বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুতরাং, জলবায়ু সম্মেলনের (কপ ২৬) মতো আয়োজন ঘিরে শূন্য নির্গমনে পৌঁছাতে করণীয় বিষয়ে লোকজন যা ভাবছে, তা-ই দিয়ে আমি এর অগ্রগতি পরিমাপ করি। তারা কি মনে করে যে আমাদের শূন্য নির্গমনে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম রয়েছে? কিংবা এই সমস্যার জটিলতার কি একটি সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি আছে? অথবা আমাদের কি নতুন, সাশ্রয়ী মূল্যের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি দরকার, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষকে জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও খারাপ পর্যায়ে না নিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করে?

ছয় বছর আগে, উদ্ভাবনের চেয়ে আমাদের কী কী প্রয়োজন, সেই পক্ষের লোকজন বেশি ছিল। এ বছর যদিও উদ্ভাবন আক্ষরিকভাবেই মঞ্চের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। ওয়ার্ল্ড লিডারস সামিটের একটি অধিবেশনে আমি কথা বলতে পেরেছিলাম। এই অধিবেশনে একচেটিয়াভাবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও স্থাপনের বিষয় আলোচিত হয়েছিল।

আমি ‘নেট জিরো ওয়ার্ল্ড ইনিশিয়েটিভ’ চালু করতেও সাহায্য করেছি। এটি অন্য দেশগুলোকে তহবিল প্রদানের মাধ্যমে শূন্য কার্বনে পৌঁছাতে সাহায্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একটি অঙ্গীকার। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বমানের মার্কিন জাতীয় গবেষণাগারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিসহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ার বিষয়টি। এই দেশগুলো সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনাসহ নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করাসহ আরও অনেক বিষয়ে সহায়তা পাবে।

দ্বিতীয় বড় পরিবর্তন হলো, এখন সরকার ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাত কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এই রূপান্তরের অংশ হতে হবে, এমন শিপিং, খনি, আর্থিক পরিষেবাসহ বিভিন্ন শিল্পের নেতাদের সঙ্গে আমি গ্লাসগোতে সাক্ষাৎ করেছি, যাঁদের কার্বনমুক্ত ও উদ্ভাবনকে সমর্থন করার বাস্তব পরিকল্পনা ছিল। আমি আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সত্যিই এই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে দেখেছি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কয়েক বছর আগেও এ বিষয়ে এমন আগ্রহ দেখাতেন না। (এই বিষয়টি আমার মধ্যে এমন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে যে আমরা যদি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সম্মেলনগুলোতে ঠিক একই ধরনের উপস্থিতি ও উত্তেজনা দেখতে পেতাম!)।

সিটি, আইকেইএ ফাউন্ডেশন ও স্টেট ফার্ম—এই নতুন তিন অংশীদারের সঙ্গে ব্রেকথ্রু এনার্জি ক্যাটালিস্টের সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি ঘোষণা দিয়েছি। ব্রেকথ্রু এনার্জি ক্যাটালিস্ট হলো সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল জলবায়ু প্রযুক্তিগুলো দ্রুত হাতে পাওয়ার একটি প্রকল্প। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ক্যাটালিস্ট যে কতটা গতিশক্তি সঞ্চার করেছে, তা আশ্চর্যের বিষয়।

ফার্স্ট মুভার্স কোয়ালিশনের প্রাথমিক বাস্তবায়ন অংশীদার হবে ব্রেকথ্রু এনার্জি—মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর জলবায়ুবিষয়ক দূত জন কেরির সঙ্গে আমি এই ঘোষণা দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। এটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি নতুন উদ্যোগ। বিশেষত উড়োজাহাজ চলাচল, কংক্রিট, ইস্পাত উৎপাদন, শিপিংসহ আরও যেসব খাতে নির্গমন নির্মূল কঠিন হবে, এই উদ্যোগ সেসব ক্ষেত্রে উদীয়মান জলবায়ু সমাধানের চাহিদা বাড়াবে।

তৃতীয় যে পরিবর্তনটি আমি দেখছি, তা হলো জলবায়ু অভিযোজনের জন্য অধিকতর দৃশ্যমান পদক্ষেপ। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সবচেয়ে খারাপ ট্র্যাজেডি হলো, এটি তাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে, যারা তা সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে কম দায়ী। উষ্ণতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের উন্নতিতে যদি আমরা সাহায্য না করি, তাহলে বিশ্ব চরম দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে যাবে।

