default-image

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বহুগুণে বাড়াচ্ছে তাইওয়ান। একই সঙ্গে আরও তিনটি নতুন মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর কাজ হাতে নিয়েছে তাইওয়ানের সরকার। সেখানকার একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, অনেক দিনের মধ্যে এই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর তথ্য তাইওয়ানের সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের সঙ্গে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন তথ্য দিল তাইওয়ানের সরকার। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে আসছে এবং এর সার্বভৌমত্বের বিরোধিতা করছে। চীন বেশ কিছুদিন ধরেই তাইপেই সরকারকে এমন দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে।

এমন অবস্থায় তাইওয়ানের সরকার তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মূলত চীন কোনো আঘাত হানলে, প্রত্যাঘাত করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে তাইওয়ান। যদিও চীনের তুলনায় তাইওয়ানের সেনাবাহিনী আকারে বেজায় ছোট, শক্তিমত্তাও কম।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং সম্প্রতি পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন গতিশীল করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এগুলো হবে দূরপাল্লার ও নিখুঁত। যেকোনো জায়গা থেকে এগুলো ছোড়া যাবে।’ চিউ কুও-চেং আরও জানিয়েছেন, এ ধরনের অস্ত্র নিয়ে গবেষণা কখনোই বন্ধ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউউ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ক্ষেপণাস্ত্র–সংক্রান্ত গবেষণা করছে। এই ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক লেং চিন-সু বলেছেন, দূরপাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি নির্দিষ্ট মডেলের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আরও তিনটি মডেল নিয়ে কাজ চলছে। তবে উৎপাদন শুরু হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রটি কত দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম, সেটি তিনি জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

তাইওয়ানের গণমাধ্যমগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেসব খবরে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। তা পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর গোপনীয়তায় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন