প্যানআমেরিকান টেলিভিশনের প্যানোরামা অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীর লেখা ১২১ পৃষ্ঠার থিসিসের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইনভিত্তিক চৌর্যবৃত্তি শনাক্তকরণ সার্ভিস টারনিটিনের সাহায্য নেয়। এরপরই জানা যায়, পেরুর ওই প্রভাবশালী দম্পতি অন্য লেখকের লেখা থেকে ৫৪ শতাংশ চুরি করে নিজেদের থিসিসে ব্যবহার করেছেন।

টিভি চ্যানেলটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যে তিনজন পেশাদার ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীর থিসিসের বৈধতা দিয়েছেন, তাঁদের দুজনের নামই পেরুর ন্যাশনাল আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রিতে নেই।

প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলিও ও তাঁর স্ত্রী লিলিয়া পারেদেস দুজনেই পেশায় স্কুলশিক্ষক। চুরির অভিযোগ ওঠা থিসিসটি ব্যবহার করেই দুজন এক দশকের বেশি আগে সি সার ভালেজো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাবিষয়ক মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি নেন।
পেরুর ছোট প্রদেশের তাকাবাম্বার এক কৌঁসুলি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছেন। এ ছাড়া সি সার ভালেজো বিশ্ববিদ্যালয়ও তদন্তের জন্য কমিশন নিয়োগ দিয়েছে।

তবে ব্যাপকভাবে আলোচনা হলেও চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাস্তিলিও। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকারকে ‘অস্থিতিশীল কারার পরিকল্পনা’র অংশ এটি।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘থিসিসটি মানসম্মত শিক্ষাবিদদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষা নিয়ে তাঁর কাজের জন্য একজন উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া একজন বিচারকের সস্মতিতেই তিনি ডিগ্রি লাভ করেন।
গুরুতর চুরির ঘটনা প্রমাণিত হলে আট বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া মিথ্যাচারের জন্য হতে পারে চার বছরের কারাদণ্ড।

চুরির ঘটনা পেরুতে নতুন কিছু নয়। কাস্তিলিওর দুজন মন্ত্রীও একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।

দারিদ্র্য পীড়িত আনডিন জেলার গ্রামের স্কুলশিক্ষক কাস্তিলিও গত বছরের জুলাইতে পেরুর ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর থেকে গত ১০ মাসে টালমাটাল সময় পার করছেন তিনি। দুবার অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকেও বেঁচে গেছেন তিনি।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন