বিজ্ঞাপন

গবেষণার প্রধান লেখক ও আলতো ইউনিভার্সিটির বৈশ্বিক খাদ্য ও পানিবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক মাত্তি কুম্মু বলেছেন, ‘জলবায়ু সংকটে বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়বে। জলবায়ু নিরাপদ অঞ্চল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়ে আসার আভাস আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের। কিন্তু আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনতে পারি আমরা। এ ছাড়া ঝুঁকির প্রভাব কমাতে এবং সহনশীলতা ও অভিযোজনের সক্ষমতা বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন ও সমাজকে শক্তিশালী করা উচিত।’

মাত্তি কুম্মু বলেছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে পশুপালনের পাশাপাশি খাদ্যশস্য উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অনেক এলাকায় ব্যাপক আকারে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যগুলোর মধ্যে ২৭টি এবং সাত ধরনের গবাদিপশুর ওপর প্রভাব হবে মারাত্মক।

অপর দিকে কিছুটা আশার খবরও দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলেছেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ যদি কমানো যায় এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যায়, তাহলে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলগুলোর মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যত কমানো যাবে, ততই মঙ্গল হবে মানবজাতির জন্য।

কুম্মু আরও বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরও কিছু অঞ্চলে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়বে, যেখানে বর্তমানে খুব কম উৎপাদন হয়। এসব অঞ্চলের মধ্যে শীতপ্রধান অঞ্চল নর্ডিক রয়েছে। এ ছাড়া চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ উচ্চমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের কারণে দেখা দেবে তীব্র খরা। এতে বিশ্বজুড়ে ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি জায়গা মরুভূমিতে পরিণত হবে।

গবেষকেরা আভাস দিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যদি দেড় থেকে ২ সেলসিয়াসের নিচে রাখা সম্ভব হয়, তারপরও তুষার অঞ্চলের বনের পরিমাণ কমবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে আমেরিকার উত্তরাঞ্চল, রাশিয়া ও ইউরোপের তুষারঘেরা ৭০ লাখ বর্গমাইল বন চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ কমে দাঁড়াতে পারে ৬০ লাখ বর্গমাইলে। আর উচ্চমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ ঘটলে সেই বনের মাত্র ৩০ লাখ বর্গমাইল অবশিষ্ট থাকবে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন