default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখনো পরাজয় মেনে নেননি সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপরন্তু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় উসকানি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন রিপাবলিকান নেতারা। কিন্তু ট্রাম্প তাঁর অবস্থান থেকে সরেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন দলটির নেতারা। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ব্যাপারে কথা বলেছেন তাঁরা। খবর রয়টার্সের।

গত শুক্রবার জুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১২০ জনের বেশি রিপাবলিকান এই বৈঠকে অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায়ের এই আলোচনায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ, জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং ট্রাম্প প্রশাসনে কাজ করা এবং নির্বাচিত সাবেক রিপাবলিকান নেতারাও রয়েছেন। এ ছাড়া রিপাবলিকান আমলের রাষ্ট্রদূত, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যরাও রয়েছেন। এই আলোচনার সঙ্গে জড়িত চারজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যে রিপাবলিকান নেতারা মধ্য ডানপন্থী দল গঠনের ব্যাপারে কথা বলেছেন, তাঁরা কেউ ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন না। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করতে ট্রাম্প যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সঙ্গেও একমত নন তাঁরা। সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হবে। সংবিধান ও আইনের শাসন ট্রাম্পের শাসনামলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আলোচনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন নির্বাচনে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ডানপন্থী প্রার্থীকে সমর্থন করবে এই প্ল্যাটফর্ম। রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র কিংবা ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীর ক্ষেত্রে এমন সমর্থন ব্যক্ত করতে পারে প্ল্যাটফর্মটি।

বিজ্ঞাপন
default-image

এই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ইভান ম্যাকমলিন। তিনি হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্সের পলিসি ডিরেক্টরও ছিলেন। তিনি এই জুম মিটিংয়ের সহ-আয়োজক ছিলেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের যে নিয়ন্ত্রণ, তাতে উদ্বিগ্ন সাবেক নেতারা।

এ ছাড়া বৈঠকে ট্রাম্পের আমলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের জেনারেল কাউন্সেল জন মিটনিক, রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান চার্লি ডেন্ট, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এলিজাবেথ নিউমান, এই দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা মাইলস টেলর অংশ নেন।

ক্যাপিটল ভবনে হামলা এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানরা বিভক্ত। এমনকি ট্রাম্পের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেও দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন রিপাবলিকানরা। ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ৮ সিনেটর এবং প্রতিনিধি পরিষদের ১৩৯ সদস্য বাইডেনের জয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। একদল এখনো ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন। আরেক দল নতুন পথ খুঁজছেন।

শুক্রবারের বৈঠকে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলা এবং নির্বাচনে কারচুপি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এসব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। এ প্রসঙ্গে ইভান ম্যাকমলিন বলেন, দলের একটি বড় অংশ উগ্রবাদী হয়ে উঠছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি দিচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের মুখপাত্র জ্যাসন মিলার বলেন, এই ‘হতভাগারা’ তখনই রিপাবলিকান পার্টি ত্যাগ করেছেন, যখন তাঁরা জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন