নিজ দেশে চীনা অ্যাপ টিকটক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় এই অ্যাপ বন্ধ করতে শিগগিরই নির্বাহী আদেশ জারি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘টিকটক আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা এটা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।’ এর আগে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেন, এই অ্যাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে চীন।

টিকটক কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এমন আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে আসছে। তারা বলছে, এই অ্যাপ চীন সরকারের নিয়ন্ত্রিত নয় এবং তারা চীন সরকারের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে না।

টিকটক বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর এ বিষয়ে টিকটকের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে টিকটকের একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের সাফল্যের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের প্রতি মাসে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা আট কোটি। ট্রাম্পের এই ঘোষণা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তিক্ততা আরেক ধাপ এগিয়ে নিল। সাম্প্রতিক শীতল সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয়।

টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের প্রধান কার্যালয় বেইজিংয়ে এবং এটি চীনে জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনাও বেড়েছে। টিকটকের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির কয়েকজন সিনেটর এর বিরুদ্ধে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভারত গত ৩০ জুন টিকটক, উইচ্যাটসহ চীনা ৫৯টি অ্যাপ ভারতে বন্ধ করে দেয়। নয়াদিল্লি এসব অ্যাপকে দেশের জন্য বিপজ্জনক অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ১৫ জুন লাদাখে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হওয়ার পর দিল্লি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0