default-image

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর উইলমিংটনের এক জনশূন্য জিমনেসিয়ামে গত বুধবার জো বাইডেন তাঁর রানিংমেট হিসেবে কামালা হ্যারিসকে দেশটির ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। প্রথম দিনেই পরিষ্কার হয়ে গেল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কামালা কী ভূমিকা পালন করবেন। তাঁর প্রথম ও প্রধান কাজ হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে কঠোর ও নির্দয়ভাবে আক্রমণ করা।

৭৭ বছর বয়সী বাইডেন তার্কিক হিসেবে তুখোড় নন। জিবের ডগায় সঠিক কথাটি সর্বদা তিনি খুঁজে পান না। অনেক সময় তথ্য গুলিয়ে ফেলেন। এসব শূন্যস্থান পূরণ করতে কামালা হ্যারিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবেন। বুধবারই তার প্রমাণ মিলল। ট্রাম্পের সমালোচনায় বাইডেনের সবচেয়ে স্মরণীয় লাইন ছিল, ‘তিনি সব সময় শুধু ঘ্যানঘ্যান করে অভিযোগ করতে পারেন।’ তবে ট্রাম্প ও তাঁর ক্যাম্পেইনকে আক্রমণ করার ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন কামালার ওপর।

মাত্র ৯০ সেকেন্ডের এক স্মরণীয় বিবরণে কামালা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কেন ব্যর্থ, তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস বিশ্বের সব দেশকেই আক্রান্ত করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তার কারণ, এই ভাইরাসকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণে ট্রাম্পের ব্যর্থতা। ভাইরাস টেস্ট চালু করা থেকে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরা প্রশ্নে তাঁর অবস্থান বৈপরীত্যে ভরা। একেকবার একেক কথা বলছেন। উদভ্রান্তের মতো তিনি দাবি করেছিলেন, বিশেষজ্ঞদের চেয়েও করোনাভাইরাস বিষয়ে তিনি বেশি জানেন। তার ফল দাঁড়িয়েছে এই যে এখন প্রতি ৮০ সেকেন্ডে একজন আমেরিকান এই ভাইরাসে মারা যাচ্ছেন।

বাইডেন-হ্যারিসের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সামান্য পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইরাস প্রশ্নে তাঁর নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি জানান, টিভিতে এই দুজনের ভাষণ তিনি খুব একটা দেখেননি। বাইডেন যে কামালা হ্যারিসকে নিজের রানিংমেট নির্বাচন করেছেন, তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বাছাইপর্বে বাইডেনকে ‘অসম্মানজনক’ ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন কামালা। তাঁকে কী করে রানিংমেট করা যায়, তা তিনি ভেবে পান না বলে জানান ট্রাম্প। তিনি কামালাকে অতি উদারপন্থী হিসেবেও চিহ্নিত করেন।

>

কামালার নাম ঘোষণার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় বাইডেন ক্যাম্পেইন ২৬ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহে সক্ষম হয়, যা রেকর্ড

ট্রাম্প শিবির কামালাকে বামপন্থী হিসেবে দেখাতে চাইবে, সে বিবেচনা মাথায় রেখেই বাইডেন তাঁকে নিজের রানিংমেট নির্বাচন করেছেন। নভেম্বরের নির্বাচনে জিততে তাঁকে শহরতলির অধিক অবস্থাসম্পন্ন ও শিক্ষিত নারী ভোটারদের হাতে রাখতে হবে। অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে অশ্বেতকায়, বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের উজ্জীবিত করতে হবে। কামালা তাঁকে উভয় ক্ষেত্রেই সাহায্য করতে সক্ষম হবেন। তিনি ইতিমধ্যে হাতেনাতে ফল পাওয়া শুরু করেছেন। কামালার নাম ঘোষণার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় বাইডেন ক্যাম্পেইন ২৬ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহে সক্ষম হয়, যা রেকর্ড।

ডেমোক্রেটিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কামালার কারণে শুধু বাইডেনের নির্বাচনী দৌড় নয়, কংগ্রেস ও সিনেট নির্বাচনে যাঁরা অংশ নিচ্ছেন, তাঁরাও লাভবান হবেন। ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ আখিম বার্গম্যান বলেছেন, কামালার কারণে সবচেয়ে লাভবান হবেন সেসব নারী, যাঁরা ডেমোক্রেটিক টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের জন্য কামালার গুরুত্ব অপরিসীম।

কামালার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে, তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে সক্ষম হবেন কি না। ২০১৬ সালে স্যান্ডার্সের সমর্থকদের অনীহার কারণে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে পরাস্ত হয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত এই গ্রুপ কামালার নির্বাচনে খুব খুশি নয়। তাদের চোখে কামালা ‘যথেষ্ট প্রগতিশীল নয়’, বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের সংস্কারের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান এই গ্রুপের কাছে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0