বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লি সিয়েন লং

বিশ্বের যেসব দেশের সরকারপ্রধান বেশি বেতন পান তাঁদের মধ্যে একজন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং। তাঁর বেতন ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা (১৬ লাখ ডলার)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাঁর চেয়ে কম বেতন পান। আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেতনের চেয়ে এই অর্থ ১২ গুণ বেশি।

এ ছাড়া বিলাসবহুল অফিস রয়েছে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর। ১০৬ একর জমির ওপর নির্মিত অফিস ভবনটি পরিচিত ‘দি ইস্তানা’ নামে।

এত বেতন পাওয়ার পরও অবশ্য কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে লি সিয়েন লংয়ের। এ নিয়ে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমার চেয়ে কম বেতন পান, এটা ঠিক। তবে হোয়াইট হাউসের বাসিন্দারা এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ভ্রমণ করেন, আর ক্যাম্প ডেভিডে ছুটি কাটানোর মতো সুবিধাগুলো পান। এ ছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টরা দীর্ঘ সময় ধরে লাখ লাখ ডলার পেয়ে থাকেন।’

default-image

জো বাইডেন

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের বেতন মোটা অঙ্কের হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে বেশি নয়। খরচ চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেতন পান ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা (৪ লাখ ডলার)। আর তাঁর পাওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো হয়তো গুণে শেষ করা যাবে না। ১৩২ কক্ষের হোয়াইট হাউস থেকে শুরু করে সুসজ্জিত উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে কী নেই।

এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজটি তিন তলাবিশিষ্ট। সব মিলিয়ে জায়গা রয়েছে চার হাজার বর্গফুট। উড়োজাহাজটিতে একটি ছোট হাসপাতালও রয়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে করা যাবে অস্ত্রোপচার। আরও রয়েছে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কক্ষ এবং সুবিশাল এক রান্নাঘর। একসঙ্গে ১০০ জন মানুষের রান্না করা যায় সেখানে।

default-image

ক্যারি ল্যাম

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের বাড়িতে নাকি কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ। বিবিসির খবরে জানা যায়, হংকংয়ের টিভি চ্যানেল এইচকেআইবিসির সঙ্গে আলাপচারিতায় কথাটি স্বীকার করেন তিনি নিজেই। কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন না তিনি। নগদ অর্থে বেতন নেন ল্যাম, খরচও করেন নগদ।

সরকারি কোষাগার থেকে তাঁর পকেটে আসে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (৬ লাখ ৭২ হাজার ডলার)। বিপুল অর্থের বেতন ছাড়াও বিশেষ কিছু সুবিধা পান ল্যাম। তাঁর গাড়িতে থাকে না নম্বর প্লেট। বরং গাড়ির সামনে-পেছনে লাগানো থাকে হংকংয়ের জাতীয় প্রতীক।

default-image

জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পকেটে ভরেন ১ লাখ ৪৬ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোটা অঙ্কের বেতনের পাশাপাশি ট্রুডো বিশাল এক বাড়িতে বসবাস করেন। রাজধানী অটোয়াতে নির্মিত এ বাড়িটি পরিচিত ‘রিদু কটেজ’ নামে। ২০১৫ সাল থেকে বাড়িটি ট্রুডোর দখলে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তা থাকলেও বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রুডোকে। ২০১৭ সালে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের ধনকুবের সমাজসেবী এবং আধ্যাত্মিক নেতা আগা খানের মালিকানাধীন একটি দ্বীপে ছুটি কাটাতে যান তিনি। অবকাশ যাপনে তাঁর খরচ হয় ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কানাডার আইন ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

পরে এসে আবার ভারতে একটি সফরে যান ট্রুডো। ব্যবসাসংক্রান্ত ওই সফরে খরচ হয়েছিল ১০ লাখ ডলারের বেশি।

default-image

জেসিন্ডা আরডার্ন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বেতন পান ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা (৩ লাখ ২৪ হাজার ডলার)। করোনাকালে আলোচনায় এসেছেন জেসিন্ডা। মহামারির কারণে নিউজিল্যান্ডের ৫০ লাখ বাসিন্দা চাকরি হারান অথবা তাঁদের বেতন কাটা হয়। তাঁদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নিজের বেতনের ২০ শতাংশ কেটে রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

নানা জনহিতকর ভূমিকার কারণে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন জেসিন্ডা। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সন্তানের মা হয়েছেন। এমনকি সর্বপ্রথম নারী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সন্তান কোলে নিয়ে হাজির হয়েছেন। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ সাময়িকী ভোগের প্রচ্ছদেও জায়গা করে নিয়েছেন এই নারী।

default-image

ইয়োশিহিদে সুগা

ইয়োশিহিদে সুগা জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। মাত্র এক বছরের মাথায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুগা বেতন পেতেন ২ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি (২ লাখ ৫৫ হাজার ডলার)।

সুগা ভ্রমণে যেতেন টুইনজেট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআরে। এ উড়োজাহাজে ছিল ভিআইপি কক্ষ ও কাজের জন্য আলাদা জায়গা। অতিথিদের জন্য ছিল বিজনেস ক্লাসের ১০৬টি আসন। সুগা জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাপানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া টোকিও অলিম্পিকের সময়। করোনা মহামারির মধ্যে বিশাল এ আয়োজনের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

default-image

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নারী জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। ২০০৫ সালে তিনি জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর হন। তিনি বেতন পান ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা (৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ ডলার)। জার্মানির নাগরিকদের তুলনায় এ বেতন আট গুণ বেশি।

গত ১৬ বছর দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ম্যার্কেল। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট থেকে ব্রেক্সিট, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ থেকে শুরু করে করোনা অতিমারি পর্যন্ত নানা অনিশ্চয়তায় পথ দেখিয়েছেন জার্মানিকে। চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেলের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। জার্মানির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জয়ও পায়নি তাঁর দল।

default-image

আলেকজান্দার ডি ক্রো

ইয়োশিহিদে সুগার চেয়ে কিছুটা বেশি বেতন পান বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্দার ডি ক্রো। সরকারি কোষাগার থেকে তাঁর ঘরে ওঠে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা (২ লাখ ৬৭ হাজার ডলার)। পাশাপাশি উড়োজাহাজের বিশাল এক বহর রয়েছে তাঁর। বহরের বিলাসবহুল সব উড়োজাহাজগুলো বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ব্যবহার করেন দেশটির রাজপরিবারের সদস্যরাও।

গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন আলেকজান্দার। তিনি বেলজিয়ামের খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ হারমান ডি ক্রোর ছেলে। রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েও রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন আলেকজান্দার। কাজ শুরু করেছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে। তবে ভাগ্যের ফেরে সেই রাজনীতিতেই ফিরতে হয়েছে তাঁকে, তা–ও আবার সরকারপ্রধান হিসেবে।

জেভিয়ার ব্যাটেল

ছোট দেশ লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রীর বেতনের পরিমাণটা কিন্তু একেবারেই ছোট নয়। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার ব্যাটেল বেতন পান ২ কোটি ৩২ লাখ থেকে ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা (২ লাখ ৭ হাজার থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার)। মাত্র ৬ লাখ ১৪ হাজার জনসংখ্যার দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাও বেশ শক্ত।

জেভিয়ার ব্যাটেলের আরেকটি পরিচয় রয়েছে। তিনি লুক্সেমবার্গের প্রথম এবং ইউরোপের তৃতীয় সমকামী প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সমকামীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে নজর কাড়েন তিনি।

default-image

সেবাস্টিয়ান কুর্জ

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জের বেতন ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা (৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ ডলার)। দেশটির নাগরিকদের গড় বেতনের তুলনায় এ অর্থ ছয় গুণ বেশি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর হন কুর্জ। দেশটির ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে কমবয়সী সরকারপ্রধান।

default-image

স্কট মরিসন

default-image

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের বেতন দেশটির সাধারণ নাগরিকদের গড় বেতনের তুলনায় ছয় গুণ বেশি। এর পরিমাণ ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা (৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ ডলার)। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুটি বিলাসবহুল বাসভবন ব্যবহারের সুযোগ পান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার ৩০তম প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ক্যারিয়ার শুরু করেন দেশটির প্রোপার্টি কাউন্সিলের পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ ম্যানেজার হিসেবে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ট্যুরিজম টাস্ক ফোর্সে উপপ্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন অস্ট্রেলিয়ার ট্যুরিজম কাউন্সিলের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন