বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কৃষক আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিচিতিসম্পন্ন বিশিষ্ট মানুষজনের সমর্থন করাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার ভারতের নাগরিক মহল দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। সেলিব্রিটি মহল থেকে পক্ষে–বিপক্ষে গাদা গাদা টুইট শুরু হয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও তাতে যোগ দেন। শুরু হয় বিদেশিদের সমালোচনা। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযথা হস্তক্ষেপ’ না করার পরামর্শ দিয়ে টুইট–যুদ্ধে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। ব্যক্তিবিশেষের টুইটের সমালোচনা করে নজিরবিহীনভাবে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। স্পষ্টতই, কৃষকদের আন্দোলন সরকার ও শাসক দলকে বিব্রত ও বিড়ম্বিত করে তুলেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোভাব জানিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রশ্নের জবাবে বলেছে, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের নিদর্শন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এই একই কথা বলেছেন।’ সব দলের একযোগে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানো উচিত জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারতীয় বাজারের কার্যকারিতা বাড়বে এবং আরও বেশি বেসরকারি লগ্নি আসবে, এমন পদক্ষেপ সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সমর্থন করে।’ বিবৃতিতে এ কথাও বলা হয়, ‘গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের অধিকার জরুরি। এর মৌলিক শর্ত হলো ইন্টারনেটসহ সব ধরনের তথ্য পাওয়ার অধিকার।’ দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকেও এই একই মন্তব্য জারি করা হয়।

দূতাবাসের মুখপাত্র ওই বিবৃতিতে একটি বাড়তি বাক্যে বলেন, ‘ব্যক্তিগত নাগরিকেরা তাঁদের অভিমত জানাচ্ছেন। তাঁদের মতামত নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’
দেশজোড়া সমালোচনা সত্ত্বেও দিল্লির সীমান্তগুলোয় অবস্থানরত কৃষকদের ঘিরে ফেলার কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশ বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দেয়নি। বরং কোথাও কোথাও ছোট ছোট রাস্তাগুলোয় ব্যারিকেড তৈরি করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ১৫ জন বিরোধী সাংসদ গাজীপুর সীমান্তে কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। সাংসদদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সৌগত রায়, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, অকালি দলের হরসিমরত কৌর। তাঁরা বলেন, কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে সংসদে এখনো আলোচনার অনুমতি মেলেনি। তাঁরা এসেছেন কৃষকদের দুর্দশা চাক্ষুষ করতে, যাতে সংসদ মারফত গোটা দেশকে জানানো যায়।

সংসদের উভয় কক্ষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিরোধীরা সেই সুযোগে কৃষক আন্দোলন নিয়ে সরকারের ‘উদাসীনতার’ প্রসঙ্গ তুলছেন। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ওব্রায়ান পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখন স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অথচ কেউ একজন বলেছিলেন, আব কি বার, ট্রাম্প সরকার!’

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন