হয়েছে ওই সব দেশের দৃঢ় নেতৃত্ব আর জনগণের স্বাস্থ্যবিধির মূল বিষয়গুলো মানার কারণে। ইউরোপের অনেক দেশ এবং ইউরোপের বাইরের কিছু দেশ প্রমাণ করেছে যে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

প্রথম ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে থাকা দেশগুলো কার্যকরভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। এসব দেশ এখন ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ তুলে নিতে শুরু করেছে। তবে তার আগে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন এসব দেশের নেতারা, যে কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক কর্মী যুক্ত হয়েছেন।

তেদরোস আধানোম বলেন, কিছু দেশ সংক্রমণের প্রথম ধাক্কা সামাল দিয়েছে। তারপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এখন এসব দেশে আবার সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়াতে শুরু করেছে। এটি হলো মহামারির তৃতীয় পরিস্থিতি। ওই সব দেশে সংক্রমণ এত বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে যে হাসপাতালগুলোকে আবারও রোগীর ব্যাপক চাপ সামাল দিতে হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু দেশে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এসব দেশে চতুর্থ পরিস্থিতি বিরাজমান। তিনি বলেন, করোনা মহামারির সংক্রমণকেন্দ্র এখনো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা। বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হওয়া করোনায় সংক্রমিত রোগীর অর্ধেকের বেশিই এই দুই অঞ্চলের।

তেদরোস আধানোম বলেন, ‘আমি সরাসরিই বলতে চাই, নিকট ভবিষ্যতে “আগের স্বাভাবিক অবস্থায়” ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ এখনো আছে। সে জন্য তিনটি বিষয় প্রয়োজন।’

তেদরোস আধানোমের উল্লেখিত তিন বিষয় হলো, মৃত্যুহার কমাতে ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; সামাজিক ক্ষমতায়ন, যেখানে সবাই পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত থাকবে এবং একে অন্যের স্বার্থে ব্যক্তি আচরণগত পদক্ষেপ নেবে এবং দৃঢ় সরকারি নেতৃত্ব ও ব্যাপক কৌশলগত সমন্বয়।

তেদরোস আধানোম বলেন, ‘এটা (মহামারি নিয়ন্ত্রণ) সম্ভব। এটা অবশ্যই সম্ভব করতে হবে। আমি এটা আগেও বলেছি, আমি এটা বলতেই থাকব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0