তাই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও অন্য নেতারা যে বারবার অভিযোজনের গুরুত্বের কথা উত্থাপন করছেন, এটা খুব ভালো লাগল। আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিকালচার ইনোভেশন মিশন ফর ক্লাইমেট’ শীর্ষক প্রকল্প চালুর আয়োজনে যোগদান করেছি। এতে বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষদের খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার উপায়—যেমন নতুন জাতের ফসল, যা খরা ও বন্যা সহ্য করতে পারে—বিশ্বের এমন কিছু উদ্ভাবনী জ্ঞানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অন্যান্য ৩০টির বেশি দেশের পাশাপাশি কয়েক ডজন কোম্পানি ও অলাভজনক সংস্থা (গেটস ফাউন্ডেশনসহ) ইতিমধ্যে এটিকে সমর্থন করছে।

এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমি দাতাদের একটি জোটে যোগ দিয়েছিলাম। যে জোট সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য আধুনিক জলবায়ু-স্মার্ট উদ্ভাবনগুলোকে এগিয়ে নিতে সিজিআইএআরের কাজের সমর্থনে ৫০ কোটি ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কিছু মানুষ এমন সব সমস্যার দিকে তাকায়, যেগুলোর এখনো সমাধান দরকার এবং তারা গ্লাসকে অর্ধেক খালি হিসেবে দেখে। আমি এই দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ নই। এ বিষয়ে আমি বলব, গ্লাসটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত পূর্ণ হচ্ছে। আমরা যদি এই ধারা বজায় রাখি, বিশ্ব যদি এমন উদ্ভাবনের জন্য আরও বেশি সচেষ্ট হয়, যা কার্বন শূন্যে পৌঁছানোর খরচ কমায়, দরিদ্রতম মানুষকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে, তাহলে আমরা জলবায়ু বিপর্যয় এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই শীর্ষ সম্মেলনের দিকে ফিরে তাকাতে সক্ষম হব।

জলবায়ু সম্মেলন থেকে বিশ্বের প্রতি আমার বার্তা

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আপনাদের হ্যালো বলছি। আমি এখানে এসেছি কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে এবং এখানকার কয়েকটি দিন ঘূর্ণাবর্তের মধ্য দিয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ আমি যেমনটা লিখেছিলাম, এখানে জলবায়ু সম্মেলনে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (ক্লিন টেকনোলজি) উদ্ভাবনে বিশ্বের গুরুত্বারোপের বিষয়টি নিশ্চিত করা। যদি আমরা জলবায়ু দুর্যোগের সবচেয়ে খারাপ দিকটি এড়াতে চাই, তবে জিরো-কার্বন বিকল্প তৈরিই যথেষ্ট নয়, এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে বিশ্বব্যাপী সবাই তা সাশ্রয়ী মূল্যে ও সহজে পাবে।

চলতি সপ্তাহের বড় সময়টা আমি জলবায়ু অভিযোজন নিয়ে কথাবার্তা বলেও পার করতে যাচ্ছি। এটা চূড়ান্তভাবে অন্যায্য যে জলবায়ু পরিবর্তনে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে কম, সেই গরিব মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রধানত দায়ী ধনী ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে এবং অভিযোজনের জন্য আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

দিনের শুরুতে, কপ ২৬ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে (ওয়ার্ল্ড লিডারস সামিট) কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। এই পর্বের পুরোটাই ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (ক্লিন এনার্জি) উদ্ভাবনে গতি বাড়ানো ও এর বিস্তার ঘটানো নিয়ে। আমি সম্মানিত যে বিভিন্ন দেশের নেতা, বেসামরিক প্রতিনিধি ও মানবতাবাদীদের সঙ্গে আমি এক মঞ্চে ছিলাম। আমার দেওয়া বক্তব্যের পুরোটা নিচে দেওয়া হলো—

২ নভেম্বর ২০২১

কপ ২৬ ওয়ার্ল্ড লিডারস সামিট

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে উঠতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। ছয় বছর আগে প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে প্রযুক্তির উদ্ভাবনে দেওয়া ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির ঘোষণায় আমিও আপনাদের অনেকের সঙ্গে ছিলাম। আজ আমি এ কথা বলতে শিহরণ বোধ করছি যে সেই উদ্যোগ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।

গবেষণা ও উন্নয়ন বৃদ্ধিতে ২২টি দেশের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে আমি ব্রেকথ্রু এনার্জি ভেঞ্চার (পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে গঠিত জোট) শুরু করি। এই ভেঞ্চার ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল জোগাড় করেছে এবং ৪ মহাদেশের ১১ দেশের ৮০টির বেশি কোম্পানিতে তা বিনিয়োগ করেছে।

এই অগ্রগতি অবিশ্বাস্য রকমের উত্তেজনাকর। এটা আমাকে ব্রেকথ্রু এনার্জির কর্মকাণ্ডকে বিস্তৃত করতে, বিশেষ করে প্রযুক্তি বিস্তারে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

যদি আমরা উদ্ভাবনের গতি বাড়িয়ে শূন্য কার্বন নিঃসরণে পৌঁছাতে চাই, তবে যা কার্বন নিঃসরণ করে এবং যা করে না, এই দুইয়ের মধ্যে খরচ কমাতে হবে—যে পার্থক্যকে আমি বলছি ‘গ্রিন প্রিমিয়াম’। এই রূপান্তরের খরচ অবশ্যই অনেক কম হতে হবে, যাতে পুরো বিশ্ব একে ব্যবহার করতে সমর্থ হয়।

বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দিতে ব্রেকথ্রু এনার্জি সম্প্রতি ক্যাটালিস্ট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। গ্রিন প্রিমিয়াম কমানোসহ জটিল জলবায়ু প্রকল্পের বাজার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় প্রকল্প তৈরিতে ক্যাটালিস্ট সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে।

অন্য সহযোগীদের সঙ্গে ক্যাটালিস্ট চারটি কাজ করবে: এক. উদ্ভাবনের গতি বাড়াতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে কাজে লাগাবে। দুই. ব্যবসায়িক দক্ষতাকে সরকারি পুঁজির সঙ্গে যুক্ত করবে। তিন. ন্যূনতম প্রতিদানের আশায় মানবতাবাদীদের অনুদান ও মতাদর্শকে কাজে লাগাবে। চার. প্রকল্পগুলোর গ্রাহক থাকবে, এমন নিশ্চয়তাদানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভরসা জোগাবে।

default-image

আমাদের বেসামরিক খাতের সহযোগীরা দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা আশা করছি এটা উদ্দেশ্য পূরণে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পগুলোর চারটি ক্ষেত্রের জন্য সহায়ক হবে এই অর্থায়ন এবং আমরা এরই মধ্যে এটা শুরু করেছি। আমরা ব্যক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিন বিলিয়ন ডলার তহবিল জোগাড়ের আশা করছি।

এমনকি যদি ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব নেট-জিরোতে পৌঁছেও যায়, আমাদের কাজ শেষ হবে না। জনগণ এরই মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির প্রভাব বিশেষভাবে পড়বে বিশ্বের সবচেয়ে গরিব মানুষদের ওপর।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকদের যদি আমরা সাহায্য করতে না পারি, তবে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা হেরে যাব—যে কারণে অ্যাগ্রিকালচার ইনোভেশন মিশন ফর ক্লাইমেটের সহযোগী হতে পেরে গেটস ফাউন্ডেশন গর্বিত। এই নতুন জোটটি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং এর সদস্য এখন ৩০টির বেশি দেশ।

অ্যাগ্রিকালচার ইনোভেশন মিশন ফর ক্লাইমেটের অংশ হিসেবে আমি আজ ঘোষণা করছি যে ফাউন্ডেশন আগামী তিন বছরে সিজিআইএআর নামের একটি চমৎকার সংস্থার জন্য অতিরিক্ত ৩১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার দেবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষুদ্র কৃষকদের সাহায্য করতে জলবায়ু সহনশীল কৃষিবিষয়ক গবেষণাকে সমর্থন করছে সিজিআইএআর।

আমরা আজ এখানে যারা সমবেত হয়েছি, সবার দায়িত্ব ও সুযোগ রয়েছে বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ার। একসঙ্গে আমরা অবশ্যই একটি সবুজ শিল্পবিপ্লব ঘটাব, যা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাবে, ক্ষতির মুখে পড়া মানুষদের সুরক্ষা দেবে এবং বিশ্বকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেবে।

সংক্ষেপিত অনুবাদ সাইফুল সামিনহাসান ইমাম

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন