default-image

সৌদি আরবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের এক দিন পরই দেশটির করোনা নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সৌদির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সৌদি থেকে ইসরায়েলের যাওয়া পর্যটকদের কোয়ারেন্টিন মানতে হবে না।

গত রোববার সৌদির আলোচিত শহর নিওম সিটিতে নেতানিয়াহু ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, সৌদি আরবকে নিরাপদ দেশের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে নেতানিয়াহুর সৌদি আরব সফরের কোনো যোগসূত্র নেই।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হেজি লেভি আজ মঙ্গলবার সরকারি গণমাধ্যম কেনকে বলেন, এটি সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। প্রতি দুই সপ্তাহে একবার এটি হয়। আগের তালিকায় সৌদি আরব ‘লাল’ তালিকায় ছিল। এখন সেখানে অসুস্থতার (করোনাভাইরাসে আক্রান্ত) হার কমে যাওয়ায় ‘গ্রিন’ তালিকায় চলে এসেছে। এর সঙ্গে কোনো দেশে কারও সফরের সম্পর্ক নেই।

তবে সৌদি আরব ওই গ্রিন তালিকায় যুক্ত হলেও নেতানিয়াহু ও তাঁর কর্মীরা ফেরার পর কৌশলগত কারণে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার কথা।

এএফপি বলছে, ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এমন সফর এর আগে হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কেনের কূটনৈতিক প্রতিবেদক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেন, গোপন এই সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইয়োশি কোহেনও ছিলেন। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

গতকাল সোমবার সৌদি সরকার প্রকাশ্যে জানায়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা দীর্ঘদিনের পুরোনো আরব লিগের অবস্থান অনুযায়ী ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়বে না।

সৌদি আরব ছাড়াও ইসরায়েলের ‘গ্রিন’ তালিকায় আরেকটি দেশ যুক্ত হয়েছে, সেটি হলো বাহরাইন। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েল স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ছে।

নেতানিয়াহু আজ বলেন, বাহরাইনের যুবরাজ সালমান বিন হামাদ আল খলিফার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি বাহরাইনে যেতে যুবরাজের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ‘খুব শিগগিরই তিনি বাহরাইনে রাষ্ট্রীয় সফরে’ যাবেন।

মন্তব্য করুন