বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩ জানুয়ারি সারাহর ১৩ বছরের ছেলের বাড়িতেই করোনা শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দিহান ছিলেন তিনি। তাই সন্তানকে নিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ছুটে যান পাশের একটি স্টেডিয়ামে স্থাপন করা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। উদ্দেশ্য ছিল, আরও একবার করোনার পরীক্ষা করানো। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

এ পর্যন্ত ঘটনার সবই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু স্টেডিয়ামের পার্কিংয়ে থাকা সারাহর গাড়ির বুট থেকে আওয়াজ আসছিল। এই আওয়াজ শুনে সেখানে থাকা একজন পুলিশ ডাকেন। পুলিশ এসে সারাহকে গাড়ির বুট খুলতে বলেন। এরপর সবার চোখ কপালে ওঠে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসে সারাহর কিশোর ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ওই নারী বলেন, ‘ছেলের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আমি চাইনি ওর থেকে আমার শরীরেও করোনার সংক্রমণ ছড়াক। তাই ছেলেকে গাড়ির বুটে করে পরীক্ষা করাতে নিয়ে এসেছি।’ এ সময় সারাহকে ওই কাজের জন্য অনুতপ্ত হতে দেখা যায়নি।

পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা সারাহকে বলেন, ছেলেকে গাড়ির পেছনের আসনে বসার অনুমতি না দিলে তাঁরা করোনার পরীক্ষা করাবেন না। অগত্যা রাজি হন সারাহ। গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে তাঁর সন্তানের আবারও পরীক্ষা করানো হয়। এবারও পজিটিভ ফল আসে।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশি–বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হলে স্কুলশিক্ষক সারাহর সমালোচনা করেন অনেকে। তাঁদের মতে, এতে তাঁর সন্তানের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারত। এমনকি দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ির বুটে থাকা ওই কিশোর গুরুতর আহত হতো। তার প্রাণ ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

টেক্সাস পুলিশের মত অনেকটা একই। তাই শেষ রক্ষা হয়নি সারাহর। ১৩ বছরের সন্তানকে গাড়ির বুটে আটকে রাখা ও সেই অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে তাঁকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় সারাহর বিরুদ্ধে সন্তানের প্রতি অবহেলামূলক আচরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে সারাহকে স্কুল থেকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় টেক্সাস পুলিশের সার্জেন্ট রিচার্ড স্টেনডিফার বলেন, ‘আমি এমন ঘটনা আগে কখনোই শুনিনি। একজন মা করোনায় আক্রান্ত হওয়া ভয়ে নিজের সন্তানকে গাড়ির বুটে করে এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে এসেছেন, এটা আসলেই বিচিত্র। কপাল ভালো ওই কিশোরের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।’

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন