default-image

পাঁচ বছরের ফুটফুটে শিশু তাফিদা রাকিব। পূর্ব লন্ডনের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘গভীর ঘুমে’ আচ্ছন্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পরিস্থিতিকে ‘কোমা’ বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাফিদার এই ‘ঘুম’ ভাঙার তেমন আশা নেই। কাজেই তার জীবনাবসান ঘটানোই শ্রেয়। কিন্তু মা–বাবার ইচ্ছা তাফিদার চিকিৎসা চালানো। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে চলছে আইনি লড়াই। আজ শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি শেষ হবে। এরপর তাফিদার বিষয়ে আদালতের রায় জানা যাবে।

তাফিদার বাবা মোহাম্মদ রাকিব এবং মা সেলিনা রাকিব। দুজনেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশে তাঁদের বাড়ি সিলেটে। যুক্তরাজ্যে এই পরিবারের বসবাস পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম এলাকায়। সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশি এই দম্পতি মরিয়া হয়ে লড়ে যাচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে হঠাৎ তাফিদার কান্নায় ঘুম ভাঙে রাকিব–সেলিনা দম্পতির। মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছিল তার। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়ে তাফিদা। দ্রুত নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু চেতনা আর ফেরেনি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, মস্তিষ্কে একটি ধমনি ও সরু রক্তনালির অস্বাভাবিক সংযোগের কারণেই তাফিদার মস্তিষ্ক আর কাজ করছে না। কয়েকটি হাসপাতাল পরিবর্তনের পর তাকে ভর্তি করা হয় রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাফিদার জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, কৃত্রিম উপায়ে আর বাঁচিয়ে না রেখে তাফিদার জীবনাবসান ঘটাবেন তাঁরা।

>

হাসপাতাল চায় জীবনাবসান ঘটাতে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা–বাবা চান চিকিৎসার জন্য ইতালি নিতে

তবে চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্তে রাজি হননি তাফিদার বাবা-মা। রাকিব–সেলিনা দম্পতি সন্তানকে বাঁচাতে যথাযথ চিকিৎসার খোঁজ শুরু করেন। ইতালির জেনোয়ার গ্যাসলিনি চিলড্রেন হসপিটাল তাফিদাকে চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। মেয়েকে সেখানে নিতে চান তাঁরা। কিন্তু রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতে বাদ সাধে। তাফিদার জীবনাবসানের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর বিপরীতে তাফিদাকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেন তাফিদার বাবা-মা। গত সোমবার এ বিষয়ে লন্ডনের হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। আজ শুনানি শেষ হবে। এরপর রায় দেবেন আদালত।

রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী কেটি গোলোপ শুনানিতে বলেন, ইতালির চিকিৎসকেরাও একমত যে তাফিদার জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই। আর কৃত্রিম উপায়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়তে পারে। ইতালি নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হলে রোগীর মঙ্গলের বিষয়ে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার খর্ব হবে।

জবাবে তাফিদার মা–বাবার পক্ষের আইনজীবী ডেভিড লক বলেন, তাফিদাকে ইতালিতে নিতে না দেওয়া হবে ভয়ানক নজির। যেকোনো দেশে নেওয়ার এবং চিকিৎসা করানোর অধিকার তাফিদার পরিবারের রয়েছে। ইতালির চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এভাবে কৃত্রিম উপায়ে তাফিদাকে আরও ১০ থেকে ২০ বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন