default-image

চিড়িয়াখানায় পাখির খাঁচায় রাখা ছিল পাঁচটি তোতা। দর্শনার্থীদের সামনে পেলেই সেগুলো শুরু করে দিত বেদম গালিগালাজ। কোনো কিছুতেই থামানো যায় না তাদের।

বাধ্য হয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে সরিয়েই নিল পাখিগুলো।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে গত আগস্ট মাসে আফ্রিকান গ্রে প্যারট জাতের পাঁচটি তোতা পাখি নিয়ে আসা হয়। একসঙ্গে কিছুদিন কোয়ারেন্টিনে রাখার পর তোতা পাখিগুলো প্রদর্শনের জন্য রাখা হয় পাখিদের নির্দিষ্ট খাঁচায়। কিন্তু দর্শনার্থীদের সামনেই এই তোতা পাখিগুলো নানা ধরনের কটু বাক্য বলতে শুরু করে। এর মধ্যে ছিল অশ্রাব্য গালিগালাজও। ফলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পড়ে যায় বিপদে। কারণ, চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে সঙ্গে শিশু-কিশোররাও আসে। পাখির মুখ থেকে গালি শোনাটা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, এই সমস্যার সমাধান করতে শেষে পাঁচটি তোতা পাখিই আলাদা করে ফেলা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ভাবছে, কিছুদিন অন্য পাখিদের থেকে আলাদা রাখলে তোতা পাখিগুলোর স্বভাবে উন্নতি আসতে পারে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, তোতা পাখিগুলো নতুন শব্দ শেখার পর হয়তো কটু শব্দ বলা বন্ধ করতে পারে।

পার্কের প্রধান নির্বাহী স্টিভ নিকোলাস জানান, শুরুতে ভাবা হয়েছিল অন্য পাখিদের সঙ্গে একই খাঁচায় রাখা হলে তোতাগুলো হয়তো গালি দেওয়ার স্বভাব বদলে ফেলবে। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো।

বিজ্ঞাপন

স্টিভ নিকোলাস বলেন, কিছু দর্শনার্থী একে মজা হিসেবে নেন। তোতার মুখে কটু কথা শুনে তাঁদের কেউ হেসেছেন, কেউ চমকে গেছেন। আর এসব প্রতিক্রিয়ায় আরও মজা পেয়ে গিয়েছিল পাখিগুলো। উৎসাহিত হয়ে আরও বেশি করে গালি দেওয়া শুরু করে তোতাগুলো।

সিএনএন ট্রাভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেহেতু অনেক শিশু মা–বাবার সঙ্গে সেখানে বেড়াতে যায়, তাই তাদের কথা ভেবেই পাখিগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে তোতাগুলো সরিয়ে ফেলার পরও একটু দুশ্চিন্তায় আছে তারা। আশঙ্কা হলো, এই পাঁচ তোতা যদি বাকি ২৫০টি পাখিকেও গালি দেওয়া শিখিয়ে ফেলে, তাহলে কী হবে? কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, তেমনটা হলে পাখিদের সামলানো সহজ হবে না।

মন্তব্য পড়ুন 0