default-image

পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যেতে পাড়ি দিতে হবে গড়ে ১৪ কোটি মাইল। বর্তমানে মহাকাশযানে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তা দিয়ে মঙ্গল পর্যন্ত পৌঁছাতে মনুষ্যবিহীন অভিযানে ন্যূনতম সময় লাগে ৭ মাস। আর মহাকাশযানে মানুষ থাকলে সময় লাগবে কমপক্ষে ৯ মাস। এই সমস্যার সমাধানে পারমাণবিক ইঞ্জিন ব্যবহারের কৌশল প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ৩ মাসেই পৃথিবী থেকে মঙ্গলে পৌঁছানো সম্ভব। অর্থাৎ যাত্রার সময় কমে মঙ্গল তখন পৃথিবীর আরও কাছে চলে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩৫ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে চায়। কিন্তু মঙ্গল এতটাই বৈরী যে সেখানকার পরিবেশ অ্যান্টার্কটিকার চেয়েও শীতল। আর এর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন নেই বললেই চলে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন বৈরী পরিবেশে টিকে থাকা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে পৌঁছাতে যত বেশি সময় লাগবে, মহাকাশচারীদের জন্য এই চ্যালেঞ্জ ততই বাড়বে। এ কারণেই মঙ্গলযাত্রার সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলট্রা সেফ নিউক্লিয়ার টেকনোলজিস (ইউএসএনসি-টেক) এই সমস্যার একটি সমাধান প্রস্তাব করেছে। তিনি বলছেন, মহাকাশযানে পারমাণবিক শক্তিচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার করতে হবে। এতে পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করে মাত্র ৩ মাসেই মঙ্গলে পৌঁছানো যাবে।

ইউএসএনসি-টেকের প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক মাইকেল ইডেস বলেন, বর্তমানে যে রাসায়নিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, তার চেয়ে পারমাণবিক শক্তিচালিত ইঞ্জিন বেশি শক্তিশালী হবে। এর কর্মদক্ষতাও দ্বিগুণ হবে। অর্থাৎ কম জ্বালানি খরচে মহাকাশযান আরও দ্রুতগতিতে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে।

পারমাণবিক শক্তিচালিত ইঞ্জিনে একটি পারমাণবিক চুল্লি থাকে, যা ইউরেনিয়াম জ্বালানি থেকে তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপীয় শক্তি তরল হাইড্রোজেনকে উত্তপ্ত করে। এতে হাইড্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয়ে প্রপেলারে ধাক্কার সৃষ্টি করে।

নাসার স্পেস টেকনোলজি মিশন ডিরেক্টরেটের প্রধান প্রকৌশলী জেফ শিহি বলেন, বর্তমানে যে রাসায়নিক ইঞ্জিনগুলো মহাকাশযানে ব্যবহার করা হয়, এগুলো দিয়েও মঙ্গলে পৌঁছানো সম্ভব। তবে সময় লাগবে তুলনামূলক বেশি। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে মঙ্গলে গিয়ে আবার ফিরতে সময় লাগবে কমপক্ষে তিন বছর। কিন্তু নাসা মঙ্গলযাত্রার সময় আরও কমিয়ে আনতে চায়। কারণ, মহাশূন্যে যাত্রার সময় যত দীর্ঘায়িত হবে, মহাকাশচারীদের মহাশূন্যের বিকিরণে শারীরিক সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি তত বাড়বে। এমনকি এই বিকিরণের কারণে ক্যানসার, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।

নাসার প্রকৌশলী জেফ শিহি বলেন, পারমাণবিক শক্তিচালিত ইঞ্জিনে মহাকাশযাত্রার সময় কমবে। এতে স্বাস্থ্যগতসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিও কমবে। এ কারণেই নাসা এ ধরনের ইঞ্জিন তৈরি করতে চায়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পারমাণবিক শক্তিচালিত ইঞ্জিনে একটি পারমাণবিক চুল্লি থাকে, যা ইউরেনিয়াম জ্বালানি থেকে তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপীয় শক্তি তরল হাইড্রোজেনকে উত্তপ্ত করে। এতে হাইড্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয়ে প্রপেলারে ধাক্কার সৃষ্টি করে। নাসার প্রকৌশলী জেফ শিহি বলেন, রাসায়নিক ইঞ্জিনের তুলনায় পারমাণবিক ইঞ্জিন দ্বিগুণ ধাক্কার সৃষ্টি করে। অর্থাৎ সমপরিমাণ জ্বালানি খরচ করে পারমাণবিক শক্তিচালিত ইঞ্জিন দ্বিগুণ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে গিয়ে আবার ফিরতে দুই বছরের কম সময় লাগবে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন