গ্লোবাল কোল প্ল্যান্ট পাইপলাইনের বৈশ্বিক জ্বালানিবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৭৯টি দেশে এখনো ২ হাজার ৪০০–এর বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ১০০ গিগাওয়াট। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি সইয়ের পর থেকে বিশ্বে নির্মাণাধীন অথবা উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় তিন–চতুর্থাংশ কমেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নতুন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে ইচ্ছুক এমন দেশ রয়েছে ৩৪টি। ২০২১ সালের জানুয়ারিতেও এ সংখ্যা ছিল ৪১। আরও বলা হয়েছে, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অন্য দেশে কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর পেছনে বরাবর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদিও দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিটির ব্যবহার বৃদ্ধিতে অর্থায়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে চীনের দায়বদ্ধতা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের বিশ্লেষক ফ্লোরা চ্যাম্পিনোইস বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা কমে আসছে। এটা ভালো খবর। তবে আমাদের এখনই এটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সুনির্দিষ্ট মাত্রায় সীমিত করে আনতে হলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে। ধনী দেশগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে ও ২০৪০ সালের মধ্যে বাকি বিশ্বকে এ–সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। বিশেষত ভারত, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে কয়লাভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে।

সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন। এরপরও দেশটি নতুন নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। দেশটিকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে তাগিদ দিয়েছেন প্রতিবেদনটির সহলেখক লউরি মাইলিভিরতা। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কয়লার ব্যবহার কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন