default-image

কবুতরটির নাম ‘জো’। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নামে এর নামকরণ করেছিলেন পাখিটির মালিক। তবে গত অক্টোবরে হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে কবুতরটি নিখোঁজ হয়। প্রায় তিন মাস পর একে পাওয়া গেছে ১৪ হাজার কিলোমিটারের (প্রায় ৯ হাজার মাইল) বেশি দূরে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। রসিকতা করে কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হয়েই কবুতরটি এত দূর পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, কবুতরটি মেলবোর্নের বাসিন্দা কেভিন চেলি–বার্ডের বাড়ির আঙিনায় এসে বসেছিল। এর পায়ে একটি ব্যান্ড রয়েছে, যা থেকে কবুতরটির পরিচয় জানা গেছে।

মেলবোর্নভিত্তিক সংবাদপত্র হেরাল্ড সানকে কেভিন চেলি–বার্ড বলেন, কবুতরটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় বসবাস করেন। রসিকতা করে কেভিন চেলি–বার্ড বলেন, কবুতরটি সম্ভবত ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হয়ে এত দূর চলে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে কবুতরটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে বিশাল সমুদ্র কীভাবে পাড়ি দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। এ ব্যাপারে কেভিন চেলি–বার্ডের মন্তব্য হলো, কবুতরটির সম্ভবত মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সে সমুদ্রের দিকে উড়াল দিয়েছিল। এরপর হয়তো কোনো নৌকা বা জাহাজে গিয়ে বসেছিল। সেই নৌযানই তাকে ১৪ হাজার ৪৮০ কিলোমিটার দূরে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে নিয়ে এসেছে।

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জো নামের কবুতরটির যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার খবরে নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। রীতিমতো পলাতক আসামির মতো খোঁজা হচ্ছে পাখিটিকে। কারণ, এটি অস্ট্রেলিয়ার কড়া কোয়ারেন্টিন নিয়ম ভেঙেছে।

দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কবুতরটিকে আমদানির জন্য আইনিভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। কাজেই এর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কারও জানা নেই। শুধু তা–ই নয়, মেলবোর্ন পৌঁছানোর পথে যেসব প্রাণী বা পাখির সংস্পর্শে এসেছে এটি, তাদেরও স্বাস্থ্যের অবস্থা অজানা। কাজেই পাখিটি অস্ট্রেলিয়ার পাখি ও হাঁস–মুরগিশিল্পের জন্য প্রত্যক্ষ জৈবনিরাপত্তা ঝুঁকি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, কবুতরটি যদি কোয়ারেন্টিনের শর্ত না মেনেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে থাকে, তাহলে একে হত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

অনেকেই বলছেন, জো নামের কবুতরটি ধরা পড়লে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমই। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ হলিউড তারকা জনি ডেপ ও তাঁর তৎকালীন স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের কুকুরগুলোকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। কারণ, ওই কুকুরগুলোর অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পক্ষে অভিবাসন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তাঁরা। এরপর দ্রুততার সঙ্গে কুকুরগুলোকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বের করে নিয়ে যান জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড।

তবে জোয়ের ক্ষেত্রে কী ঘটবে, এখনো অজানা। কারণ, এর মালিক এখনো অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এদিকে জোকেও ধরতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন